তুমি যদি বলো, তো, আমি থেকে যাই? থাকব?
কিছু বলছ না কেন? এই?
মৃদুল আবার বল্ল শানুকে। 'আমি থেকে যাই। কি বল?'
শানু বল্ল, 'থাকবা? থাকো?!!" ওর কথায় কোন জোর নেই।
শানু জানে মৃদুল থাকবেনা। এইসব কথার কথা শানুর ভালো লাগেনা।
দুইজনে নাস্তা করতে বসেছে। সকাল নয়টা। না এখনো নয়টা বাজেনি। পোনে নয়টা এখন। মৃদুল অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরী। সুন্দর একটা সাদা শার্ট পরেছে। ওর ছোট ছোট করে কাঁটা চুল গুলোও তেল দিয়ে আঁচড়ানো। স্টাইল করে কিছুজিন জেল লাগিয়েছিল, এখন সে আবার তেলে ফিরে গেছে। হালকা করে তেল লাগায় চুলে, দেখলে বোঝা যায়না। কিন্তু দেখতে ভাল লাগে।
মৃদুল চায়ের পেয়ালা তার দিকে টেনে নিল। শানু বল্ল, রুটি খাবানা?
ইচ্ছা করছেনা।
একটা খাও?
আচ্ছা দাও একটা। কলা দাও। কলা দিয়ে খাই। খেতে ইচ্ছা হয়না। কি যে করি।
খাওয়ার টেবিলে সাধারণত মৃদুল এত কথা বলেনা। আজ বলছে, কারণ, শানুর মন খারাপ। শানু গাল ফুলিয়ে বসে আছে। দেখে মৃদুলের বোধহয় মায়া লাগছে।
শানু মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে। মৃদুল আবার বল্ল, কে ফোন করেছিল?
শানু- আমাদের সিএ।
কি বল্ল?
জিজ্ঞেস করল, আমি কি আজও ডিউটিতে এবসেন্ট থাকব কিনা?
তুমি কি বল্লা?
-বল্লাম। হ্যাঁ। আসতে পারবনা। আমার বাচ্চাদের পরীক্ষা চলছে। আর বাসায় কেউ নেই। বুয়া চলে গেছে। তাই আজ যাওয়া সম্ভব না।
তারপর?
শানু বিরক্ত হয়ে বল্ল, তারপর আর কি? সিএ বল্ল, কোনভাবে ম্যানেজ করে চলে আসেন, আজ অনেক গ্যাঞ্জাম হচ্ছে।
আমি বল্লাম, ভাই, আপনি বুঝতে পারতেছেননা, আমার আসার উপায় নাই। অনেক সমস্যায় আছি। আর তাছাড়া আমি শনিবার এসে রিজাইন দিব। আর কোন উপায় নাই আমার। তারপর বল্লাম, আমি স্যরি। বলে ফোন রেখে দিলাম। এইতো? আরেকটা রুটি নাও?
মৃদুল মুখে রুটি জমিয়ে রেখেছে। চিবুচ্ছেনা। মনোযোগ দিয়ে কথা গুলো শুনেছে এবং তার চেহারায় একটা স্তম্ভিত ভাব।বল্ল, আজ কখন তোমার ডিউটি?
শানু বল্ল, বাদ দাও তো
আজ না বুধবার? মৃদুল হিসাব কষছে। আজ কি চব্বিশ ঘন্টা ডিউটি?
শানুর বলতে ইচ্ছা হোলো, তুমি বুঝি জানোনা?
না বলে বল্ল, হুম।
মৃদুল আচমকা বলে উঠল, শিট!
বলে চায়ের কাপ নিয়ে বারান্দায় চলে গেল। এখন সে একটা সিগারেট খাবে।
শানু ধীরে ধীরে থালাবাটি রান্নাঘরের সিংকে রাখল। সেই ছয়টা থেকে উঠে বাচ্চাদের টিফিন বানিয়ে খাইয়ে রেডী করে স্কুলে দিয়ে এসেছে। অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। দুইজনের ক্যাম্পাস দুই রাস্তায়। জ্যামে পড়ে একজনের দশ মিনিট দেরী হয়েছে স্কুলে। পরীক্ষা ততক্ষনে বোধহয় শুরু হয়ে গেয়েছে। এর মাঝে রবিবারের পরীক্ষায় বড়জন এবসেন্ট ছিল, সেটা যেন আবার নেয়া হয়, সেইজন্য হেড অফিসে গিয়ে দরখাস্ত দিয়ে এসেছে। পরীক্ষা শেষ হবে এগারোটার দিকে, এতক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা অসম্ভব, তাই শানু আবার রিক্সা নিয়ে বাসায় এসে পড়েছে। ফেরার পথে হাসপাতাল থেকে ফোন এসেছে। এবং হুট করেই শানু সি এ আপাকে বলেছে, ভাই আমার আর কোন উপায় নেই, শনিবার এসে আমি রিজাইন দিয়ে দিব।
শানু একজন ডাক্তার। চাকরিটা শুধু তার এমনি একটা চাকরি মাত্র না, এটা একটা ট্রেনিং পিরিয়ড। ট্রেনিং শেষ একটা সারটিফিকেট দেয়া হবে, যেটা দিয়ে সে পরের পরীক্ষা গুলো দিতে পারবে।
শানু কাপ প্লেট গুলো ধুয়ে উপুড় করে রাখতে রাখতে ভাবা শুরু করল, আচ্ছা প্রক্রিয়া গুলো কি খুব জটিল, ডাক্তারী বিষয়ক? যা কেউ শুনেই বলে, আমি অইসব এত বুঝিনা , তোমাদের অনেক জটিল সিস্টেম।
ওহো মশারী খোলা হয়নি।
শানু বিছানা গোছানো শুরু করল।
মৃদুলের চা খাওয়া শেষ। সে কাপ হাতে ফিরে এসেছে। বল্ল, যাবানা?
শানু অবাক হয়ে বল্ল, কোথায়?
অনেক কিছু ভাবছিল শানু, মৃদুল কোথায় যাওয়ার কথা বলছে শানু বুঝতে পারছেনা।
মৃদুল বল্ল, তুমি যাও না হয়, আমি থাকি।
শানু চুপ। মৃদুল এখন ব্লেজার পরছে। কাপ রেখেছে ড্রেসিং টেবিলের উপরে। শানু কাপটা হাতে নিয়ে আবার রান্না ঘরে চলে গেল।
মৃদুল বল্ল, আচ্ছা ইয়ে, টিচারের সাথে কি কথা হয়েছিল? সুতপার রবিবারের পরীক্ষাটা কি নিবে?
-অফিসে কথা বলতে হবে। চল আমার সাথে অফিসে? স্যারটা তো কথাই বলতে চায়না। আমার ভাল লাগেনা
মৃদুল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বল্ল, আজকে? আমার অনেক দেরী হয়ে যাচ্ছে! অলরেডি সাড়ে নয়টা বাজে। মিটিং এটেন্ড করতে হবে।
শানু শুকনো করে খালি বল্ল, ও।
আজ আমার অনেক প্রেসার অফিসে জান।
শানু গেট পর্যন্ত এগিয়ে গেল। মৃদুল নিচু হয়ে জুতা ঠিক করছে। আর বলছে, ওদের স্কুল থেকে নিয়ে বাসায় রেখে তুমি চলে যেও। আচ্ছা?
তারপর ওদের কে খাওয়াবে? কে গোসল করাবে? কে বিছানায় রেস্ট নিতে পাঠাবে? কে পড়াবে? নাস্তা খাওয়াবে? রান্না করবে? কে ঘর গুছাবে?- বলতে গিয়েও বল্লনা। এসব চর্বিত চর্বণ। একই কথা বারবার ঘুরে ফিরে আসা। এমনকি ঠিক কয়টায় অফিস থেকে বাসায় আসতে পারবে জিজ্ঞেস করলেও মৃদুলের এই সহমর্মিতা উধাও হয়ে গিয়ে খেকিয়ে উঠে বলবে, তুমি কি চাও আমি চাকরি ছেড়ে দিয়ে সারাক্ষণ ঘরে বসে থাকি?
মৃদুল নিচে নেমে যাচ্ছে। শানু দরজা লাগিয়ে দিয়েছে। হয়ত মৃদুল কিছুদুর নেমে ফিরে তাকাত, শানু তার বিষাদ ছাওয়া মুখটা মৃদুল কে দেখাতে চায়না। মৃদুলের দিন হোক সুন্দর।
ঘর গুছানো বাকি, রান্নার আয়োজন করতে হবে, শানু সব ফেলে খাওয়ার টেবিলের চেয়ারে বসে পড়ল অবসাদগ্রস্থ মানুষের মত। অন্যের করুণা নিয়ে, অন্যের সাহায্য আর শতভাগ দয়া নিয়ে তার নিজের নতুন পরিচয় তৈরী করার নিষ্ঠুর খেলা তার আর ভাল লাগেনা। তার বড় ক্লান্ত লাগে।
কিছু বলছ না কেন? এই?
মৃদুল আবার বল্ল শানুকে। 'আমি থেকে যাই। কি বল?'
শানু বল্ল, 'থাকবা? থাকো?!!" ওর কথায় কোন জোর নেই।
শানু জানে মৃদুল থাকবেনা। এইসব কথার কথা শানুর ভালো লাগেনা।
দুইজনে নাস্তা করতে বসেছে। সকাল নয়টা। না এখনো নয়টা বাজেনি। পোনে নয়টা এখন। মৃদুল অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরী। সুন্দর একটা সাদা শার্ট পরেছে। ওর ছোট ছোট করে কাঁটা চুল গুলোও তেল দিয়ে আঁচড়ানো। স্টাইল করে কিছুজিন জেল লাগিয়েছিল, এখন সে আবার তেলে ফিরে গেছে। হালকা করে তেল লাগায় চুলে, দেখলে বোঝা যায়না। কিন্তু দেখতে ভাল লাগে।
মৃদুল চায়ের পেয়ালা তার দিকে টেনে নিল। শানু বল্ল, রুটি খাবানা?
ইচ্ছা করছেনা।
একটা খাও?
আচ্ছা দাও একটা। কলা দাও। কলা দিয়ে খাই। খেতে ইচ্ছা হয়না। কি যে করি।
খাওয়ার টেবিলে সাধারণত মৃদুল এত কথা বলেনা। আজ বলছে, কারণ, শানুর মন খারাপ। শানু গাল ফুলিয়ে বসে আছে। দেখে মৃদুলের বোধহয় মায়া লাগছে।
শানু মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে। মৃদুল আবার বল্ল, কে ফোন করেছিল?
শানু- আমাদের সিএ।
কি বল্ল?
জিজ্ঞেস করল, আমি কি আজও ডিউটিতে এবসেন্ট থাকব কিনা?
তুমি কি বল্লা?
-বল্লাম। হ্যাঁ। আসতে পারবনা। আমার বাচ্চাদের পরীক্ষা চলছে। আর বাসায় কেউ নেই। বুয়া চলে গেছে। তাই আজ যাওয়া সম্ভব না।
তারপর?
শানু বিরক্ত হয়ে বল্ল, তারপর আর কি? সিএ বল্ল, কোনভাবে ম্যানেজ করে চলে আসেন, আজ অনেক গ্যাঞ্জাম হচ্ছে।
আমি বল্লাম, ভাই, আপনি বুঝতে পারতেছেননা, আমার আসার উপায় নাই। অনেক সমস্যায় আছি। আর তাছাড়া আমি শনিবার এসে রিজাইন দিব। আর কোন উপায় নাই আমার। তারপর বল্লাম, আমি স্যরি। বলে ফোন রেখে দিলাম। এইতো? আরেকটা রুটি নাও?
মৃদুল মুখে রুটি জমিয়ে রেখেছে। চিবুচ্ছেনা। মনোযোগ দিয়ে কথা গুলো শুনেছে এবং তার চেহারায় একটা স্তম্ভিত ভাব।বল্ল, আজ কখন তোমার ডিউটি?
শানু বল্ল, বাদ দাও তো
আজ না বুধবার? মৃদুল হিসাব কষছে। আজ কি চব্বিশ ঘন্টা ডিউটি?
শানুর বলতে ইচ্ছা হোলো, তুমি বুঝি জানোনা?
না বলে বল্ল, হুম।
মৃদুল আচমকা বলে উঠল, শিট!
বলে চায়ের কাপ নিয়ে বারান্দায় চলে গেল। এখন সে একটা সিগারেট খাবে।
শানু ধীরে ধীরে থালাবাটি রান্নাঘরের সিংকে রাখল। সেই ছয়টা থেকে উঠে বাচ্চাদের টিফিন বানিয়ে খাইয়ে রেডী করে স্কুলে দিয়ে এসেছে। অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। দুইজনের ক্যাম্পাস দুই রাস্তায়। জ্যামে পড়ে একজনের দশ মিনিট দেরী হয়েছে স্কুলে। পরীক্ষা ততক্ষনে বোধহয় শুরু হয়ে গেয়েছে। এর মাঝে রবিবারের পরীক্ষায় বড়জন এবসেন্ট ছিল, সেটা যেন আবার নেয়া হয়, সেইজন্য হেড অফিসে গিয়ে দরখাস্ত দিয়ে এসেছে। পরীক্ষা শেষ হবে এগারোটার দিকে, এতক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা অসম্ভব, তাই শানু আবার রিক্সা নিয়ে বাসায় এসে পড়েছে। ফেরার পথে হাসপাতাল থেকে ফোন এসেছে। এবং হুট করেই শানু সি এ আপাকে বলেছে, ভাই আমার আর কোন উপায় নেই, শনিবার এসে আমি রিজাইন দিয়ে দিব।
শানু একজন ডাক্তার। চাকরিটা শুধু তার এমনি একটা চাকরি মাত্র না, এটা একটা ট্রেনিং পিরিয়ড। ট্রেনিং শেষ একটা সারটিফিকেট দেয়া হবে, যেটা দিয়ে সে পরের পরীক্ষা গুলো দিতে পারবে।
শানু কাপ প্লেট গুলো ধুয়ে উপুড় করে রাখতে রাখতে ভাবা শুরু করল, আচ্ছা প্রক্রিয়া গুলো কি খুব জটিল, ডাক্তারী বিষয়ক? যা কেউ শুনেই বলে, আমি অইসব এত বুঝিনা , তোমাদের অনেক জটিল সিস্টেম।
ওহো মশারী খোলা হয়নি।
শানু বিছানা গোছানো শুরু করল।
মৃদুলের চা খাওয়া শেষ। সে কাপ হাতে ফিরে এসেছে। বল্ল, যাবানা?
শানু অবাক হয়ে বল্ল, কোথায়?
অনেক কিছু ভাবছিল শানু, মৃদুল কোথায় যাওয়ার কথা বলছে শানু বুঝতে পারছেনা।
মৃদুল বল্ল, তুমি যাও না হয়, আমি থাকি।
শানু চুপ। মৃদুল এখন ব্লেজার পরছে। কাপ রেখেছে ড্রেসিং টেবিলের উপরে। শানু কাপটা হাতে নিয়ে আবার রান্না ঘরে চলে গেল।
মৃদুল বল্ল, আচ্ছা ইয়ে, টিচারের সাথে কি কথা হয়েছিল? সুতপার রবিবারের পরীক্ষাটা কি নিবে?
-অফিসে কথা বলতে হবে। চল আমার সাথে অফিসে? স্যারটা তো কথাই বলতে চায়না। আমার ভাল লাগেনা
মৃদুল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বল্ল, আজকে? আমার অনেক দেরী হয়ে যাচ্ছে! অলরেডি সাড়ে নয়টা বাজে। মিটিং এটেন্ড করতে হবে।
শানু শুকনো করে খালি বল্ল, ও।
আজ আমার অনেক প্রেসার অফিসে জান।
শানু গেট পর্যন্ত এগিয়ে গেল। মৃদুল নিচু হয়ে জুতা ঠিক করছে। আর বলছে, ওদের স্কুল থেকে নিয়ে বাসায় রেখে তুমি চলে যেও। আচ্ছা?
তারপর ওদের কে খাওয়াবে? কে গোসল করাবে? কে বিছানায় রেস্ট নিতে পাঠাবে? কে পড়াবে? নাস্তা খাওয়াবে? রান্না করবে? কে ঘর গুছাবে?- বলতে গিয়েও বল্লনা। এসব চর্বিত চর্বণ। একই কথা বারবার ঘুরে ফিরে আসা। এমনকি ঠিক কয়টায় অফিস থেকে বাসায় আসতে পারবে জিজ্ঞেস করলেও মৃদুলের এই সহমর্মিতা উধাও হয়ে গিয়ে খেকিয়ে উঠে বলবে, তুমি কি চাও আমি চাকরি ছেড়ে দিয়ে সারাক্ষণ ঘরে বসে থাকি?
মৃদুল নিচে নেমে যাচ্ছে। শানু দরজা লাগিয়ে দিয়েছে। হয়ত মৃদুল কিছুদুর নেমে ফিরে তাকাত, শানু তার বিষাদ ছাওয়া মুখটা মৃদুল কে দেখাতে চায়না। মৃদুলের দিন হোক সুন্দর।
ঘর গুছানো বাকি, রান্নার আয়োজন করতে হবে, শানু সব ফেলে খাওয়ার টেবিলের চেয়ারে বসে পড়ল অবসাদগ্রস্থ মানুষের মত। অন্যের করুণা নিয়ে, অন্যের সাহায্য আর শতভাগ দয়া নিয়ে তার নিজের নতুন পরিচয় তৈরী করার নিষ্ঠুর খেলা তার আর ভাল লাগেনা। তার বড় ক্লান্ত লাগে।