বৃহস্পতিবার, ২ আগস্ট, ২০১৮

রি


রি

হাইওয়েতে গাড়ি চালাচ্ছিআমার ওয়াই এক্স শূন্য তিন মডেলের নতুন কালো  জিপ। আমার পিছনের সীটে বসে আছে আমার আট বছর বয়সী ছেলে রিশান। অবশ্য রিশান গাড়িতে আছে নাকি নেই বুঝার উপায় নেই। মাঝে মাঝে সে গাড়ির টেম্পারেচার কমিয়ে ১৬ করে ফেলছে আর কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছে। কখনো গান শুনছে, বা হাতের কমডিটি প্লেয়ারে খেলছে। কখনো ওর হিহি হাসি শুনে ব্যাকভিউ মিররে তাকিয়ে দেখি সে চোখে ভি আর সেট লাগিয়ে হাসির কোন সিনেমা দেখছে।
১৬ ঘন্টা ধরে ড্রাইভ করছি অথচ আমাদের দুজনের কথা হচ্ছে খুবই কম। ব্যাপারটা আমাকে সূক্ষ্মভাবে কষ্ট দিচ্ছে। মনে হচ্ছে আমি আমার মনের উচ্ছ্বাসটা রিশানকে ঠিক বুঝাতে পারছিনা। ঈদে মা-র কাছে যাচ্ছি, তাও দু বছর পর। আমার মনে খুশির বুদবুদ। কিন্তু রিশান তার জগতে ব্যস্ত আমি আমার জগতে। ওকে জড়িয়ে ধরে  দুজনে হাসতে হাস্তে গল্প করতে করতে আমার যেতে ইচ্ছা হচ্ছে। আমি গাড়ি চালাচ্ছি বলে সেটা অবশ্য সম্ভব না।
টোল কালেকশনের লাইনে কয়েক মিনিটের জন্য গাড়ি দাঁড়াবে। ভাবলাম, রিশানকে বলব সামনের সীটে এসে বসতে।

-রিশান?
-সি?

আমার ভুরু কুচকে গেল। সে ইদানিং আমাকে মা মম মিমি এগুলো না ডেকে সরাসরি নাম ধরে ডাকছে। কাজের সুবিধার জন্য মানুষের পুরো নাম এখন আর দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার হয়না। একটা সংক্ষেপিত ডাকনাম চলে। আমার নাম তাই সি। রিশানের বাবার নামও হয়েছে জি। বাচ্চাকাচ্চা বাবা মায়ের নাম ধরে ডাকবে আমাদের ছোটবেলায় আমরা কল্পনাও করিনি। তাই ছেলের মুখে এই নাম শুনে প্রতিবার বিরক্তবোধ করছি।
রিশান, তুমি কি সামনের সীটে এসে বসতে চাও?
না।
কেন?
সীটটা বাঁকা
বলকি! আমি ঘাড় ঘুরিয়ে আমার নতুন কালো ওয়াই এক্স শূন্য তিন জিপকে দেখতে থাকি। একমাসও হয়নি কিনেছি। সীট বাঁকা হওয়ার প্রশ্নই আসেনা। হয়ত রিশান সামনে এসে বসতে চায়না তাই বাহানা বানিয়েছে। আবারো মনটা সুক্ষ্ম বিষাদে ছেয়ে গেল।

বেশ কিছুখন থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। টোল নিতে তো এত সময় লাগেনা। শর্ট রেঞ্জ ওয়াইফাই চালু করে সামনের গাড়ি আর টোল রুমের সাথে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করছি, কিন্তু এই লাইনেও জ্যাম। হয়ত সব গাড়ি থেকে ফোন করে জানতে চাইছে সমস্যাটা কোথায়। কি হয়েছে দেখতে নামব কিনা ভাবছি। এমন সময় দেখলাম আমার আগের গাড়ির দুই দরজা খুলে দুই লোক বের হয়ে এসেছে। একজনের মাথায় কাউবয় হ্যাট। বাইরের ঝকঝকে রোদে হ্যাটটা কাজে লেগেছে বেশ। হ্যাট পরা লোকটা হাত পা টেনে ব্যায়াম করার মত একটা ভঙ্গি করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। আমারো পা ঝিনঝিন করছে। বের হয়ে একটু দেখে আসি বরং কি ব্যাপার।

রিশান আবার গাড়ির টেম্পারেচার কমিয়ে ফেলছে। আমি বললাম, রিশান মনে হচ্ছে এখানে দেরি হবে। চল বাইরে বের হই। দেখি কি ব্যাপার।
সে অলস ভঙ্গিতে নাক -মুখ কুঁচকে না বোধক একটা শব্দ করল।
চল দেখি কোন ফুড স্টপ আছে কিনা। কোল্ড ড্রিংক্স খাবে?
রিশান শুধু বল্ল, ঘুমাবো। বলে কম্বলটা মাথায় মুড়িয়ে ফেল্ল।

ছেলেটা এমন হয়ে যাচ্ছে কেন। কথা বলতে চায়না। হাঁটতে বা খেলতে চায়না। কয়েকবার চেক আপ করানো হয়েছে, তার শারিরীক বা মানসিক বিকাশজনিত কোন সমস্যা নেই। মাঝে মাঝে স্কুলে ছবি আঁকার খাতায় এত এত হাবিজাবি এঁকে রাখে। কিন্তু এটা তো স্বাভাবিকই এই বয়সে।

গাড়ি থেকে বের হলাম। গরম শুষ্ক একটা হাওয়া এসে গালে  মুখে এসে লাগল। টিনিটেড সানগ্লাসের জন্য রক্ষা, নইলে চোখ ঝলসে যেত আলোয় এত রোদ। কাউবয় হ্যাটের লোকটা ফিরে আসছে। সাথের লোকটা উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে করে কথা বলছে। উস্কোখুস্কো চুলের লোকটার মুখ রাগে আর গরমে লাল হয়ে আছে। কি হয়েছে?
আমার দিকে তাকিয়ে একই গলায় চিৎকার করে লোকটা বল্ল, কি অবিশবাস্য ঘটনা! আমাদের নাকি সেন্ট্রাল জেলে চালান করে দিবে! সামনের রাস্তাও আটকে দিয়েছে! এসবের মানে কি! আমার কি কোন নাগরিক অধিকার নেই! এইসব মরচে পড়া সিস্টেমের দেশে আসাই উচিত হয়নি।
আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা। ‘মানে?কি হয়েছে?’ ধাতব গলায় প্রশ্ন করলাম দুজনকে। তারপর ওদের উত্তরের আশায় না থেকে দ্রুতপায়ে পা বাড়ালাম  টোলরুমের দিকে।
এরপর কিছু ঘটনা খুব দ্রুত ঘটে গেল। টোল অফিসার আমার জাতীয় কার্ডটি স্ক্যানার মাশিনে ঢুকিয়ে হতাশাজনক ভাবে মাথা নাড়িয়ে অন্য সহযোগীকে বললেন, ইনফেক্টেড!!
আমি অবিশবাসের গলায় বললাম, ইনফেক্টেড মানে?
 টোল অফিসার তার একঘেয়ে গলায় মুখস্ত কথার মত যা বুল্লেন তার সারাংশ হচ্ছে, আমার এবং এই হাইওয়ে রুটে আসা আরো কিছু যানবাহনের যাত্রিদের জাতিয় কার্ডে কিছু যান্ত্রিক সমস্যা পাওয়া গেছে। ব্যাপারটা জণগুরুতবপূরণ বিধায় আমাদের আইসোলেট করে করে কিছু পরিক্ষা নিরিক্ষা করা হবে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আমার সহযোগীতা আশা করা যাচ্ছে। এখন যেন আমি আমার যানবাহনে ফিরে যাই, প্রয়জনীয় কাগজপত্র এবং  দৈনন্দিন অপরিহার্য কিছু জিনিস আলাদা করে গুছিয়ে রাখি। আমাদের আইসোলেশন জোনে নিয়ে যেতে নিরাপত্তা বাহিনী আসছে। ভয়ের কিছু নেই।
আমি দুইমাত্রার রোবটের মত বড় বড় চোখ আর ঘন্টায় পাচ কিমি গতিতে হেঁটে আমার গাড়ির কাছে আসলাম। রোবটের সাথে আমার মূল পার্থক্য হল আমার হৃদস্পন্দন অনেক বেড়ে গেছে, আর গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে। আমার সামনের গাড়ির দুই ভদ্রলোক অবশ্য নির্বিকারভাবে চিৎকার করে ঝগড়া করে যাচ্ছে। কিন্তু ওদের কথা আমার আর কানে আসছেনা।

রিশান কম্বলের নিচে আরামে ঘুমাচ্ছে। গাড়িতে ঢুকেই আমাই আমার যোগাযোগ মডিউলটা ব্যাগ থেকে বের করলাম। জি আর মা কে আমার অবস্থান আর বিপদের কথাটা জানানো দরকার। আগামিকাল থেকে জি এর ছুটি শুরু হবার কথা, জি বলেছিল চল একসাথে যাই, কিন্তু আমি মায়ের কাছে ঈদের আগেই পৌঁছাতে একাই বের হয়ে এসেছি। একা না। রিশানকে নিয়ে। আমার দুধের বাচ্চার এখন কি হবে ভেবে আমার গলা ধরে আসছে।
যোগাযোগ মডিউল কোন সিগন্যাল ধরছেনা। সামাজিক মাধ্যমগুলোও লোড হচ্ছেনা। আমার বুঝতে কিছুক্ষ্ণ সময় লাগল যে, আসলে আমাদের সব ধরণের নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আমি খুব ভয় পাচ্ছিগাল বেয়ে পানি পড়ছে। ধীরে ধীরে ধাতস্থ হলাম। আমি কোন অপরাধী বা সন্ত্রাসী না। আমার ভয়ের কিছু নেই। আমি গাড়ির কাগজপত্র, পানি শুকনা খাবার গুছাতে লাগলাম। পরিস্থিতির মোকাবেলা করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। রিশানকেও মানসিকভাবে তৈরী করতে হবে। আমি কম্বল সরিয়ে ওর আদুরে মুখটায় হাত বুলিয়ে আস্তে আস্তে করে ডাকতে থাকলাম, রিশান, রিশান, চোখ খোল।   আইসোলেশন জোনে আমাদের নিয়ে যেতে তখন বড়বড় ক্যারাভান আর লরি সাইরেন বাজিয়ে আসছে।
আমরা ততখনে দেশ বিদেশের  সবগুলি নিউজপোরটালের শিরোনাম হয়ে গেছি। ‘ঈদ- যাত্রায় গন্ডগোল।  ছোটবড়  সব মিলে একশ আটটা যানবাহন আটক। যাতীদের জাতীয় কার্ডের কোডে কিছু গন্ডগোল পাওয়া গেছে। ধারণা করা যাচ্ছে, কোন টোল অফিস থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। বা এটা কোন আন্ডারগ্রাউউন্ড সন্তাসবাদী দলের কাজ। হয়ত এই কয়েকশ যাত্রীর  আড়ালে পাচার করা হচ্ছে কোন দাগী আসামী !

২।
আমি রিশান রহমান। রি। বয়স আট। উচ্চতা ১১০ সেমি, ওজন ৪০ পাউন্ড। বয়সের তুলনায় আমার ওজন অনেক কম। না এটা আমার মা সিতারা রহমান সি এর কথা না। প্রতি তিনমাস পর পর আমার স্বাস্থ্য পরিক্ষা হয়, তখন হিলার রোবটগুলি উচ্চতা,ওজন, পালস, রক্তচাপ এইগুলি একঘেয়ে সুরে বলতে থাকে। আর একবার শুনেই আমার মনে থাকে। চারবছর বয়সে আমার মস্তিষ্কে একটা বড় ধরণের অপারেশন হয়েছে।হয়ত বড় কোন অসুখ হয়েছিল, আমার মনে নেই। কিন্তু এরর পর থেকে আমার সবকিছু মনে আছে। মনে থাকে। আমার মাঝে বড় ধরণের কিছু পরিবরতন এসেছে, কিছু কিছু সবাই জানে আর কিছুকিছু কেউ জানেনা।আমি কাউকে বলিনি। কারণ আমার মা বাবা খুব দুশ্চিন্তা করে আর হিলার রোবট আর মেডিকেল টীম খুব ঝামেলা শুরু করে। বার বার নানান পরীক্ষা নীরীক্ষা করে।   আমার খুব বিরক্ত লাগে। 

যেমন আমি কাওকে বলিনি, এই যে আমার হাতে সারাক্ষ্ণ কমডিটি প্লেয়ারটা থাকে, সেটা আসলে একটা সাধারণ ভিডিও গেম প্লেয়ার না। আসলটাকে আমি মডিফাই করেছি। এখন এটা অনেক কাজের একটা জিনিস।এর ক্ষমতা এখন একটা তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারের সমান। ঠিক কিভাবে আমি একে আপগ্রেড করেছি, আমি বলতে পারবনা। কিন্তু করেছি। স্কুলের খেলার পিরিয়ডে সবাই যখন শিশুসুলভ খেলায় মেতে থাকে, আমি তখন মুল কম্পিউটারের কোড ভেঙ্গে নেবুলা সমানুপাতিকের মান খুজে বের করেছি। নেবুলা সমানুপাতিকের মান অবশ্য আমি নিজের ইচ্ছায় খুজিনি। পিগমির খুব অনুরোধ করেছিল বলে করেছি।
পিগমির এই প্রিথিবীর কেউ না। সে এক দূরের গ্রহের বাসিন্দা। আমি আমার কমোডিটি প্লেয়ারকে মূল কম্পিউটারে যুক্ত করে কিছুদিন আগে কিছু সিগনাল পাঠাচ্ছিলাম। স্কুলে বিজ্ঞান ক্লাসে মহাজাগতিক প্রাণী পড়াচ্ছিল আর আমার মোটেই থিওরীটা বিশ্বাস হয়নি। তাই ‘কেমন আছ ভাল আছি’ গোছের কিছু সাধারণ সংকেত পাঠাই। পরের সপ্তাহে আমি পিগমিরের উত্তর পাই আর প্রথমে এটাও রসিকতা মনে করে উত্তর দেইনি।
কিছুদিন পর পিগমির একটা ভিডিও পাঠায়। নাক বোচা সবুজ রঙের অদ্ভুত জীবটা আমার দেখা কোনকিছুর সাথেই মিলেনা। আমি ভয় পেয়ে যাই। কিন্তু পিগমির মানুষটা খুব মজার। গ্ণিত আর পদারথে আমার আরহ দেখে আমাকে এই বিষয়ে অনেক কিছু বলতে থাকে সে। আর আমার কাছে জানতে চায়, আমি যেখানে থাকি, সেখানকার পরিবেশ কেমন, বাসিন্দারা কেমন। আমি আমার নতুন বন্ধুকে সব বলে দিতে থাকি। সত্যি বলতে একটা সময়ে সেই আমার সবচেয়ে প্রিয়  বন্ধু হয়ে ওঠে। যার কথাআমি বাবা মাকেও বলিনি।

পিগমিরের কাছ থেকে জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা শিখতে শিখতে আমি নিজেকে অনেক বড় ভাবতে থাকি, আর চাইতে থাকি যেন আমার চারপাশের সবাই আমাকে স্মীহ করুক। পিগমির বলেছে আমি অসাধারণ বুদ্ধিমান, মনে হচ্ছিল সেই একমাত্র আমার প্রতিভা আর আমার গুণকে মূল্যায়ন করে। বাবা মা কে নাম ধরে ডাকা শুরু করি। বোকাসোকা শপাঠিদের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেই। আমার পিগমিরের দেশে চলেযেতে ইচ্ছা করে। ছবি আকার খাতা ভরে ওর ভিডিওতে দেখা ওর গ্রহের ছবি আকি। ছবি দেখে ড্রয়িং টিচার মাকে খবর দেয়। মা চিন্তিত মুখে আমাকে আবার পরীক্ষা নীরিক্ষা করতে নিয়ে যায়। আমি আরো গুটিয়ে নেই নিজেকে। পিগমিরকে বলি ওর দেশে আমাকে নিয়ে যেত্তে। পিগ্মির আস্বাস দেয় নিয়ে যাবে, কিন্তু সেজন্য আমাকে নেবুলা সমানুপাতিক সমাধান করতে হবে। আমি দিনরাত এর সমাধান মিলাতে থাকি। খুব পরিশ্রমের কাজ। খুব কঠিন।  

ঈদের ছুটিতে নানুবাড়ি যাচ্ছি। রাস্তা যতই কমে যাচ্ছে, ততই আমার এই গ্রহ থেকে চিরতরে চলে যাওয়ার ইচ্ছাটা ও দূর হয়ে যাচ্ছে। পিগমিরকে একথা বলাতে সে একদম রেগে গেল। বল্ল, আমি যাই বা না  যাই, নেবুলা সমানুপাতিকের স্মাধান তার চাইই চাই। সে খুব রেগে রেগে কথা বলছিল আর আমাকে শাস্তি দিবে আমন কথাও বলছিল। আমার মাথা  যন্ত্রণা করছিল তাই ওর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে ঘুমানোর চেশটা করতে থাকলাম। একটুপর মা আমাকে ডেকে তুল্ল। তার মুখ কাগজের মত সাদা। নিশ্চয়ি কোন বিপদ হয়েছে আর আমার কেন যেন মনে হচ্ছে এর  পিছনে আছে পিগমির।

আমার ১০ বছরের কর্ম জীবনের  সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের মুখোমুখি হলাম আজ। আমার সামনে জিজ্ঞাসাবাদের সামনে বসে আছে আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে মেধাবী মানুষ। তার নাম রি। রিশান রহমান। বয়স আট।
আমি ধারণাও করিনি, গত দুইমাস ধরে আমি দিনরাত যে মানুষটার খোজ করে চলেছি, সে এত ছোট একজন মানুষ।
আমি রি-রমায়ের অনুমতি নিয়ে রি এর সাথে কথা বলতে শুরু করলাম, তোমার নাম কি?
-রি।
আমি হ্যন্ডসেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললাম, আমি পিগমির।
রি অবাক হয়ে কয়েক মুহূর্ত আমার দিকে তাকিয়ে থেকে হঠাত মুচকি একটু হেসে দিল।
আমি বললাম, তুমি ।।নেবুলা  রাশিমালা কার সাহায্য নিয়ে সমাধান করেছ?
রি নিস্পলক তাকিয়ে থেকে বল্ল, একা একাই করেছি।
আমি ওর কাধে হালকা চাপড় দিয়ে বললাম, সাবাশ! আমি গর্বিত, রি।
তুমি আমাকে মিথ্যা বলেছ কেন। পিগমির?
তোমাকে  খুজে বের করতে। এখন কি আমাকে সমাধানটা দিবে?
রি শুধু মাথা  নেড়ে হ্যা বল্ল।


খেলার জোনে পাঠিয়ে দিলাম ওকে। সি এতখঞ্চুপ ছিল, সে বল্ল, আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা।
আমি আরামকেদারায় হেলান দিয়ে বলে ধীরেধীরে বললাম, গল্প্টা একটু লম্বা, সি। ন্যাশনাল সিকিউরিটির সাইবার ইউনিটের হেড আলাস্কাস মীর। আমি দুই মাস ধরে তোমার ছেলেকে খুঁজছি।
মানে? কেন? সি-র গলায় অবিশ্বাস।

বললাম না ,  গল্পটা একটু লম্বা। রি একজন অসম্ভব মেধাবী শিশু। তার কমোডিটি প্লেয়ার পরীক্ষা করে তেমন কোন তথ্য উদ্ধার এখনো করা যায়নি, কিন্তু এটুকু বোঝা গেছে, এটা কোন সাধারণ প্লেয়ার নয়। এটা বা অন্য কোন ডিভাইসের মাধ্যমে সে তার  স্কুলের লাইব্রেরির সিস্টেমের সিকিয়রিটি ব্রেক করে। কিন্তু তার নিজের অবস্থান বা পরিচয় আমরা  ধরতে পারিনি। রি কিভাবে এটা করেছে আমরা জানিনা, কিন্তু তার উদ্দেশ্য বুঝতে তাকে আমরা একের পর এক সমস্যা দিতে থাকি, আর সে অসামান্য দ্রুততায় একের পর এক সামাধান করতে থাকে। আমাদের পরিচয় গোপন রাখতে আমরা কিছু অতিপ্রাকৃত ছবি এবং ভুল পরিচয় দেই এবং জানতে পারি সে এই পৃথিবীতে থাকতে চায়না। হয়ত এটা আন্তগ্যালাক্টিক কোন চক্রান্ত, এমনটাই আশংকা হচ্ছইল। আজ সকালে রি জানায় সে এই পৃথিবীতেই থাকবে আর সে ঈদের ছুটিতে বেড়াতে যাচ্ছে।
তাকে খুজে বের করাটা খুব  জরুরী হয়ে গিয়েছিল, আমরা মূল হাইওয়ে সিল করে দেই, এবং জাতীয় কার্ড জ্যাম করে দেই। এভাবেই কয়েক ঘন্টা খাটাখাটি করে রি কে বের করা হয়েছে।
সি হতবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল।
আমি বললাম, সত্যি বলতে কি,আমি এরকম একটা ফলাফলের জন্য তৈরী ছিলাম না। আমি ভেবেছিলাম ... ভয়াবহ কোন কথা আর উচ্চারণ করলাম না। কয়েকমুহূরত চুপ করে থেকে বল্লাম,...  আর পেয়ে গেলাম এক আদম্য মেধাবী বালক। আমি বিস্মিত। আমি গর্বিত।\
সমস্ত বন্ধ  রাস্তা খুলে দেয়া হয়েছে, এক এক করে দ্রুতবেগে বের হয়ে যাচ্ছে গাড়ি, মোটরসাইকেল ভ্যান, অস্পষ্ট স্বরে দূর থেকে ভেসে আসছে নতুন ঘোষণা, ঈদ যাত্রা বিপদমুক্ত।ঞ্জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাসীর পর ছেড়ে দেয়া হল ১০৮ যান।
সি গাড়িতে উঠতে যাবে,   আমি এগিয়ে গেলাম ওর  দিকে,   বললাম,
বিদায়। তোমাদের ঈদ যাত্র  শুভ হোক।
বিপদের আশংকা কেটে যাওয়ায় সি মিষ্টি করে হেসে দিল, তোমাকে ধন্যবাদ।
করমর্দন করে বললাম, রি-এর যত্ন নিও। ও আমাদের সবার সম্পদ।


বুধবার, ১১ জুলাই, ২০১৮

লংকাউই আইল্যান্ডে


আমি রাও-কে জিজ্ঞাসা করলাম, can i ask you something,  if u dont mind?
সে বল্ল, yes.
What's your religion?
I am hindu. My name is Rao.
আমিও ধারণা করেছিলাম যে সে হিন্দু। কিন্তু মালয়েশিয়া মুসলিম প্রধান। আর ওদের নামটাম কেমন হয় তাতো জানিনা। তাই জিজ্ঞেস করেই ফেল্লাম। রাও আমাদের গাইড তিনদিনের জন্য। বয়স ৩৮.জন্ম- করম সব এই লংকাউই দ্বীপে । আমরা এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়া র আগেই সে আমাদের খুজে বের করে ফেলেছে, তার হ্যাশ ব্যাক ওলা উঁচু জীপে আমরা বসে আছি। সে রাস্তার দিকে তাকিয়ে সাই সাই করে গাড়ি চালাচ্ছে আর আমাদের সাথে কথা বলছে। গলা পরিস্কার ।ইংরেজিও ভালই। ছোট ছোট বাক্যে আমাদের কথা চলছে।আমি পিছনের সারিতে মাঝে বসেছি, পাশে দুই বাচ্চা ঘুমে ঢুলুঢুলু । সামনে রাও এর পাশের সীটে বসে আছে আমার সাহেব।
রাও বল্ল লংকাউই মানে ঈগল। আমরা কোথায় কোথায় যাব জিজ্ঞেস করতে করতে দুইটা ছবিসহ বই দিয়েছে। আমরা পাতা উলটে উলটে দেখলাম কত কত জায়গায় যাওয়া যায়। মুগ্ধতা বাড়ছেই। এত সুন্দর জায়গা এত সুন্দর রাস্তা
রাও বল্ল, মালয়েশিয়া খুব শান্তিপ্রিয় দেশ। এখানে মুসলিম হিন্দু দৌদ্ধ খ্রিস্টান সবই আছে। i have friends from eveey religion. We go to each others houses, even share our food.
জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা এই বইতে তো শুধু ট্যুরিস্ট স্পটের ছবি। আমি কি লোকাল পিপল বা লোকালয় দেখতে পারি?
সে বল্ল, ok i will show you.
পরদিন পথে যেতে যেতে রাও অনেক গল্প শোনাল। তার ছেলের কথাও বল্ল। কেমন লাগছে বার বার জিজ্ঞেস করছে। আমার উচ্চতা ভীতি আছে শুনে বল্ল, madam i think you dont want to go to sky cable. Its too high. I only go once. With my newly married wife. But after that i never go. But my wife, she goes ever year. You know madam, in 2009, sky cable stopped in mid way for 6hours? Every one so panicked. It came back at 11pm.20 ambulance were ready for the people. When it came down, everyone was carried to hospitals. No injury or death. But panic attack
আমি ঢোক গিলে বললাম, oh i see.
It was one time, na? Not happened again.
No.never. just onetime. Very good maintainance.
আমার সাহেব জিজ্ঞেস করল, উনার কি এটাই একমাত্র ব্যবসা? ট্যুরিজম?
রাও বল্ল, না এখন তো পিক সিজন, তাই সে খুব ব্যস্ত। তার চারটা গাড়ি। বাকি তিনতাও ব্যস্ত। অন্যসময় সে মাছ ধরে। i go fishing. I fish all day and sell in the market.
আমাকে বল্ল, madam, look outside. This is the village u want to see. In Langkawii no hut. Everyone has modern house no poor people. Hahaha we are rich.. Everyone is in tourism. No land for growing food or vegetables. Only rubber.
কি সুন্দর বাসাগুলি। ইটের। একতলা।মাথার উপর তিনকোনা চাল। সব বাসায় ঢুকার সময়ই একটা ছোট বারান্দা। হ্যাংগারে করে কাপড় মেলে শুকাতে দেয়া। কি পরিস্কার পরিপাটি। ইচ্ছা হল একটু ঢুকে দেখি, একটু নামি। কিন্তু রাও সাই সাই করে গাড়ি চালাচ্ছে। এত স্পীডে আমি কখনো চড়িওনি আগে। ঝকঝকে তকতকে রাস্তা বনের ভিতর দিয়ে। একটা পাতাও পড়ে নেই রাস্তায়।
আমি বললাম , u drive so fast. I am scared of speed too.
Your road is so nice .do everyone drive this fast too?
রাও গাড়ির স্পীড কমিয়ে দিয়ে হাসতে হাসতে বল্ল, yes madam.
#malaysia _tour
#Lankawii_island
#rao

ঐশ্বরিয়া


ফররুখ আমার কথা আমার সুরেই রিপিট করে বল্ল, এটা কি নুডুলস?
ঠিক আমার সুরেই না, আর একটু সুর বেশি করে লাগিয়ে, অনেকটা গানের মত শোনাল ওর কথা। সে হেসেই যাচ্ছে।
হিহিহি হিহিহি।
আমি লজ্জিত মুখে বললাম, হাসির কি আছে? হাসো কেন?
সে আবারো আমাকে ভেঙ্গাতে লাগল, এটা কি নুডুলস? এটা কি নুডুলস?
তার হাসির সাথে আমাদের দুইকন্যাও যোগ দিল।বড়কন্যা মানহা বল্ল, মা তুমি না বোকামি কর।
ছোটজন, মুনতাহা বল্ল, কি বোকামি আপু?
বাবা, ফররুখ, বল্ল, তোমাদের মা বোকামি করেনাই, ভুলে বাংলায় জিজ্ঞেস করে ফেলছে,এটা কি নুডুলস? ওরা তো মালয়েশিয়ান,তাইনা?
ওরা বাংলা বুঝেনা।
মুনতাহা বল্ল, ইয়াল্লা, ওরা চাইনিজ কথা বলে?
ফররুখ বল্ল, না। ইংরেজি বুঝে।
মানহা বল্ল, মা তুমি বলবা, excuse me, is it noodles?
চারসদস্যের এই বাহিনী আমরা এইবারই প্রথম দেশের বাইরে বেড়াতে এসেছি। গতরাতে এগারোটায় রওনা দিয়ে পৌছেছি কোয়ালালামপুরের সময় ভোর পাচটায়, মানে ঢাকায় তখন
রাত তিনটা বাজে। চোখ বড় বড় করে বিদেশ দেখছি, বিদেশি মানুষ দেখছি, ঝকঝকে এয়ারপোর্ট দেখছি। মাঝে মাঝে ঘোষণা হচ্ছে, অমুক প্লেনের যাত্রীদের অমুক গেটে যেতে বলা হল।
এয়ারপোর্ট পুলিশের একজন আমাকে বলেছিল যেন গেট নাম্বার খেয়েল করে শুনি, তাই প্রতিটা ঘোষণাই না চাইতেও  শুনেই ফেলছি। আমরা আজ আর কুয়ালালামপুর ঢুকবনা। কাগজপত্র বুঝে নিয়ে ওদের ডমেস্টিক রুটে যাব লংকাউই দ্বীপে। চারদিকে নানান ডিরেকশন, নানা জিনিস লেখা থাকা সত্ত্বেও কাগজ বুঝে নিতে এখান থেকে সেখানে, উপর থেকে নিচে, নিচে থেকে উপরে কয়েকবার হাটাহাটি ঘুরাঘুরি করেছি। একদফা tandas মানে ওয়াশরুমে গিয়েছি, আর একটা নতুন শব্দ শিখে ফেললাম keluar, মানে exit.
এয়ারপোর্ট ভর্তি নানা ধরণের দোকান। চকলেট, পারফিউম, ব্যাগ, পুতুল, কফিশপ, নানান বিখ্যাত ব্র্যান্ড। চকলেটের দোকানের চারদিকে মিষ্টি মৌ মৌ গন্ধ।পুতুলের দোকানে ইয়া বিশাল টেডি দেখে আমিও বাচ্চাদের সাথে গলা মিলিত আহা উহু করলাম। নয়ত বায়না ধরে এত বড় টেডিবিয়ার এখনই কিনে দিতে হবে।
তখনো চারদিকে আলো ফুটেনি, কিন্তু আমাদের ক্ষুধা পেয়ে গেল। পরের ফ্লাইট দেরি আছে। ঢুকলাম এক ফাস্টফুড দোকানে। ওদের লোকাল ব্র্যান্ড, ইংরেজি হরফে খাবারের মালয় নাম আর ছবি দেয়া। আমি ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আর বারগার ছাড়া কিছু বুঝতেছিনা যে কোনটা কি খাবার।
খাবারের লাইনে বোকার মত কতখন দাঁড়িয়ে থেকে অরডার নিতে থাকা মালয় মহিলাকে মনের ভুলে জিজ্ঞেস করে ফেললাম, বাংলায়, আচ্ছা এটা কি নুডুলস?
মহিলা পাখির মত মাথা নেড়ে নেড়ে বল্ল, noodles! noodles! hot and spicy noodles!
ফররুখের হাসি শুরু হল। আস্তে করে বল্ল, বাংলা?
আমি জোরে করে বললাম, one noodles please.
কিছুখন পর নুডুলস আসল। গোল বড় বাটিতে লাল টকটকা ঝোলে মোটা মোটা লম্বা লম্বা নুডুলস একগাদা। আমরা চার সাওদস্যের পুরা বাহিনীও এই নুডুলস খেয়ে শেষ করতে পারবনা।
একে ওকে সাধি, নুডুলস খাও, কেউ খায়না। অতএব আমি একাই নুডুলস শুরু করলাম।
লাল টকটকা ঝাল সুপ। ঠোঁট পুড়ে যাচ্ছে কিন্তু নুডুলসে কোন লবণ ঢুকেনি। বাঙ্গালী রসনায় একে বলে 'পানসে', আমার নানী বলত, 'আইল্ল্যা', আর আমি বিষম খেতে খেতে বলতে চাইলাম, 'বিচিত্র!!'
কিন্তু বাহিনীর সামনে আরো বেশি হাস্যকর হতে চাইনা, অতএব কবি এখানে নীরব অবস্থা।
ফররুখ বল্ল, কেমন? খেতে পারছ?
ঝাল।
আমি ছোট ছোট করে খাচ্ছি, অত্যন্ত অনাগ্রহে, দেখে বল্ল, অন্যকিছু নিবা?
আমি হাম দিল দে চুকে সনম সিনেমায় চলে গেলাম।
কালো নেটের শাড়ি, লম্বা মঙ্গলসুত্র পরে, কপালে উচু করে ছোট একটা কালো টিপ আর লালচে বাদামী
লিপ্সটিক ঠোটে, উদাস কিন্তু ম্যাজেস্টিক ভাবে ইটালিয়ান স্ট্রিট রেস্টুরেন্টে বসে আছে মিস ওয়ার্ল্ড, ঐশ্বরিয়া রাই। সাদা স্যুট পরে এসেছে অজয় দেবগণ। অজয় অর্ডার করল, one sandwitch and coffe.
বয় জানতে চাইল madame কি same নিবে?
অজয় বলতে গেল, same.
ঐশ্বরিয়ার ধ্যান ভাঙল। অজয়ের সেম সেম খাবার সে খাবে? হতেই পারেনা। সে মেন্যু উলটে কিছু না দেখেই না বুঝেই বল্ল, number 13
mamammiya! mammamiya! করতে করতে বয় চলে গেল। কিছুখন পর নিয়ে এল শাকপাতা আই মিন লেটুস দিয়ে সাজানো ইয়া বড় ডিস, শামুক টামুক কি কি যেন ছিল।
জেন্টেলম্যান অজয় তার স্যান্ডউইচ এগিয়ে দিল।
ঐশ্বরিয়া কাটা চামচ দিয়ে শামুক বাছতে লাগল।
u dont have to eat this Nandini.
ঐশ্বরিয়া কাচামরিচ খাওয়া শুরু করল। তার চক্ষু লাল হয়ে গেল। পিছনে 'লে যা তুউউ--উনে' সুর দিয়ে বিরহের গান শুরু হল।
অজয় বল্ল, dont create a scene Nandini, drink this water
ঐশ্বরিয়ার গাল বেয়ে পানি পড়ছে সে একের পর এক কাচামরিচ খাচ্ছে, তার সাথে সাথে দরশকও (মানে আমি) কানতেছি।
এই সিন মনে পড়ে এখন আমার দম ফেটে হাসি আসতে থাকল। আমি প্লাস্টিকের কাটাচামচ দিয়ে ঝোলের ভিতর নুডুলস পেচাতে পেচাতে হাসি কোনরকমে আটকে রেখে বললাম,
কেমন যেন নিজেকে ঐশ্বরিয়া  ঐশ্বরিয়া  লাগতেছে
ফররুখ সিনেমা টিনেমা দেখেনা। বল্ল, হুম?!! ( মানে কি বল বুঝিনা)।
আমি হাসি আটকে রাখতে পারছিনা, আমারো চক্ষু দিয়ে পানি পড়ে পড়ে অবস্থা, সে বুঝল, বিষয়টা নুডুলস ঘটিত, বল্ল, এইটা রাখো তো, দাঁড়াও বারগার নিয়ে আসি আরেকটা।
#মালএয়িশা__ট্যুর
#noodles
#ঐশ্বরিয়া

সাইন্টিফিক সেমিনার

scientific seminar on:
"preventing anemia in children by food supplementaion, selecting a healthy food habit for life in Bangladesh"

Keynote speaker :Dr. Homayra Shabnam Shithi
M.B.B.S(R.U), CMU, FCPS part 1( gynae and obs)

Place: dining table, house no 40, Mohammadpur, Dhaka

Date: 5,7,2018
Time :2:00 pm at noon

Participants:
1.মানহা, 8yrs, passed KG2
 2. মুনতাহা 6yrs, passed KG1
 3. শিরিন খালা,, household service provider, don't know her age, passed class 3

Keynote speaker says:
বাচ্চা রা, এটা কচুশাক। এটা খাও।

মুনতাহা-- মা, প্রতিদিনই তো সবজি খাই। আজকে না খেলে কি হয়?

মানহা--মা, এটা এমন কেন দেখতে !আমার খাওয়ার মন নাই ।

আমি--- খাও। এটা ভাল জিনিস । আর
 মুনতাহা, তুমি প্রতি দিন সবজি খাও?? কালকেও এতগুলা বরবটি প্লেটের কিনারে জমা করে রাখছ, খাওনাই।
বল?

মুনতাহা--- হিহি হিহি

আমি--হাসলে হবেনা। আজকে খেতেই হবে। আর এটা কি সবজি? এটা শাক।

মুনতাহা মাথায় হাত দিয়ে বল্ল, উফ মা!!! আমার ভাল্লাগেনা।

আমি- -- আরে মুখে দিয়ে তো দেখ ভাল লাগে নাকি না!

মুনতাহা হিহি করতে থাকল। আবারো তার কান্না আসতে থাকল। সে চুপ।

আমি---- মানহা তুমি খাওনা কেন? তোমার কি সমস্যা?

মানহা---মা এটা জানি কেমন ।(দেখতে)

 আমি- এটা এমনই দেখতে। এটা আমার প্রিয় শাক। তোমাদের যেমন প্রিয় লাল শাক।

মানহা- কই আমাদের লাল শাক প্রিয়?

ব্যপারটা উহ্য করে বললাম- শোনো, লাল শাক দিয়ে মাখালে ভাত লাল হয়। কচুশাক দিয়ে মাখালে সবুজ হয়ে যাবে। দ্যাখোইনা কি ভাল লাগে।

আর কচুশাক খুবই ভাল জিনিস। এটাতে আয়রন আছে। খাও

 মানহা- বুঝলাম না ।আয়রন মানে?

 আয়রণ । খেলে রক্ত তৈরি হবে।

রক্ত??!!! (সে ভয় পেয়ে ভাত থেকে হাত উঠিয়ে ফেলেছে)

মানহা- আয়রন কি?!!!বুঝলাম না।

 আমি--- আয়রন। আয়রণ । লোহা।
মানহা-- iron man?

মুনতাহা- মানে শুক্তি (শক্তি) হবে মা?

 মানে- red blood cell তইরি হবে।

মানহা- মানে?

আমি--- রক্তে যে cell আছে,জানো?

দুইজনে অবাক হয়ে - না তো?!!!
মানহা বল্ল, সেল?!! মানে?

আমি- হ্যা। তিনরকম সেল আছে। red blood cell, white blood cell, platelet.

মুনতাহা- pink ? Pink নাই মা? ইস আমার pink পছন্দ।
মানহা-প্লেট কি মা? প্লেট? মানে খাওয়ার প্লেট? কিছু বুঝলাম না।

key note speaker এর মাথায় হাত। participant 3 শিরিন খালা এত কিছু চুপ করে শুনতেছিল। এবার সে বল্ল, আরে এত কথা না বইলা খাও খাও। এক্টুও ঝাল দেইনাই