বৃহস্পতিবার, ২ আগস্ট, ২০১৮

রি


রি

হাইওয়েতে গাড়ি চালাচ্ছিআমার ওয়াই এক্স শূন্য তিন মডেলের নতুন কালো  জিপ। আমার পিছনের সীটে বসে আছে আমার আট বছর বয়সী ছেলে রিশান। অবশ্য রিশান গাড়িতে আছে নাকি নেই বুঝার উপায় নেই। মাঝে মাঝে সে গাড়ির টেম্পারেচার কমিয়ে ১৬ করে ফেলছে আর কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছে। কখনো গান শুনছে, বা হাতের কমডিটি প্লেয়ারে খেলছে। কখনো ওর হিহি হাসি শুনে ব্যাকভিউ মিররে তাকিয়ে দেখি সে চোখে ভি আর সেট লাগিয়ে হাসির কোন সিনেমা দেখছে।
১৬ ঘন্টা ধরে ড্রাইভ করছি অথচ আমাদের দুজনের কথা হচ্ছে খুবই কম। ব্যাপারটা আমাকে সূক্ষ্মভাবে কষ্ট দিচ্ছে। মনে হচ্ছে আমি আমার মনের উচ্ছ্বাসটা রিশানকে ঠিক বুঝাতে পারছিনা। ঈদে মা-র কাছে যাচ্ছি, তাও দু বছর পর। আমার মনে খুশির বুদবুদ। কিন্তু রিশান তার জগতে ব্যস্ত আমি আমার জগতে। ওকে জড়িয়ে ধরে  দুজনে হাসতে হাস্তে গল্প করতে করতে আমার যেতে ইচ্ছা হচ্ছে। আমি গাড়ি চালাচ্ছি বলে সেটা অবশ্য সম্ভব না।
টোল কালেকশনের লাইনে কয়েক মিনিটের জন্য গাড়ি দাঁড়াবে। ভাবলাম, রিশানকে বলব সামনের সীটে এসে বসতে।

-রিশান?
-সি?

আমার ভুরু কুচকে গেল। সে ইদানিং আমাকে মা মম মিমি এগুলো না ডেকে সরাসরি নাম ধরে ডাকছে। কাজের সুবিধার জন্য মানুষের পুরো নাম এখন আর দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার হয়না। একটা সংক্ষেপিত ডাকনাম চলে। আমার নাম তাই সি। রিশানের বাবার নামও হয়েছে জি। বাচ্চাকাচ্চা বাবা মায়ের নাম ধরে ডাকবে আমাদের ছোটবেলায় আমরা কল্পনাও করিনি। তাই ছেলের মুখে এই নাম শুনে প্রতিবার বিরক্তবোধ করছি।
রিশান, তুমি কি সামনের সীটে এসে বসতে চাও?
না।
কেন?
সীটটা বাঁকা
বলকি! আমি ঘাড় ঘুরিয়ে আমার নতুন কালো ওয়াই এক্স শূন্য তিন জিপকে দেখতে থাকি। একমাসও হয়নি কিনেছি। সীট বাঁকা হওয়ার প্রশ্নই আসেনা। হয়ত রিশান সামনে এসে বসতে চায়না তাই বাহানা বানিয়েছে। আবারো মনটা সুক্ষ্ম বিষাদে ছেয়ে গেল।

বেশ কিছুখন থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। টোল নিতে তো এত সময় লাগেনা। শর্ট রেঞ্জ ওয়াইফাই চালু করে সামনের গাড়ি আর টোল রুমের সাথে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করছি, কিন্তু এই লাইনেও জ্যাম। হয়ত সব গাড়ি থেকে ফোন করে জানতে চাইছে সমস্যাটা কোথায়। কি হয়েছে দেখতে নামব কিনা ভাবছি। এমন সময় দেখলাম আমার আগের গাড়ির দুই দরজা খুলে দুই লোক বের হয়ে এসেছে। একজনের মাথায় কাউবয় হ্যাট। বাইরের ঝকঝকে রোদে হ্যাটটা কাজে লেগেছে বেশ। হ্যাট পরা লোকটা হাত পা টেনে ব্যায়াম করার মত একটা ভঙ্গি করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। আমারো পা ঝিনঝিন করছে। বের হয়ে একটু দেখে আসি বরং কি ব্যাপার।

রিশান আবার গাড়ির টেম্পারেচার কমিয়ে ফেলছে। আমি বললাম, রিশান মনে হচ্ছে এখানে দেরি হবে। চল বাইরে বের হই। দেখি কি ব্যাপার।
সে অলস ভঙ্গিতে নাক -মুখ কুঁচকে না বোধক একটা শব্দ করল।
চল দেখি কোন ফুড স্টপ আছে কিনা। কোল্ড ড্রিংক্স খাবে?
রিশান শুধু বল্ল, ঘুমাবো। বলে কম্বলটা মাথায় মুড়িয়ে ফেল্ল।

ছেলেটা এমন হয়ে যাচ্ছে কেন। কথা বলতে চায়না। হাঁটতে বা খেলতে চায়না। কয়েকবার চেক আপ করানো হয়েছে, তার শারিরীক বা মানসিক বিকাশজনিত কোন সমস্যা নেই। মাঝে মাঝে স্কুলে ছবি আঁকার খাতায় এত এত হাবিজাবি এঁকে রাখে। কিন্তু এটা তো স্বাভাবিকই এই বয়সে।

গাড়ি থেকে বের হলাম। গরম শুষ্ক একটা হাওয়া এসে গালে  মুখে এসে লাগল। টিনিটেড সানগ্লাসের জন্য রক্ষা, নইলে চোখ ঝলসে যেত আলোয় এত রোদ। কাউবয় হ্যাটের লোকটা ফিরে আসছে। সাথের লোকটা উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে করে কথা বলছে। উস্কোখুস্কো চুলের লোকটার মুখ রাগে আর গরমে লাল হয়ে আছে। কি হয়েছে?
আমার দিকে তাকিয়ে একই গলায় চিৎকার করে লোকটা বল্ল, কি অবিশবাস্য ঘটনা! আমাদের নাকি সেন্ট্রাল জেলে চালান করে দিবে! সামনের রাস্তাও আটকে দিয়েছে! এসবের মানে কি! আমার কি কোন নাগরিক অধিকার নেই! এইসব মরচে পড়া সিস্টেমের দেশে আসাই উচিত হয়নি।
আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা। ‘মানে?কি হয়েছে?’ ধাতব গলায় প্রশ্ন করলাম দুজনকে। তারপর ওদের উত্তরের আশায় না থেকে দ্রুতপায়ে পা বাড়ালাম  টোলরুমের দিকে।
এরপর কিছু ঘটনা খুব দ্রুত ঘটে গেল। টোল অফিসার আমার জাতীয় কার্ডটি স্ক্যানার মাশিনে ঢুকিয়ে হতাশাজনক ভাবে মাথা নাড়িয়ে অন্য সহযোগীকে বললেন, ইনফেক্টেড!!
আমি অবিশবাসের গলায় বললাম, ইনফেক্টেড মানে?
 টোল অফিসার তার একঘেয়ে গলায় মুখস্ত কথার মত যা বুল্লেন তার সারাংশ হচ্ছে, আমার এবং এই হাইওয়ে রুটে আসা আরো কিছু যানবাহনের যাত্রিদের জাতিয় কার্ডে কিছু যান্ত্রিক সমস্যা পাওয়া গেছে। ব্যাপারটা জণগুরুতবপূরণ বিধায় আমাদের আইসোলেট করে করে কিছু পরিক্ষা নিরিক্ষা করা হবে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আমার সহযোগীতা আশা করা যাচ্ছে। এখন যেন আমি আমার যানবাহনে ফিরে যাই, প্রয়জনীয় কাগজপত্র এবং  দৈনন্দিন অপরিহার্য কিছু জিনিস আলাদা করে গুছিয়ে রাখি। আমাদের আইসোলেশন জোনে নিয়ে যেতে নিরাপত্তা বাহিনী আসছে। ভয়ের কিছু নেই।
আমি দুইমাত্রার রোবটের মত বড় বড় চোখ আর ঘন্টায় পাচ কিমি গতিতে হেঁটে আমার গাড়ির কাছে আসলাম। রোবটের সাথে আমার মূল পার্থক্য হল আমার হৃদস্পন্দন অনেক বেড়ে গেছে, আর গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে। আমার সামনের গাড়ির দুই ভদ্রলোক অবশ্য নির্বিকারভাবে চিৎকার করে ঝগড়া করে যাচ্ছে। কিন্তু ওদের কথা আমার আর কানে আসছেনা।

রিশান কম্বলের নিচে আরামে ঘুমাচ্ছে। গাড়িতে ঢুকেই আমাই আমার যোগাযোগ মডিউলটা ব্যাগ থেকে বের করলাম। জি আর মা কে আমার অবস্থান আর বিপদের কথাটা জানানো দরকার। আগামিকাল থেকে জি এর ছুটি শুরু হবার কথা, জি বলেছিল চল একসাথে যাই, কিন্তু আমি মায়ের কাছে ঈদের আগেই পৌঁছাতে একাই বের হয়ে এসেছি। একা না। রিশানকে নিয়ে। আমার দুধের বাচ্চার এখন কি হবে ভেবে আমার গলা ধরে আসছে।
যোগাযোগ মডিউল কোন সিগন্যাল ধরছেনা। সামাজিক মাধ্যমগুলোও লোড হচ্ছেনা। আমার বুঝতে কিছুক্ষ্ণ সময় লাগল যে, আসলে আমাদের সব ধরণের নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আমি খুব ভয় পাচ্ছিগাল বেয়ে পানি পড়ছে। ধীরে ধীরে ধাতস্থ হলাম। আমি কোন অপরাধী বা সন্ত্রাসী না। আমার ভয়ের কিছু নেই। আমি গাড়ির কাগজপত্র, পানি শুকনা খাবার গুছাতে লাগলাম। পরিস্থিতির মোকাবেলা করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। রিশানকেও মানসিকভাবে তৈরী করতে হবে। আমি কম্বল সরিয়ে ওর আদুরে মুখটায় হাত বুলিয়ে আস্তে আস্তে করে ডাকতে থাকলাম, রিশান, রিশান, চোখ খোল।   আইসোলেশন জোনে আমাদের নিয়ে যেতে তখন বড়বড় ক্যারাভান আর লরি সাইরেন বাজিয়ে আসছে।
আমরা ততখনে দেশ বিদেশের  সবগুলি নিউজপোরটালের শিরোনাম হয়ে গেছি। ‘ঈদ- যাত্রায় গন্ডগোল।  ছোটবড়  সব মিলে একশ আটটা যানবাহন আটক। যাতীদের জাতীয় কার্ডের কোডে কিছু গন্ডগোল পাওয়া গেছে। ধারণা করা যাচ্ছে, কোন টোল অফিস থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। বা এটা কোন আন্ডারগ্রাউউন্ড সন্তাসবাদী দলের কাজ। হয়ত এই কয়েকশ যাত্রীর  আড়ালে পাচার করা হচ্ছে কোন দাগী আসামী !

২।
আমি রিশান রহমান। রি। বয়স আট। উচ্চতা ১১০ সেমি, ওজন ৪০ পাউন্ড। বয়সের তুলনায় আমার ওজন অনেক কম। না এটা আমার মা সিতারা রহমান সি এর কথা না। প্রতি তিনমাস পর পর আমার স্বাস্থ্য পরিক্ষা হয়, তখন হিলার রোবটগুলি উচ্চতা,ওজন, পালস, রক্তচাপ এইগুলি একঘেয়ে সুরে বলতে থাকে। আর একবার শুনেই আমার মনে থাকে। চারবছর বয়সে আমার মস্তিষ্কে একটা বড় ধরণের অপারেশন হয়েছে।হয়ত বড় কোন অসুখ হয়েছিল, আমার মনে নেই। কিন্তু এরর পর থেকে আমার সবকিছু মনে আছে। মনে থাকে। আমার মাঝে বড় ধরণের কিছু পরিবরতন এসেছে, কিছু কিছু সবাই জানে আর কিছুকিছু কেউ জানেনা।আমি কাউকে বলিনি। কারণ আমার মা বাবা খুব দুশ্চিন্তা করে আর হিলার রোবট আর মেডিকেল টীম খুব ঝামেলা শুরু করে। বার বার নানান পরীক্ষা নীরীক্ষা করে।   আমার খুব বিরক্ত লাগে। 

যেমন আমি কাওকে বলিনি, এই যে আমার হাতে সারাক্ষ্ণ কমডিটি প্লেয়ারটা থাকে, সেটা আসলে একটা সাধারণ ভিডিও গেম প্লেয়ার না। আসলটাকে আমি মডিফাই করেছি। এখন এটা অনেক কাজের একটা জিনিস।এর ক্ষমতা এখন একটা তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারের সমান। ঠিক কিভাবে আমি একে আপগ্রেড করেছি, আমি বলতে পারবনা। কিন্তু করেছি। স্কুলের খেলার পিরিয়ডে সবাই যখন শিশুসুলভ খেলায় মেতে থাকে, আমি তখন মুল কম্পিউটারের কোড ভেঙ্গে নেবুলা সমানুপাতিকের মান খুজে বের করেছি। নেবুলা সমানুপাতিকের মান অবশ্য আমি নিজের ইচ্ছায় খুজিনি। পিগমির খুব অনুরোধ করেছিল বলে করেছি।
পিগমির এই প্রিথিবীর কেউ না। সে এক দূরের গ্রহের বাসিন্দা। আমি আমার কমোডিটি প্লেয়ারকে মূল কম্পিউটারে যুক্ত করে কিছুদিন আগে কিছু সিগনাল পাঠাচ্ছিলাম। স্কুলে বিজ্ঞান ক্লাসে মহাজাগতিক প্রাণী পড়াচ্ছিল আর আমার মোটেই থিওরীটা বিশ্বাস হয়নি। তাই ‘কেমন আছ ভাল আছি’ গোছের কিছু সাধারণ সংকেত পাঠাই। পরের সপ্তাহে আমি পিগমিরের উত্তর পাই আর প্রথমে এটাও রসিকতা মনে করে উত্তর দেইনি।
কিছুদিন পর পিগমির একটা ভিডিও পাঠায়। নাক বোচা সবুজ রঙের অদ্ভুত জীবটা আমার দেখা কোনকিছুর সাথেই মিলেনা। আমি ভয় পেয়ে যাই। কিন্তু পিগমির মানুষটা খুব মজার। গ্ণিত আর পদারথে আমার আরহ দেখে আমাকে এই বিষয়ে অনেক কিছু বলতে থাকে সে। আর আমার কাছে জানতে চায়, আমি যেখানে থাকি, সেখানকার পরিবেশ কেমন, বাসিন্দারা কেমন। আমি আমার নতুন বন্ধুকে সব বলে দিতে থাকি। সত্যি বলতে একটা সময়ে সেই আমার সবচেয়ে প্রিয়  বন্ধু হয়ে ওঠে। যার কথাআমি বাবা মাকেও বলিনি।

পিগমিরের কাছ থেকে জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা শিখতে শিখতে আমি নিজেকে অনেক বড় ভাবতে থাকি, আর চাইতে থাকি যেন আমার চারপাশের সবাই আমাকে স্মীহ করুক। পিগমির বলেছে আমি অসাধারণ বুদ্ধিমান, মনে হচ্ছিল সেই একমাত্র আমার প্রতিভা আর আমার গুণকে মূল্যায়ন করে। বাবা মা কে নাম ধরে ডাকা শুরু করি। বোকাসোকা শপাঠিদের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেই। আমার পিগমিরের দেশে চলেযেতে ইচ্ছা করে। ছবি আকার খাতা ভরে ওর ভিডিওতে দেখা ওর গ্রহের ছবি আকি। ছবি দেখে ড্রয়িং টিচার মাকে খবর দেয়। মা চিন্তিত মুখে আমাকে আবার পরীক্ষা নীরিক্ষা করতে নিয়ে যায়। আমি আরো গুটিয়ে নেই নিজেকে। পিগমিরকে বলি ওর দেশে আমাকে নিয়ে যেত্তে। পিগ্মির আস্বাস দেয় নিয়ে যাবে, কিন্তু সেজন্য আমাকে নেবুলা সমানুপাতিক সমাধান করতে হবে। আমি দিনরাত এর সমাধান মিলাতে থাকি। খুব পরিশ্রমের কাজ। খুব কঠিন।  

ঈদের ছুটিতে নানুবাড়ি যাচ্ছি। রাস্তা যতই কমে যাচ্ছে, ততই আমার এই গ্রহ থেকে চিরতরে চলে যাওয়ার ইচ্ছাটা ও দূর হয়ে যাচ্ছে। পিগমিরকে একথা বলাতে সে একদম রেগে গেল। বল্ল, আমি যাই বা না  যাই, নেবুলা সমানুপাতিকের স্মাধান তার চাইই চাই। সে খুব রেগে রেগে কথা বলছিল আর আমাকে শাস্তি দিবে আমন কথাও বলছিল। আমার মাথা  যন্ত্রণা করছিল তাই ওর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে ঘুমানোর চেশটা করতে থাকলাম। একটুপর মা আমাকে ডেকে তুল্ল। তার মুখ কাগজের মত সাদা। নিশ্চয়ি কোন বিপদ হয়েছে আর আমার কেন যেন মনে হচ্ছে এর  পিছনে আছে পিগমির।

আমার ১০ বছরের কর্ম জীবনের  সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের মুখোমুখি হলাম আজ। আমার সামনে জিজ্ঞাসাবাদের সামনে বসে আছে আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে মেধাবী মানুষ। তার নাম রি। রিশান রহমান। বয়স আট।
আমি ধারণাও করিনি, গত দুইমাস ধরে আমি দিনরাত যে মানুষটার খোজ করে চলেছি, সে এত ছোট একজন মানুষ।
আমি রি-রমায়ের অনুমতি নিয়ে রি এর সাথে কথা বলতে শুরু করলাম, তোমার নাম কি?
-রি।
আমি হ্যন্ডসেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললাম, আমি পিগমির।
রি অবাক হয়ে কয়েক মুহূর্ত আমার দিকে তাকিয়ে থেকে হঠাত মুচকি একটু হেসে দিল।
আমি বললাম, তুমি ।।নেবুলা  রাশিমালা কার সাহায্য নিয়ে সমাধান করেছ?
রি নিস্পলক তাকিয়ে থেকে বল্ল, একা একাই করেছি।
আমি ওর কাধে হালকা চাপড় দিয়ে বললাম, সাবাশ! আমি গর্বিত, রি।
তুমি আমাকে মিথ্যা বলেছ কেন। পিগমির?
তোমাকে  খুজে বের করতে। এখন কি আমাকে সমাধানটা দিবে?
রি শুধু মাথা  নেড়ে হ্যা বল্ল।


খেলার জোনে পাঠিয়ে দিলাম ওকে। সি এতখঞ্চুপ ছিল, সে বল্ল, আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা।
আমি আরামকেদারায় হেলান দিয়ে বলে ধীরেধীরে বললাম, গল্প্টা একটু লম্বা, সি। ন্যাশনাল সিকিউরিটির সাইবার ইউনিটের হেড আলাস্কাস মীর। আমি দুই মাস ধরে তোমার ছেলেকে খুঁজছি।
মানে? কেন? সি-র গলায় অবিশ্বাস।

বললাম না ,  গল্পটা একটু লম্বা। রি একজন অসম্ভব মেধাবী শিশু। তার কমোডিটি প্লেয়ার পরীক্ষা করে তেমন কোন তথ্য উদ্ধার এখনো করা যায়নি, কিন্তু এটুকু বোঝা গেছে, এটা কোন সাধারণ প্লেয়ার নয়। এটা বা অন্য কোন ডিভাইসের মাধ্যমে সে তার  স্কুলের লাইব্রেরির সিস্টেমের সিকিয়রিটি ব্রেক করে। কিন্তু তার নিজের অবস্থান বা পরিচয় আমরা  ধরতে পারিনি। রি কিভাবে এটা করেছে আমরা জানিনা, কিন্তু তার উদ্দেশ্য বুঝতে তাকে আমরা একের পর এক সমস্যা দিতে থাকি, আর সে অসামান্য দ্রুততায় একের পর এক সামাধান করতে থাকে। আমাদের পরিচয় গোপন রাখতে আমরা কিছু অতিপ্রাকৃত ছবি এবং ভুল পরিচয় দেই এবং জানতে পারি সে এই পৃথিবীতে থাকতে চায়না। হয়ত এটা আন্তগ্যালাক্টিক কোন চক্রান্ত, এমনটাই আশংকা হচ্ছইল। আজ সকালে রি জানায় সে এই পৃথিবীতেই থাকবে আর সে ঈদের ছুটিতে বেড়াতে যাচ্ছে।
তাকে খুজে বের করাটা খুব  জরুরী হয়ে গিয়েছিল, আমরা মূল হাইওয়ে সিল করে দেই, এবং জাতীয় কার্ড জ্যাম করে দেই। এভাবেই কয়েক ঘন্টা খাটাখাটি করে রি কে বের করা হয়েছে।
সি হতবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল।
আমি বললাম, সত্যি বলতে কি,আমি এরকম একটা ফলাফলের জন্য তৈরী ছিলাম না। আমি ভেবেছিলাম ... ভয়াবহ কোন কথা আর উচ্চারণ করলাম না। কয়েকমুহূরত চুপ করে থেকে বল্লাম,...  আর পেয়ে গেলাম এক আদম্য মেধাবী বালক। আমি বিস্মিত। আমি গর্বিত।\
সমস্ত বন্ধ  রাস্তা খুলে দেয়া হয়েছে, এক এক করে দ্রুতবেগে বের হয়ে যাচ্ছে গাড়ি, মোটরসাইকেল ভ্যান, অস্পষ্ট স্বরে দূর থেকে ভেসে আসছে নতুন ঘোষণা, ঈদ যাত্রা বিপদমুক্ত।ঞ্জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাসীর পর ছেড়ে দেয়া হল ১০৮ যান।
সি গাড়িতে উঠতে যাবে,   আমি এগিয়ে গেলাম ওর  দিকে,   বললাম,
বিদায়। তোমাদের ঈদ যাত্র  শুভ হোক।
বিপদের আশংকা কেটে যাওয়ায় সি মিষ্টি করে হেসে দিল, তোমাকে ধন্যবাদ।
করমর্দন করে বললাম, রি-এর যত্ন নিও। ও আমাদের সবার সম্পদ।