বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

ক্লান্তি

তুমি যদি বলো, তো, আমি থেকে যাই? থাকব?
কিছু বলছ না কেন? এই?

মৃদুল আবার বল্ল শানুকে। 'আমি থেকে যাই। কি বল?'
শানু বল্ল, 'থাকবা? থাকো?!!" ওর কথায় কোন জোর নেই।
শানু জানে মৃদুল থাকবেনা। এইসব কথার কথা শানুর ভালো লাগেনা।

দুইজনে নাস্তা করতে বসেছে। সকাল নয়টা। না এখনো নয়টা বাজেনি। পোনে নয়টা এখন। মৃদুল অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরী। সুন্দর একটা সাদা শার্ট পরেছে। ওর ছোট ছোট করে কাঁটা চুল গুলোও তেল দিয়ে আঁচড়ানো। স্টাইল করে কিছুজিন জেল লাগিয়েছিল, এখন সে আবার তেলে ফিরে গেছে। হালকা করে তেল লাগায় চুলে, দেখলে বোঝা যায়না। কিন্তু দেখতে ভাল লাগে।

মৃদুল চায়ের পেয়ালা তার দিকে টেনে নিল। শানু বল্ল, রুটি খাবানা?
ইচ্ছা করছেনা।
একটা খাও?
আচ্ছা দাও একটা। কলা দাও। কলা দিয়ে খাই। খেতে ইচ্ছা হয়না। কি যে করি।

খাওয়ার টেবিলে সাধারণত মৃদুল এত কথা বলেনা। আজ বলছে, কারণ, শানুর মন খারাপ। শানু গাল ফুলিয়ে বসে আছে। দেখে মৃদুলের বোধহয় মায়া লাগছে।

শানু মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে। মৃদুল আবার বল্ল, কে ফোন করেছিল?
শানু- আমাদের সিএ।
কি বল্ল?
জিজ্ঞেস করল, আমি কি আজও ডিউটিতে এবসেন্ট থাকব কিনা?
তুমি কি বল্লা?
-বল্লাম। হ্যাঁ। আসতে পারবনা। আমার বাচ্চাদের পরীক্ষা চলছে। আর বাসায় কেউ নেই। বুয়া চলে গেছে। তাই আজ যাওয়া সম্ভব না।
তারপর?
শানু বিরক্ত হয়ে বল্ল, তারপর আর কি? সিএ বল্ল, কোনভাবে ম্যানেজ করে চলে আসেন, আজ অনেক গ্যাঞ্জাম হচ্ছে।
আমি বল্লাম, ভাই, আপনি বুঝতে পারতেছেননা, আমার আসার উপায় নাই। অনেক সমস্যায় আছি। আর তাছাড়া আমি শনিবার এসে রিজাইন দিব। আর কোন উপায় নাই আমার। তারপর বল্লাম, আমি স্যরি। বলে ফোন রেখে দিলাম। এইতো? আরেকটা রুটি নাও?

মৃদুল মুখে রুটি জমিয়ে রেখেছে। চিবুচ্ছেনা। মনোযোগ দিয়ে কথা গুলো শুনেছে এবং তার চেহারায় একটা স্তম্ভিত ভাব।বল্ল, আজ কখন তোমার ডিউটি?
শানু বল্ল, বাদ দাও তো

আজ না বুধবার? মৃদুল হিসাব কষছে। আজ কি চব্বিশ ঘন্টা ডিউটি?
শানুর বলতে ইচ্ছা হোলো, তুমি বুঝি জানোনা?
না বলে বল্ল, হুম।

মৃদুল আচমকা বলে উঠল, শিট!

বলে চায়ের কাপ নিয়ে বারান্দায় চলে গেল। এখন সে একটা সিগারেট খাবে।


শানু ধীরে ধীরে থালাবাটি রান্নাঘরের সিংকে রাখল। সেই ছয়টা থেকে উঠে বাচ্চাদের টিফিন বানিয়ে খাইয়ে রেডী করে স্কুলে দিয়ে এসেছে। অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। দুইজনের ক্যাম্পাস দুই রাস্তায়। জ্যামে পড়ে একজনের দশ মিনিট দেরী হয়েছে স্কুলে। পরীক্ষা ততক্ষনে বোধহয় শুরু হয়ে গেয়েছে। এর মাঝে রবিবারের পরীক্ষায় বড়জন এবসেন্ট ছিল, সেটা যেন আবার নেয়া হয়, সেইজন্য হেড অফিসে গিয়ে দরখাস্ত দিয়ে এসেছে। পরীক্ষা শেষ হবে এগারোটার দিকে, এতক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা অসম্ভব, তাই শানু আবার রিক্সা নিয়ে বাসায় এসে পড়েছে। ফেরার পথে হাসপাতাল থেকে ফোন এসেছে। এবং হুট করেই শানু সি এ আপাকে বলেছে, ভাই আমার আর কোন উপায় নেই, শনিবার এসে আমি রিজাইন দিয়ে দিব।

শানু একজন ডাক্তার। চাকরিটা শুধু তার এমনি একটা চাকরি মাত্র না, এটা একটা ট্রেনিং পিরিয়ড। ট্রেনিং শেষ একটা সারটিফিকেট দেয়া হবে, যেটা দিয়ে সে পরের পরীক্ষা গুলো দিতে পারবে।
শানু কাপ প্লেট গুলো ধুয়ে উপুড় করে রাখতে রাখতে ভাবা শুরু করল, আচ্ছা প্রক্রিয়া গুলো কি খুব জটিল, ডাক্তারী বিষয়ক? যা কেউ শুনেই বলে, আমি অইসব এত বুঝিনা , তোমাদের অনেক জটিল সিস্টেম।

ওহো মশারী খোলা হয়নি।
শানু বিছানা গোছানো শুরু করল।
মৃদুলের চা খাওয়া শেষ। সে কাপ হাতে ফিরে এসেছে। বল্ল, যাবানা?

শানু অবাক হয়ে বল্ল, কোথায়?
অনেক কিছু ভাবছিল শানু, মৃদুল কোথায় যাওয়ার কথা বলছে শানু বুঝতে পারছেনা।
মৃদুল বল্ল, তুমি যাও না হয়, আমি থাকি।

শানু চুপ। মৃদুল এখন ব্লেজার পরছে। কাপ রেখেছে ড্রেসিং টেবিলের উপরে। শানু কাপটা হাতে নিয়ে আবার রান্না ঘরে চলে গেল।

মৃদুল বল্ল, আচ্ছা ইয়ে, টিচারের সাথে কি কথা হয়েছিল? সুতপার রবিবারের পরীক্ষাটা কি নিবে?
-অফিসে কথা বলতে হবে। চল আমার সাথে অফিসে? স্যারটা তো কথাই বলতে চায়না। আমার ভাল লাগেনা

মৃদুল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বল্ল, আজকে? আমার অনেক দেরী হয়ে যাচ্ছে! অলরেডি সাড়ে নয়টা বাজে। মিটিং এটেন্ড করতে হবে।
শানু শুকনো করে খালি বল্ল, ও।

আজ আমার অনেক প্রেসার অফিসে জান।

শানু গেট পর্যন্ত এগিয়ে গেল। মৃদুল নিচু হয়ে জুতা ঠিক করছে। আর বলছে, ওদের স্কুল থেকে নিয়ে বাসায় রেখে তুমি চলে যেও। আচ্ছা?

তারপর ওদের কে খাওয়াবে? কে গোসল করাবে? কে বিছানায় রেস্ট নিতে পাঠাবে? কে পড়াবে? নাস্তা খাওয়াবে? রান্না করবে? কে ঘর গুছাবে?- বলতে গিয়েও বল্লনা। এসব চর্বিত চর্বণ। একই কথা বারবার ঘুরে ফিরে আসা। এমনকি ঠিক কয়টায় অফিস থেকে বাসায় আসতে পারবে জিজ্ঞেস করলেও মৃদুলের এই সহমর্মিতা উধাও হয়ে গিয়ে খেকিয়ে উঠে বলবে, তুমি কি চাও আমি চাকরি ছেড়ে দিয়ে সারাক্ষণ ঘরে বসে থাকি?
মৃদুল নিচে নেমে যাচ্ছে। শানু দরজা লাগিয়ে দিয়েছে। হয়ত মৃদুল কিছুদুর নেমে ফিরে তাকাত, শানু তার বিষাদ ছাওয়া মুখটা মৃদুল কে দেখাতে চায়না।  মৃদুলের দিন হোক সুন্দর।

ঘর গুছানো বাকি, রান্নার আয়োজন করতে হবে, শানু সব ফেলে খাওয়ার টেবিলের চেয়ারে বসে পড়ল অবসাদগ্রস্থ মানুষের মত। অন্যের করুণা নিয়ে, অন্যের সাহায্য আর শতভাগ দয়া নিয়ে তার নিজের নতুন পরিচয় তৈরী করার নিষ্ঠুর খেলা তার আর ভাল লাগেনা। তার বড় ক্লান্ত লাগে।

বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৬

পদবী



শাম্মা-র ভালোনাম বুঝি ‘হাসিনা আক্তার’?! আক্তার, বেগম, খাতুন নামগুলো এখন দেখাই যায়না। পুরনো ধরণের নাম কিনা। শিল্পী আজীবন তার নাম নিয়ে হীনমন্মতা্য ভুগেছে, কারণ তার নাম শিল্পী বেগম। অনেকের হাসির পাত্র হয়েছে আজীবন। স্কুলে তারেক, অপু আর দু-একটা ছেলে ছিল, যারা ওকে আর্টিস্ট বেগম  ডাকত। ক্লাস এইটে একটা নতুন ছেলে যখন ভর্তি হল রহিম বাদশা নামে, তখন অপু-রা ‘বাদশা বেগম’ এমন কিছুদিন খুব ভেঙ্গাতো। তারপর ভুগোল ক্লাসে একদিন  শিল্পী শব্দ করে কেঁদে ফেলেছিল আর স্যারের হাতে অনেক মার খেয়েছিল কয়েকজন। বছরের মাঝখানে আবার রহিম উধাও হয়ে গেল, মানে স্কুল বদলালো। শিল্পী বৃত্তি পরীক্ষায় সারা জেলায় প্রথম হল। অনেক কিছু বদলে গেল। অপু, তারেক আর কখনো শিল্পী-কে ‘আর্টিস্ট বেগম’ নামে খেপায়নি। এখন হয়ত শিল্পীকে তার পুরো নাম ধরে পরিচয় দিতে পেরে গর্বই করবে ওরা, মাঝে মাঝে মনে হয় শিল্পীর। কারণ অপু রা ঝরে গিয়েছিল, কোথায় কি করছে জানেনা, আর শিল্পী-
এত টুকু ভেবে আবার থেমে গেল শিল্পী। না তাকে আলাদাভাবে পরিচয় দেয়ার মত এখনো কিছু হয়ে যায়নি সে। ভালো ফল করে এম,বি,বি,এস পাশ করেছে সে, ঠিক আছে, কিন্তু তার নাম ধরে খুঁজে বেড়ানোর মত অবস্থানে, এখনও সে যায়নি।
কে জানে, হয়ত কখনো সেই অবস্থানে যেতেই পারবেনা শিল্পী। আজীবন সংগ্রামই করে যেতে হবে!
শাম্মা আবার মেসেজ পাঠিয়েছে, ক্রিং করে মেসেঞ্জারে একটা শব্দ হল-
আপি?
শাম্মা-র ফেসবুক নাম ‘শাম্মা নীলপরী’ খুব স্টাইলিশ আর আপ্টুডেট মেয়েটা। সে তার বিয়ের কার্ড পাঠিয়েছে, ছবি তুলে, মেসেঞ্জারে। এই শুক্রবার বিয়ে। শিল্পী কি মনে করে ছবিটা জুম করে শাম্মার নাম দেখছে। কোথায় কখন যেতে ভালো করে লক্ষ্য করেনি, কারণ এই শুক্রবার ওর ছুটি নেই। যেতে পারবেনা।
কার্ডে শাম্মার নাম লেখা ‘কনেঃ হাসিনা আক্তার।‘ নামের আগে ডাঃ; কথাটা লেখা নেই। শাম্মা পাশ করে বেরিয়েছে আট মাস হবে। এই কদিন আগেও ইন্টারণী হিসাবে প্লেসমেন্ট ছিল শিল্পীদের ইউনিটে। ডাঃ লেখেনি কেন? পাত্র কি করে?
শাম্মা আবার মেসেজ পাঠিয়েছে। আবার কার্ডের ছবি।  
শিল্পী উত্তর লিখল, কংগ্রাচুলেশনস!
একবার মনে হল বলে, তোমার হবু বর কি করে?
তারপর কি মনে করে জিজ্ঞাসা করলনা। সামনা সামনি হলে জিজ্ঞাসা করা যেত। মেসেঞ্জারে এত কথা লিখতে ভাল লাগেনা।

আরিফও শিল্পীর নামের আগে ডাঃ; লিখতে চায়নি। বিয়ের কার্ডে। আরিফের বাবা শিল্পীর বাবা মা আর শিল্পীর নামের বানান নিয়ে গেল। বাবা বড় বড় করে শিল্পীর নামের আগে ‘ডাঃ’ লিখে দিল। আরিফ ফোন করল শিল্পীকে। আমি ‘ডাঃ’ কথাটা দিতে চাচ্ছিনা কার্ডে।
কেন?
এটা তো তোমার নাম না তাইনা। এটা পদবী।
এটা তো নামের আগেই বসে।
কিন্তু আমার কেমন যেন লাগছে শব্দটা। শুধু নামটা দিলে হয়না?
কেন? তুমি কি লজ্জিত? আমার নাম নিয়ে? না পদবী নিয়ে?

না থাকলে সমস্যা কি?
থাকলে কি সমস্যা আমি তো সেটা বুঝতে পারছিনা।

থাকলে কেমন অহংকারী দেখায়। আমি অহংকারি পছন্দ করিনা।
-বুঝিনাই
মানে, সবাইকে বলা , দেখো আমার বউ ডাক্তার। আমার অসুবিধা লাগছে, আর আমার অফিসে এমন একটা কাহিনী আছে। এক ভাই কে নিয়ে অনেক হাসাহাসি হয়েছিল, আমার ভাল লাগেনা

কয়দিন ধরে এই দিকেই আলাপ চলে যেত। ফোনে। আরিফ ‘ডাঃ’ লিখবেনা কার্ডে। শিল্পীও তখন নতুন ডাক্তার। এমনিতেও বাস্তব বোধ কম। আরিফ যে তার পেশা সম্বন্ধে গভীর করে কিছু জানেইনা, শিল্পী আঁচই করতে পারেনি। তখন শুধু তর্ক করেছিল পদবী নিয়ে। এটা নাম না তাহলে নামের আগে বসাতে হবে কেন? এই প্রশ্নে শিল্পী চুপ করে থাকত।
শাম্মা-র বেলাতেও কি এমন হচ্ছে? ওর বরের নামের আগেও পদবী লেখা নেই। সে কি শাম্মার নামের আগে ‘ডাঃ’ লিখতে না করেছে? এটা কি ছেলের বাড়ির কার্ড?

শিল্পীর বাবার কানে আসল, আরিফ ডাঃ লিখতে চাচ্ছেনা। রাশভারী মানুষটা চুপ হয়ে গিয়েছিল। মা বল্ল, লিখবেনা কেন? তুই কি বলিস?
‘আমি খুব বিরক্ত’ বলা উচিত ছিল। শিল্পী কি বলেছিল? গাধার মত নিশ্চয়ই বলেছিল, ‘না লিখুক, আমার কোন অসুবিধা নাই’?
এমনই কিছু বলেছিল সম্ভবত। মনে নাই।কার্ডের ছবি স্ক্যান করে রাখা আছে কম্পিউটারের কোন কোনায়। খুঁজে দেখতে হবে। অবশ্য এখন আর দেখে কি হবে?

এই যেমন শাম্মাকেও বলার কোন দরকার নেই, ‘এই যে পদবী লিখতে দেয়নাই, এর মানে কি, জানো? এর মানে খুব ভয়াবহ। মানে তুমি ঢালু পথে পা রেখে দিয়েছ। সেই ঢালু পথে পা হড়কে কোন অচেনা অন্ধকারে তুমি গিয়ে পড়বে তার কি কোন ঠিক আছে? কার্ডে ছাপায়নি, ভাল কথা। প্রতিটা কার্ডে তুমি রুপালী কালী দিয়ে তুমি তোমার পদবী জুড়ে দাও। পৃথিবীটা খুব খারাপ জায়গা মেয়ে। নিজেকে নিজে প্রতিষ্ঠা না করলে তুমি নিঃশেষ হয়ে যাবে, উধাও হয়ে যাবে, বিলীন হয়ে যাবে, নাই হয়ে যাবে
শিল্পীর মাথা দপ দপ করছে। অবধারিত ভাবে তার মাথার ভিতর এখন ঘুরতে থাকবে না বোধক সব প্রতিশব্দ। একটু পর শুরু হবে মাইগ্রেনের তীব্র ব্যথা।

ক্রিং করে আবার শব্দ হল, মেসেঞ্জারে, শাম্মা লিখেছে,
থ্যাংকস আপি!
দোয়া করবেন।


শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

হাবিজাবি সেলাই

ইদানিং একটানা যে কোন শব্দে খুব মাথা ঘুরতে থাকে জেবিনের।নানী যে বলত তোরা এত প্যাচাল পারিস কেন? আর মা যে বলত,  তার শব্দ সহ্য হপ্যনা, কথা গুলোর মানে এখন এতদিনে সে  বুঝতে পারছে। পাশের ঘরে টিভি চলছে। নানান পদের আওয়াজ ভেসে আসছে।টিভির শব্দ কমানো সম্ভব না, কারণ টিভি দেখছে তার শাশুড়ি। শাশুড়ি অবশ্য সবসময় টিভি দেখেনা, আর এখন গিয়ে সাউন্ড কমিয়ে দিলেও কিছুই বলবেনা।উনার বয়স আশি নব্বই কিছু হবে, আগের সেই ধাক নেই। তবে কথায় বিষ আছে। তীক্ষন একটা চাহনি দিয়ে বিষাক্ত কথার ছুরি চালানোর প্রাচীন গুণ ভদ্র মহিলার এখনো অটুট আছে। তবে জেবিনকে তিনি খুব ভাল পান। বা ভয় পান। জেবিন জানেনা। জেবিন যদি বলে, মা টিভির আওয়াজ টা একটু কমায় দেই? উনি সাথে সাথে আড়ষ্ট ভংিতে রাজি হয়ে যাবেন। কমাও কমাও।যেন এত শব্দে নিজেরই অসুবিধা হচ্ছিল। বিনয়ের কারণে যেন বলতে পারেন নাই।
এই সমস্ত অভিনয় জেবিন একদমই সহ্য করতে পারেনা। এবং সে এইসব অভিনয় করেওনা। যা মনে আসে, যেই আবেগে আসে, সেই গতিতেই সে প্রকাশ করে। কারো খারাপ লাগকে কিছু করার নাই, ভাবার নাই।
শাশুড়ি যেমন সাউন্ড কমানো হলে এমন কাচুমাচু ভংিতে বসে থাকবে যেন 'বউ ঠিকমত টিভিটাও দেখতে দেয়নাই" না হলে "এখন কিচ্ছুই শুনতে পাচ্ছিনা, কিন্তু কলহের ভয়ে কিছু বলবনা"
শাশুড়ি কিছু না বল্লেও এমন দুই মুখি আচরণ সহ্য হবেনা বলেই সে টিভির সাউন্ড কমাতে উঠছেনা।
সে সেলাই মেশিন চালাচ্ছে, সেটার শব্দোও কিছু কম নয়। পুরান্য মেসগিনের একটানা ঘ্যষ ঘ্যষ শব্দ। এতখন কানে লাগেনাই। এখন লাগছে। কিন্তু সেলাই শেষ হয়নি এখনো তাই উঠরে পারছেনা। শেশ যে এখনি করতে হবে তা অবশ্য নয়।
শব্দে মাথা ঘুরছে। কাল পরীক্ষার হলে বসে থেকেও মাথা ঘুরে উঠেছিল। পরশু বা আগের দিন, না গত সপ্তাহে কবে যেন.. ভাবতে ভাবতে আবার পট করে সুতা ছিড়ে গেল। তাড়াহুড়ার সেলাই গুলো এমন হয়। সুতা ছিড়তে থাকে। সোজা উলটা গুবলেট হয়ে যায়, ববিনের সুতা শেশ হয়ে যায়।
সুই তে সূতা ভরতে গিয়ে জেবিনের মবে হল আসলেই কি বয়স বাড়ছে, সুতা ভরতে সময় লাগছে।আর এত শব্দের মাঝে মন দিতে পারছেনা।
নানী ভাত খেতে বসে, মাঝে মাঝে খুব রেগে যেতেন।এমনিতে খেতে কষ্ট হত। ভাতে মরিচ ডলে লবণ দিয়ে পানি পানি করে বহু কষ্টে গিলতেন। রুচি ছিলনা। জেবিনরা চার ভাইবোন কথা বলতে থাকলে নানী হুংকার দিতেন, এত প্যাচাল পারিস কেন রে তরা।এত কথা ভালো লাগেনা।
নানীর রোগে পেয়েছে বুঝি? ভাবতে গিয়ে রুবেলের কথা মনে হল।সে বলত, নানীর যা হ্য়য়, মারও তাই হয়, আর মা-র একনিষ্ঠ ভক্ত হিসাবে অবধারিত ভাবে হবে জেবিনের। যেমন নানী মা কেঊ বড় ট্যাবমেট গিলতে পারেনা। জেবিন ট্যবলেট দুইভাগ করে খায় দেখে রুবেল খুব মজা পেয়েছে ভংি করে বলে, মা সাজিস,না?

সুতা ভরে জেবিন লক্ষ্য করে, কানে শব্দের বোঝাটা আর লাগছেনা। শাশুড়ি মা বোধহয় টিভি বন্ধ করে দিয়েছেন। আসলে এখন দেখার তেমন কিছু বোধহয় হয়ও না। অবশ্য জেবিন জানেনা। তার কিখনই টিভির নেশা ছিলনা। এমনকি বাসায় কোন চ্যানেল কততে সেটাও সে মনে রাখতে চায়না বা পারেনা। প্রতিবার শাশুড়িকে টিভি খুলে সিনেমা বের করে দিতে সে শূন্য থেকে চ্যানেল ঘোরাতে থাকে।

শাষুড়ি না, টিভি বন্ধ করেছে  মিরাজ। মিরাজের হাতে রিমোট নিয়েই এ ঘরে ডুকেছে, আর বিরক্তিতে তার মুখ লাল হয়ে গেছে। শাসনের ভংিতে জেবিনের দিকে রিমোট তুলে সে হঠাত চিতকার করে বল্ল, কি শুরু করলা তুমি? এই  কি সমুস্যা?? এখনো বসে আছ??

হঠাত চারদিক চুপ হয়ে যাওয়ায় আর বিনা নোটিশে মিরাজ চিৎকার শুরু করায় জেবিনের কানে শব্দ গুলো আরো তীক্ষন হয়ে আঘাত করে। চকিতে ওর ইলেক্ট্রিক সেলাই মেশিনের হাতের কাপড়ের টান আত পায়ের চাপের সূক্ষ নিয়ন্ত্রণ বিঘ্নিত হয় আর থকে গিয়ে আরেকটু হলে হাতে সুই ফোটার উপক্রম হয়।
পিছন থেকে শাশুড়ি র দীরঘ্নিশবাসের শব্দয শুনতে পায় জেবিন। তাহলে উনি অনেক খন থেকে এ ঘরে এসে খাটে শুয়ে ছিলেন। বা বিমরশ হয়ে হয়ত জেবিনের সেলাই করা দেখছিলেন। মিরাজের চিৎকার বা জেবিনের থমজে যাওতায় উনি বিচলিত হয়েছেন

সেলাই থামিয়ে জেবিন মুখ তুলে তাকায়। 'বল' বলতে গিয়েও কিছু বকেনা।
মায়ের দীরঘ নিষবাসে মিরাজ হয়ত অব্যক্ত সমরথন পেয়ে যায়। গলা একই রকম উচু রেখেই, রিম্যট ওলা হাট তাও উচুতে রেখেই বিরক্তি এবং রাগ একই ভাবে প্রকাশ করতে থাকে। যে সে সেই কঝন থেকে এইসব হাবিজাব্বি নিয়ে বসে আছে। বাচ্চারা হইচই করছে। পড়তে বসার নাম নেই। একবস্র সেলাই রাখতে বলে গেছে সে, তাও কেন সে থামেনি। বাচ্চাদের পড়ালেখার চেয়ে এইসব হাবিজাবিই বড় হল?



রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৬

বেগুনী টি শার্ট



সিঁড়ি দিয়ে নামছি। ডিউটি শেষ। সাথে দুইটা ব্যাগ। কোন একটা বিচিত্র কারণে ডিউটিতে আসতে সময় দুইটা বোঁচকা বানিয়ে ফেলি, তারপর সেই সেই বোঁচকা টেনে টেনে হাসপাতালে যাই আবার বাসায় টেনে আনি। প্রায়ই মনে হয় ধুর! এভাবে প্রতিদিন বই খাতা কুটিকাটি হাবিজাবি টানাটানির কোন মানে হয়না। কিন্তু যেদিন বোঁচকা ফেলে আসি কেমন যেন খালি খালি লাগতে থাকে।
দুই ব্যাগ নিয়ে 'একটু দেখি, জায়গা দ্যান' বলতে বলতে নিচে নামছি। দুইতলা থেকে একতলা অংশটুকুতে একদল উচ্ছ্বসিত মানুষের জটলায় পড়লাম ।
ডিউটি শেয হলে আর একমুহূর্ত ও হাসপাতালে থাকতে ইচ্ছা হয়না। জটলার পিছনে পড়ে গিয়ে বিরক্ত হতে থাকলাম ।
ছয় সাতজন মানুষ হেলতে দুলতে হাসতে হাসতে আর উচ্চ:স্বরে কথ বলতে বলতে নামছিল।
হাসপাতাল এত উচ্ছ্বাসের জায়গা না। এখানে অসুস্থ, দুশ্চিন্তাগ্রস্থ, কষ্টক্লিষ্ট মানুষ আসে. হাসিখুশি কাওকে দেখাই যায়না। যারা সাধারণত হেলতে দুলতে হাসপাতালে আসে আর উচ্চ:স্বরে কথা বলে তারা খুব দাম্ভিক আর ক্ষমতাধর হয়। প্রফেসর থেকে কয়েকটা পাতি ডাক্তার ওরা নাকি পকেটেই রেখে দিতে পারে।
এই ধীর গতির হাসিখুশি মানুষের দলকে উৎসুক হয়ে দেখতে লাগলাম। সফেদ পাঞ্জাবি পরা একজন আছে বয়স্ক লোক, একজন কমলা হাফশার্ট- ফরসা ধরণের , আর বাকিরা টিশার্ট পরে আছে- অল্প বয়সের হবে। সবাই সবার সাথে একসাথে কথা বলছে। শুধু সফেদ পাঞ্জাবি-র জন ছাড়া। বয়স্ক জন। এই ছেলে-ছোকড়ার মাঝে কথা বলে ওজন হাল্কা করতে চাননা। কিন্তু ওদের কথা শুনছেন, সাথে সাথে যাচ্ছেন, হয়ত হাসছেনও মাথা নিচু করে, দেখতে পাইনি।
কমলা হাফ শার্ট মাথা ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করল, 'পরে বয়স কত দিছেন'?
আমার ঠিক সামনের লোকটা গলা একধাপ উঁচু করে বল্ল, কত দিছে আমি কি জানি? আমি তো দেইনাই। পরে কাগজে দেখি লেখছে, ষাইট.
সবাই মৃদু হেসে উঠল। আমার সামনের জন, ছোট ছোট চুল কাটা, হাতে কাগজের ব্যাগ, আগের কথার সুরেই বলতে লাগল, 'হাসস? এই?! আমার বয়স ষাইট?'
কমলা হাফ শার্ট গাম্ভীর্য ধরে রেখে বল্ল, 'কত আসলে? আরো বেশী? বাষট্টি' ?
সামনের জন তার ব্যাগ ধরা হাত উঁচু করে নকল রাগ ঝাড়তে ঝাড়তে বল্ল, 'যা বেটা।কি কস? তুই দিসস না- ষাইট' ?
দলের সবাই এবার মাথা দুলিয়ে হাসতে থাকল।
কাগজের ব্যাগ হাতের লোক টা কটকটা বেগুনি রঙের একটা টি-শার্ট পরে আছে. কত বছর বয়স পর্যন্ত এমন একটা কালো কলারের পকেট ছাড় কটকটা বেগুনী টি-শার্ট পরা যায়?
উনার যে বয়স হয়েছে,দেখি মানতেই চায়না, হাসপাতালে ও হয়ত আসতে চায়নি, এই বন্ধুস্থানীয় সুহৃদেরা ধরে এনেছে চেক-আপের জন্য। কাগজের ব্যগে কি? রিপোর্ট নিশ্চয়ই।
সিঁড়ি শেষ।
দুই বোঁচকা হাতে বড় গেটের দিকে যেতে যেতে ভাবছিলাম, আহারে! হাসিখুশি দলের সাথে মিশে থেকেই যদি বার্ধক্যের পাথর-ভার আর অসুখের নির্মম যাতনা থেকে নিরাপদ থাকা যেত !

টেকনিক



জুবিন হঠাত বলে উঠল, বুঝেছ মিথি, এই হোস্টেল লাইফে এসে যে জিনিসটা আমি শিখলাম, তা হল, তোমাকে প্রতি মুহূর্তে অনেক ‘টেকনিক্যাল হতে হবে।
আমরা ক্লাস শেষে হোস্টেলের ডাইনিং-এ এসেছি।ভাত খাব। দুপুর দেড়টা বাজে। আজ আমার হোস্টেল লাইফের দ্বিতীয় দিন।চোখ বড় বড় করে সব দেখছি।সারি সারি পাতা বিছানায় ছোট ছোট সংসার-ওলা কমনরুম। সবাই ধুন্দুমার পড়া লেখায় ব্যস্ত। আমি এসেছি মাইগ্রেশন করে ছাব্বিশ দিন পর। জুবিন আমার কলেজের বন্ধু।চারতলা কমনরুমে ওর পাশের চকিটা আমার জন্য সে বুক করে রেখেছিল।
ক্যাম্পাসে আমি পৌঁছেছিলাম বিকালে। বেয়াদপ রিক্সাওলা আমার রিক্সাটা ইচ্ছা করে বয়েজ হোস্টেলের গেটে থামিয়েছিল। আমার আব্বা সেইরকম খেপে গেল।খেপে গিয়ে তুই তোকারি শুরু করল। কি রে ব্যাটা তুই শুনিসনি, লেডিজ হোস্টেল বলেছি?কেন এখানে আসলি?
লোকটা কেন এমন করেছিল? বয়েজ হোস্টেলের মাঠে ছেলেরা ফুটবল খেলছিল।
আব্বা আমাকে লেডিজ হোস্টেলের গেটে নামিয়ে কিছুক্ষণ ছেড়া-ময়লা-পুরান সোফা-ওলা অন্ধকার- অন্ধকার গেস্টরুমে বসে ছিল। তারপর চলে গেল। আমি কোনোদিনো বাসার বাইরে থাকিনি।
পরদিন সবার সাথে বসে লেজ ধরে একটা পরীক্ষা দিলাম। আইটেম। ফিমার। আমি উল্টা করে ফিমার ধরে ছিলাম আর তোতলাতে তোতলাতে কি বলছিলাম নিজেও জানিনা।আবদুল্লাহ স্যার মুখে কিচ্ছুটি না বলে হাত বাড়িয়ে আমার কার্ড ফিরিয়ে দিয়েছেন। সেই কার্ড নিয়েই প্রেমে ছ্যাকা খাওয়ার মত চিকন চিনচিনে একটা অনুভূতি নিয়ে আমি ভালো মানুষের মত মুখ করে ঘুরে বেড়াচ্ছি। জুবিন হয়ত লক্ষ্য করেছে।
ক্যান্টিনে অদ্ভুত ঝলমলে একটা আলো। লম্বা একটা হলরুম। মাঝে মাঝে পিলার। সবার শেষে দেয়ালে চৌকো কাঁটা অংশ।একটা কপাট ছাড়া দরজা। টেবিলে ইয়া ইয়া বিশাল সাইজের গামলা বসানো কয়েকটা। ডালের। জুবিন খাবার নেবার আগেই আমাকে বলে দিয়েছে, গ্লাসে ডাল নিয়ে নাও। একটু পর আর তলানি থাকবেনা। তাই ই করেছি।
আমি আসলে কোথাও গিয়ে খুব তাড়াতাড়ি সেখানে মিশে যেতে পারিনা। শিখিনি তখনো। কমন রুমের সবার সাথে কথা বলেছি, কিন্তু কারো চেহারা মনে নেই। এখন আসতে সময় ডাইনিং-এ ঢোকার পথেই একজন হেসে মাথে নেড়েছে, একদম রুপালীর মত দেখতে, কিন্তু সে রুপালীই কিনা আমি বলতে পাঢ়বনা। অদ্ভুত একটা অনুভূতিতে ভাসছি। এই জায়গাটাকে আমার নতুন ঠিকানা ভেবে উঠতে পারিনি এখনো। মনে হচ্ছে বুঝি বেড়াতে এসেছি। এখানেই আগামী কয়েক ব-ছ-র থাকতে হবে, এই কথাটাও নিজেকে এখনও সেভাবে বলিনি আমি। কিন্তু কথাটা মনের কোণে অল্প করে  উঁকি দিচ্ছে, তাতেই দমবন্ধ-মত লাগছে।    
চুপ করে আমি মানুষ জনের হৈ হট্টোগোল শুনতে থাকলাম। মাথা নিচু করে টেবিলের দিকে তাকিয়ে। যারা আজ আইটেমে পাশ করেছে ওরা হেসে হেসে গল্প করছে। ঠিক করেছে, সবাই মিলে সেলিব্রেট করতে যাবে।াজ বিকালে সবাই তাজহাটের রাজবাড়ি দেখতে যাবে।
জুবিন সারাটা-খন আমার পাশে পাশে আছে ।বলছে, খেতে পারছ তো?
-হুম।
ওদের রান্নাটা একটু অন্যধরণের। অনেকে সহ্য করতে পারেনা প্রথম প্রথম।
-হুম।
খারাপ লাগছে তোমার?
-না না।
তাও ভাল, আজ ঢেড়শের ঝোল দিয়ে মাছ রাধেনি। ওইটা খাওয়া যায়না
-তাই?
আমি খাচ্ছি। ডাইনিঙের এত ঝলমলে আলোর উৎস খুঁজছি। দুইপাশে সারি সারি জানালা। ঘোলাটে কাঁচ ভেদ করে এত আলো ঢুকেছে?
খেয়েদেয়ে উপরে যাবো। গল্প চলবে বা ঘুম। কেউ কেউ ক্লাসের নোটপত্র বা লেকচার এখনই গুছিয়ে ফেলবে। গোসলের সিরিয়াল ধরতে হবে। কমনরুমের সাথে কোন বাথরুম নেই।চারতলার অন্য রুম গুলোর বাথরুমে সিরিয়াল দিতে হয়।অনেক ঝামেলা।
জুবিনের কথায় সচকিত হলাম।
‘বুঝেছ মিথি, এই হোস্টেল লাইফে এসে যে জিনিট টা আমি শিখলাম, তা হল, তোমাকে প্রতি মুহূর্তে অনেক টেকনিক্যা্ল হতে হবে’
মানে?
জুবিন আমাদের সামনে রাখা একটা হাতল ছাড়া টিনের জগের দিকে দেখিয়ে বল্ল, ধর, এই জগটা দেখো। হাতল নাই। পানি দিয়ে সম্পূর্ণ ভরা। এত ভারি হাতল বিহীন জগ  থেকে ভাবে পানি ঢেলে খাবো? সেইটাই হল টেকনিক।
জুবিন নানা কয়দা ক্যারিকেচার করে এক হাতেই সেই জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে ফেল্ল। ওর কান্ড থেকে হো হো করে হাসতে থাকলাম। জুবিনও হাসছে। মাঝে মাঝে মেয়েটা এমন সব অদ্ভুত কান্ড করে হাসাতে পারে!

জুবিন বল্ল, তাজহাটে যাচ্ছে সবাই।
হুম।তুমিও যাও।
তুমি যাবানা?
তোমরা যাও সেলিব্রেট কর। আমার যেতে ইচ্ছা করছেনা।
জুবিন প্রশ্নবোধক চিহ্ন মুখে নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। জানতে চাচ্ছে বোধহয় আমার মন খারাপ লাগবে কিনা? আমি তাড়াতাড়ি বলে উঠলাম, না, না, আমার খারাপ লাগবেনা। তোমরা অবশ্যই যাবা।
আমাদের মাঝ থেকেই একেকজন একেক ক্ষেত্রে দারুণ কিছু করে ফেলবে একদিন, হিংসা, দুঃখ হতাশার ঊর্ধ্বে উঠে বন্ধুর মত তাকে বাহবা জানাতে শেখার টেকনিকটাও আমি সেদিনই শিখে গিয়েছিলাম।