ফজলে রাব্বি তার হাতের গ্লাসের তরলে মৃদু ঢেউ তুলে হাতটা উপরের দিকে উঠিয়ে গভীর জ্ঞানী গলায় বলে উঠল-
-টু বই অর নট টু বই, দ্যাট ইস দ্যা কোশ্চেন।
সে কোষচেন কথাটা এমনভাবে উচ্চারণ করেছে যেন কথাটা 'কোশ্চেন' না, 'কুয়েইশ্চেন'
তার কথা সগুনে ঘরের সবাই হো হো করে হেসে উঠল।
বীথি সাথে সাথে জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা ফজল, কথাটার মানে কি রে?
ফজলে রাব্বি আঁতকে ওঠার ভান করে বীথির দিকে তাকালো।বীথির প্রশ্নে আর ফজলের অঙ্গভঙ্গিতে ঘরের সবাই আবার হো হো করে হেসে উঠল।হাসি একটু কমতেই বীথি আবার জিজ্ঞেস করল, আরে হাসিস না, বল না মানে কি?
ফজল তার হাতে ধরা সিল লাগানো ওয়াইন গ্লাসে কোক আর স্প্রাইটের 'কক্টেল' এক চুমুকে শেষ করে খট করে গ্লাসটা টেবিলে রেখে বল্ল,
জানিনা।
এবার নিপুণ, জামিল আর সুমি সবচেয়ে বেশী জোরে শব্দ করে হাসি শুরু করল। কিছুখণ পর বীথি আর ফজলও হাসিতে যোগ দিল। নিপুণ হাসতে হাসতেই ফজলকে বল্ল, জোকার একটা!!
বন্ধুরা একসাথে হলে এমনই হয় আসলে। হাসির কোন কারণ লাগেনা।
আজ ৩০শে জুন, মঙ্গল্বার।সুমি আর জামিলের ফার্স্ট ম্যারেজ ডে। সবাই ভুলেই গেছিল। নিপুণ ফোন করেছিল ফজলকে, সকাল দশটায়। ফজল তখন অফিসে। কোনদিকে তাকানোর সময় নেই।তার ব্যাংক এর ইয়ার ক্লোজিং এর কাজ চলছে। নিপুণের ফোন ধরতেও দেরী হয়েছে। নিপুণ কড়া গলায় বলেছে, সত্যি যাবিনা সুমির ওখানে? ফজল ও তত জোর গলাতেই বলছে 'না। তুই পাগল? কেমনে কি?
সত্যি যাবিনা?
গাধা তুই ফোন রাখ। টাইম নাই
কিন্তু আধাঘন্টা পরে কয়েকটা কজে ভুল করে, অনেক উশখুশ করে হাত কচলে হাত কচলাতে কচলাতে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদীর মত স্যারের সামনে গিয়ে বলেছে, স্যার, আমার আজ একটু -- ইয়ে মানে ছুটি লাগবে-- আম্মা বাথরুমে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে।। স্যার আমি যাব আর আসব
তারপর মতিঝিল থেকে মিরপুর আসতে সময় লেগেছে আড়াই ঘন্টা।বাসে ঝুলতে ঝুলতে। সারাটা রাস্তা ভাবতে ভাবতে এসেছে, এক বছর পার হয়ে গেল এত তাড়াতাড়ি? এ-ক বছর?
সুমি দরজা খুলে অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল কিছুক্ষণ ফজলের দিকে।
কি হইছে? কোত্থেকে আসলি?
ফজল উচ্ছবসিত গলায় বল্ল, আর সব কই?
একরকম সুমিকে ধাক্কা দিয়েই ঘরে ধুকে গেল সে।
সুমি অবাক গলায় বল্ল, আর সব মানে? আর কে আসবে?
নিপুণ কই? নিপুণ? ফ্যান ছাড় তো সুমি? এত্ত গরম ক্যান এই বাসা? থাকস কেমনে?
বলতে বলতে পকেট থেকে ফোন বের করে ছোট টেবিলটাতেই বসে পড়ল ফজল, বিড় বিড় করছে, নিপুণের বাচ্চা!!
সুমি ফ্যানের সুইচ দিয়ে ঠান্ডা পানি আনতে গেল। ঠান্ডা তো না, ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি। ফজল দরদর করে ঘামছে। সুমি এতখণে বুঝেছে, সবাই ওর এখানে আসার প্ল্যান করেছে। ফজল আগেই চলে আসছে একা। বরাবরই একটু কম বুঝে ফজল। ওর রাগী মুখ দেখে সুমির হাসিই পেয়ে গেল। হাসি চেপে গ্লাস হাতে দাড়ালো ফজলের পাশে।
ফজল ফোন কানে নিয়েই এক নিশ্বাসে পানি খেল। বল্ল, হারামীটা ফোন ধরে না কেন!!
সুমি বল্ল, তুই কছু খাবি? ভাত খাবি?
ফজল উত্তেজনায় দাঁড়িয়ে পড়ল, দাঁড়া আগে এইটা মিমাংসা করি। বদটার জন্য আজকে আমার চাকরি যাবে। এখন ফোন ধরেনা। কেমন হারামী দ্যাখ খালি
সুমি ক্কিছু না বলে রান্না চাপাতে গেল। পাগল গুলি সব আসবে আজ। ঠিক মনে আছে ওদের ম্যারেজ ডে-র কথা। সুমির মুখে হাসি কিন্তু চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। বুক ঢিপ ঢিপ করছে। কিছুই নেই ঘরে কি দিয়ে আপ্যায়ন করবে ওর জানের বন্ধুদের? জামিলটা না! দিন দিন জ্ঞান বুদ্ধি লোপ পেয়ে যাচ্ছে যেন, একটু আয়োজন করবেনা? এসব ভাবতে ভাবতে চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল সুমির। এখন অবশ্য একটুতেই মন কেমন যেন করে উঠতে থাকে সুমির। পাঁচ মাস চলছে ওর। এমন সময়ে একা থাকা যে কেমন লাগে, সুমি ছাড়া কেউ বুঝবে না।
দুই রুমের বাসা।ছোট ব্যালকনি। বসার ঘরে ফজল চিল্লাচ্ছে। সুমি মিট্মিট করে হাসতে হাসতে শুনছে ফজল আর নিপুণের ঝগড়া। সেই ক্লাস এইট থেকে যে দুইজনের ঝগড়া শুরু হল, আর শেষই হলনা।
কিছুখণ চুপ। তাড়াতাড়ি করে কাটাকাটি করতে গিয়ে হাত কেটে ফেলেছে সুমি।
রান্না উঠিয়ে দিয়ে বসার ঘরে এসে দেখে মাটিতে পাতা তোষকে অফিসের ব্যাগ মাথায় দিয়ে ফজল বেঘোরে ঘুমাচ্ছে
-টু বই অর নট টু বই, দ্যাট ইস দ্যা কোশ্চেন।
সে কোষচেন কথাটা এমনভাবে উচ্চারণ করেছে যেন কথাটা 'কোশ্চেন' না, 'কুয়েইশ্চেন'
তার কথা সগুনে ঘরের সবাই হো হো করে হেসে উঠল।
বীথি সাথে সাথে জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা ফজল, কথাটার মানে কি রে?
ফজলে রাব্বি আঁতকে ওঠার ভান করে বীথির দিকে তাকালো।বীথির প্রশ্নে আর ফজলের অঙ্গভঙ্গিতে ঘরের সবাই আবার হো হো করে হেসে উঠল।হাসি একটু কমতেই বীথি আবার জিজ্ঞেস করল, আরে হাসিস না, বল না মানে কি?
ফজল তার হাতে ধরা সিল লাগানো ওয়াইন গ্লাসে কোক আর স্প্রাইটের 'কক্টেল' এক চুমুকে শেষ করে খট করে গ্লাসটা টেবিলে রেখে বল্ল,
জানিনা।
এবার নিপুণ, জামিল আর সুমি সবচেয়ে বেশী জোরে শব্দ করে হাসি শুরু করল। কিছুখণ পর বীথি আর ফজলও হাসিতে যোগ দিল। নিপুণ হাসতে হাসতেই ফজলকে বল্ল, জোকার একটা!!
বন্ধুরা একসাথে হলে এমনই হয় আসলে। হাসির কোন কারণ লাগেনা।
আজ ৩০শে জুন, মঙ্গল্বার।সুমি আর জামিলের ফার্স্ট ম্যারেজ ডে। সবাই ভুলেই গেছিল। নিপুণ ফোন করেছিল ফজলকে, সকাল দশটায়। ফজল তখন অফিসে। কোনদিকে তাকানোর সময় নেই।তার ব্যাংক এর ইয়ার ক্লোজিং এর কাজ চলছে। নিপুণের ফোন ধরতেও দেরী হয়েছে। নিপুণ কড়া গলায় বলেছে, সত্যি যাবিনা সুমির ওখানে? ফজল ও তত জোর গলাতেই বলছে 'না। তুই পাগল? কেমনে কি?
সত্যি যাবিনা?
গাধা তুই ফোন রাখ। টাইম নাই
কিন্তু আধাঘন্টা পরে কয়েকটা কজে ভুল করে, অনেক উশখুশ করে হাত কচলে হাত কচলাতে কচলাতে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদীর মত স্যারের সামনে গিয়ে বলেছে, স্যার, আমার আজ একটু -- ইয়ে মানে ছুটি লাগবে-- আম্মা বাথরুমে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে।। স্যার আমি যাব আর আসব
তারপর মতিঝিল থেকে মিরপুর আসতে সময় লেগেছে আড়াই ঘন্টা।বাসে ঝুলতে ঝুলতে। সারাটা রাস্তা ভাবতে ভাবতে এসেছে, এক বছর পার হয়ে গেল এত তাড়াতাড়ি? এ-ক বছর?
সুমি দরজা খুলে অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল কিছুক্ষণ ফজলের দিকে।
কি হইছে? কোত্থেকে আসলি?
ফজল উচ্ছবসিত গলায় বল্ল, আর সব কই?
একরকম সুমিকে ধাক্কা দিয়েই ঘরে ধুকে গেল সে।
সুমি অবাক গলায় বল্ল, আর সব মানে? আর কে আসবে?
নিপুণ কই? নিপুণ? ফ্যান ছাড় তো সুমি? এত্ত গরম ক্যান এই বাসা? থাকস কেমনে?
বলতে বলতে পকেট থেকে ফোন বের করে ছোট টেবিলটাতেই বসে পড়ল ফজল, বিড় বিড় করছে, নিপুণের বাচ্চা!!
সুমি ফ্যানের সুইচ দিয়ে ঠান্ডা পানি আনতে গেল। ঠান্ডা তো না, ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি। ফজল দরদর করে ঘামছে। সুমি এতখণে বুঝেছে, সবাই ওর এখানে আসার প্ল্যান করেছে। ফজল আগেই চলে আসছে একা। বরাবরই একটু কম বুঝে ফজল। ওর রাগী মুখ দেখে সুমির হাসিই পেয়ে গেল। হাসি চেপে গ্লাস হাতে দাড়ালো ফজলের পাশে।
ফজল ফোন কানে নিয়েই এক নিশ্বাসে পানি খেল। বল্ল, হারামীটা ফোন ধরে না কেন!!
সুমি বল্ল, তুই কছু খাবি? ভাত খাবি?
ফজল উত্তেজনায় দাঁড়িয়ে পড়ল, দাঁড়া আগে এইটা মিমাংসা করি। বদটার জন্য আজকে আমার চাকরি যাবে। এখন ফোন ধরেনা। কেমন হারামী দ্যাখ খালি
সুমি ক্কিছু না বলে রান্না চাপাতে গেল। পাগল গুলি সব আসবে আজ। ঠিক মনে আছে ওদের ম্যারেজ ডে-র কথা। সুমির মুখে হাসি কিন্তু চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। বুক ঢিপ ঢিপ করছে। কিছুই নেই ঘরে কি দিয়ে আপ্যায়ন করবে ওর জানের বন্ধুদের? জামিলটা না! দিন দিন জ্ঞান বুদ্ধি লোপ পেয়ে যাচ্ছে যেন, একটু আয়োজন করবেনা? এসব ভাবতে ভাবতে চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল সুমির। এখন অবশ্য একটুতেই মন কেমন যেন করে উঠতে থাকে সুমির। পাঁচ মাস চলছে ওর। এমন সময়ে একা থাকা যে কেমন লাগে, সুমি ছাড়া কেউ বুঝবে না।
দুই রুমের বাসা।ছোট ব্যালকনি। বসার ঘরে ফজল চিল্লাচ্ছে। সুমি মিট্মিট করে হাসতে হাসতে শুনছে ফজল আর নিপুণের ঝগড়া। সেই ক্লাস এইট থেকে যে দুইজনের ঝগড়া শুরু হল, আর শেষই হলনা।
কিছুখণ চুপ। তাড়াতাড়ি করে কাটাকাটি করতে গিয়ে হাত কেটে ফেলেছে সুমি।
রান্না উঠিয়ে দিয়ে বসার ঘরে এসে দেখে মাটিতে পাতা তোষকে অফিসের ব্যাগ মাথায় দিয়ে ফজল বেঘোরে ঘুমাচ্ছে

