ইদানিং একটানা যে কোন শব্দে খুব মাথা ঘুরতে থাকে জেবিনের।নানী যে বলত তোরা এত প্যাচাল পারিস কেন? আর মা যে বলত, তার শব্দ সহ্য হপ্যনা, কথা গুলোর মানে এখন এতদিনে সে বুঝতে পারছে। পাশের ঘরে টিভি চলছে। নানান পদের আওয়াজ ভেসে আসছে।টিভির শব্দ কমানো সম্ভব না, কারণ টিভি দেখছে তার শাশুড়ি। শাশুড়ি অবশ্য সবসময় টিভি দেখেনা, আর এখন গিয়ে সাউন্ড কমিয়ে দিলেও কিছুই বলবেনা।উনার বয়স আশি নব্বই কিছু হবে, আগের সেই ধাক নেই। তবে কথায় বিষ আছে। তীক্ষন একটা চাহনি দিয়ে বিষাক্ত কথার ছুরি চালানোর প্রাচীন গুণ ভদ্র মহিলার এখনো অটুট আছে। তবে জেবিনকে তিনি খুব ভাল পান। বা ভয় পান। জেবিন জানেনা। জেবিন যদি বলে, মা টিভির আওয়াজ টা একটু কমায় দেই? উনি সাথে সাথে আড়ষ্ট ভংিতে রাজি হয়ে যাবেন। কমাও কমাও।যেন এত শব্দে নিজেরই অসুবিধা হচ্ছিল। বিনয়ের কারণে যেন বলতে পারেন নাই।
এই সমস্ত অভিনয় জেবিন একদমই সহ্য করতে পারেনা। এবং সে এইসব অভিনয় করেওনা। যা মনে আসে, যেই আবেগে আসে, সেই গতিতেই সে প্রকাশ করে। কারো খারাপ লাগকে কিছু করার নাই, ভাবার নাই।
শাশুড়ি যেমন সাউন্ড কমানো হলে এমন কাচুমাচু ভংিতে বসে থাকবে যেন 'বউ ঠিকমত টিভিটাও দেখতে দেয়নাই" না হলে "এখন কিচ্ছুই শুনতে পাচ্ছিনা, কিন্তু কলহের ভয়ে কিছু বলবনা"
শাশুড়ি কিছু না বল্লেও এমন দুই মুখি আচরণ সহ্য হবেনা বলেই সে টিভির সাউন্ড কমাতে উঠছেনা।
সে সেলাই মেশিন চালাচ্ছে, সেটার শব্দোও কিছু কম নয়। পুরান্য মেসগিনের একটানা ঘ্যষ ঘ্যষ শব্দ। এতখন কানে লাগেনাই। এখন লাগছে। কিন্তু সেলাই শেষ হয়নি এখনো তাই উঠরে পারছেনা। শেশ যে এখনি করতে হবে তা অবশ্য নয়।
শব্দে মাথা ঘুরছে। কাল পরীক্ষার হলে বসে থেকেও মাথা ঘুরে উঠেছিল। পরশু বা আগের দিন, না গত সপ্তাহে কবে যেন.. ভাবতে ভাবতে আবার পট করে সুতা ছিড়ে গেল। তাড়াহুড়ার সেলাই গুলো এমন হয়। সুতা ছিড়তে থাকে। সোজা উলটা গুবলেট হয়ে যায়, ববিনের সুতা শেশ হয়ে যায়।
সুই তে সূতা ভরতে গিয়ে জেবিনের মবে হল আসলেই কি বয়স বাড়ছে, সুতা ভরতে সময় লাগছে।আর এত শব্দের মাঝে মন দিতে পারছেনা।
নানী ভাত খেতে বসে, মাঝে মাঝে খুব রেগে যেতেন।এমনিতে খেতে কষ্ট হত। ভাতে মরিচ ডলে লবণ দিয়ে পানি পানি করে বহু কষ্টে গিলতেন। রুচি ছিলনা। জেবিনরা চার ভাইবোন কথা বলতে থাকলে নানী হুংকার দিতেন, এত প্যাচাল পারিস কেন রে তরা।এত কথা ভালো লাগেনা।
নানীর রোগে পেয়েছে বুঝি? ভাবতে গিয়ে রুবেলের কথা মনে হল।সে বলত, নানীর যা হ্য়য়, মারও তাই হয়, আর মা-র একনিষ্ঠ ভক্ত হিসাবে অবধারিত ভাবে হবে জেবিনের। যেমন নানী মা কেঊ বড় ট্যাবমেট গিলতে পারেনা। জেবিন ট্যবলেট দুইভাগ করে খায় দেখে রুবেল খুব মজা পেয়েছে ভংি করে বলে, মা সাজিস,না?
সুতা ভরে জেবিন লক্ষ্য করে, কানে শব্দের বোঝাটা আর লাগছেনা। শাশুড়ি মা বোধহয় টিভি বন্ধ করে দিয়েছেন। আসলে এখন দেখার তেমন কিছু বোধহয় হয়ও না। অবশ্য জেবিন জানেনা। তার কিখনই টিভির নেশা ছিলনা। এমনকি বাসায় কোন চ্যানেল কততে সেটাও সে মনে রাখতে চায়না বা পারেনা। প্রতিবার শাশুড়িকে টিভি খুলে সিনেমা বের করে দিতে সে শূন্য থেকে চ্যানেল ঘোরাতে থাকে।
শাষুড়ি না, টিভি বন্ধ করেছে মিরাজ। মিরাজের হাতে রিমোট নিয়েই এ ঘরে ডুকেছে, আর বিরক্তিতে তার মুখ লাল হয়ে গেছে। শাসনের ভংিতে জেবিনের দিকে রিমোট তুলে সে হঠাত চিতকার করে বল্ল, কি শুরু করলা তুমি? এই কি সমুস্যা?? এখনো বসে আছ??
হঠাত চারদিক চুপ হয়ে যাওয়ায় আর বিনা নোটিশে মিরাজ চিৎকার শুরু করায় জেবিনের কানে শব্দ গুলো আরো তীক্ষন হয়ে আঘাত করে। চকিতে ওর ইলেক্ট্রিক সেলাই মেশিনের হাতের কাপড়ের টান আত পায়ের চাপের সূক্ষ নিয়ন্ত্রণ বিঘ্নিত হয় আর থকে গিয়ে আরেকটু হলে হাতে সুই ফোটার উপক্রম হয়।
পিছন থেকে শাশুড়ি র দীরঘ্নিশবাসের শব্দয শুনতে পায় জেবিন। তাহলে উনি অনেক খন থেকে এ ঘরে এসে খাটে শুয়ে ছিলেন। বা বিমরশ হয়ে হয়ত জেবিনের সেলাই করা দেখছিলেন। মিরাজের চিৎকার বা জেবিনের থমজে যাওতায় উনি বিচলিত হয়েছেন
সেলাই থামিয়ে জেবিন মুখ তুলে তাকায়। 'বল' বলতে গিয়েও কিছু বকেনা।
মায়ের দীরঘ নিষবাসে মিরাজ হয়ত অব্যক্ত সমরথন পেয়ে যায়। গলা একই রকম উচু রেখেই, রিম্যট ওলা হাট তাও উচুতে রেখেই বিরক্তি এবং রাগ একই ভাবে প্রকাশ করতে থাকে। যে সে সেই কঝন থেকে এইসব হাবিজাব্বি নিয়ে বসে আছে। বাচ্চারা হইচই করছে। পড়তে বসার নাম নেই। একবস্র সেলাই রাখতে বলে গেছে সে, তাও কেন সে থামেনি। বাচ্চাদের পড়ালেখার চেয়ে এইসব হাবিজাবিই বড় হল?
এই সমস্ত অভিনয় জেবিন একদমই সহ্য করতে পারেনা। এবং সে এইসব অভিনয় করেওনা। যা মনে আসে, যেই আবেগে আসে, সেই গতিতেই সে প্রকাশ করে। কারো খারাপ লাগকে কিছু করার নাই, ভাবার নাই।
শাশুড়ি যেমন সাউন্ড কমানো হলে এমন কাচুমাচু ভংিতে বসে থাকবে যেন 'বউ ঠিকমত টিভিটাও দেখতে দেয়নাই" না হলে "এখন কিচ্ছুই শুনতে পাচ্ছিনা, কিন্তু কলহের ভয়ে কিছু বলবনা"
শাশুড়ি কিছু না বল্লেও এমন দুই মুখি আচরণ সহ্য হবেনা বলেই সে টিভির সাউন্ড কমাতে উঠছেনা।
সে সেলাই মেশিন চালাচ্ছে, সেটার শব্দোও কিছু কম নয়। পুরান্য মেসগিনের একটানা ঘ্যষ ঘ্যষ শব্দ। এতখন কানে লাগেনাই। এখন লাগছে। কিন্তু সেলাই শেষ হয়নি এখনো তাই উঠরে পারছেনা। শেশ যে এখনি করতে হবে তা অবশ্য নয়।
শব্দে মাথা ঘুরছে। কাল পরীক্ষার হলে বসে থেকেও মাথা ঘুরে উঠেছিল। পরশু বা আগের দিন, না গত সপ্তাহে কবে যেন.. ভাবতে ভাবতে আবার পট করে সুতা ছিড়ে গেল। তাড়াহুড়ার সেলাই গুলো এমন হয়। সুতা ছিড়তে থাকে। সোজা উলটা গুবলেট হয়ে যায়, ববিনের সুতা শেশ হয়ে যায়।
সুই তে সূতা ভরতে গিয়ে জেবিনের মবে হল আসলেই কি বয়স বাড়ছে, সুতা ভরতে সময় লাগছে।আর এত শব্দের মাঝে মন দিতে পারছেনা।
নানী ভাত খেতে বসে, মাঝে মাঝে খুব রেগে যেতেন।এমনিতে খেতে কষ্ট হত। ভাতে মরিচ ডলে লবণ দিয়ে পানি পানি করে বহু কষ্টে গিলতেন। রুচি ছিলনা। জেবিনরা চার ভাইবোন কথা বলতে থাকলে নানী হুংকার দিতেন, এত প্যাচাল পারিস কেন রে তরা।এত কথা ভালো লাগেনা।
নানীর রোগে পেয়েছে বুঝি? ভাবতে গিয়ে রুবেলের কথা মনে হল।সে বলত, নানীর যা হ্য়য়, মারও তাই হয়, আর মা-র একনিষ্ঠ ভক্ত হিসাবে অবধারিত ভাবে হবে জেবিনের। যেমন নানী মা কেঊ বড় ট্যাবমেট গিলতে পারেনা। জেবিন ট্যবলেট দুইভাগ করে খায় দেখে রুবেল খুব মজা পেয়েছে ভংি করে বলে, মা সাজিস,না?
সুতা ভরে জেবিন লক্ষ্য করে, কানে শব্দের বোঝাটা আর লাগছেনা। শাশুড়ি মা বোধহয় টিভি বন্ধ করে দিয়েছেন। আসলে এখন দেখার তেমন কিছু বোধহয় হয়ও না। অবশ্য জেবিন জানেনা। তার কিখনই টিভির নেশা ছিলনা। এমনকি বাসায় কোন চ্যানেল কততে সেটাও সে মনে রাখতে চায়না বা পারেনা। প্রতিবার শাশুড়িকে টিভি খুলে সিনেমা বের করে দিতে সে শূন্য থেকে চ্যানেল ঘোরাতে থাকে।
শাষুড়ি না, টিভি বন্ধ করেছে মিরাজ। মিরাজের হাতে রিমোট নিয়েই এ ঘরে ডুকেছে, আর বিরক্তিতে তার মুখ লাল হয়ে গেছে। শাসনের ভংিতে জেবিনের দিকে রিমোট তুলে সে হঠাত চিতকার করে বল্ল, কি শুরু করলা তুমি? এই কি সমুস্যা?? এখনো বসে আছ??
হঠাত চারদিক চুপ হয়ে যাওয়ায় আর বিনা নোটিশে মিরাজ চিৎকার শুরু করায় জেবিনের কানে শব্দ গুলো আরো তীক্ষন হয়ে আঘাত করে। চকিতে ওর ইলেক্ট্রিক সেলাই মেশিনের হাতের কাপড়ের টান আত পায়ের চাপের সূক্ষ নিয়ন্ত্রণ বিঘ্নিত হয় আর থকে গিয়ে আরেকটু হলে হাতে সুই ফোটার উপক্রম হয়।
পিছন থেকে শাশুড়ি র দীরঘ্নিশবাসের শব্দয শুনতে পায় জেবিন। তাহলে উনি অনেক খন থেকে এ ঘরে এসে খাটে শুয়ে ছিলেন। বা বিমরশ হয়ে হয়ত জেবিনের সেলাই করা দেখছিলেন। মিরাজের চিৎকার বা জেবিনের থমজে যাওতায় উনি বিচলিত হয়েছেন
সেলাই থামিয়ে জেবিন মুখ তুলে তাকায়। 'বল' বলতে গিয়েও কিছু বকেনা।
মায়ের দীরঘ নিষবাসে মিরাজ হয়ত অব্যক্ত সমরথন পেয়ে যায়। গলা একই রকম উচু রেখেই, রিম্যট ওলা হাট তাও উচুতে রেখেই বিরক্তি এবং রাগ একই ভাবে প্রকাশ করতে থাকে। যে সে সেই কঝন থেকে এইসব হাবিজাব্বি নিয়ে বসে আছে। বাচ্চারা হইচই করছে। পড়তে বসার নাম নেই। একবস্র সেলাই রাখতে বলে গেছে সে, তাও কেন সে থামেনি। বাচ্চাদের পড়ালেখার চেয়ে এইসব হাবিজাবিই বড় হল?