শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৫

আরেক সকালের কাহিনী

 শুক্রবার গুলি ডিলিট করে দিতে ইচ্ছা হয়। জীবনে না থাকলেই ভাল হোত।

আচ্ছা, এই যে আমি সারারাত ডিউটি করে, সকালে প্রচন্ড মাথাব্যথা আব বমি লাগা নিয়ে টলতে টলতে বাসায় ঢুকলাম, লোকটা একবার জিজ্ঞেস করতে পারল না, কেমন গেল নাইট ডিউটি? খুব খারাপ লাগছে নাকি? মুখটা এমন লাগছে  কেন? বা দশ মিনিট একটু ঘুমাও এখন অন্তত? বা মাথায় বিলি কেটে দিব?
বা শুধু শুকনা মুখেই- কেমন আছ? বা দেরি হোলো কেন? আচ্ছা এইসব কিছুই না, পশ্চিমা একটা হাই?

কিচ্ছুনা

কোনমতে দরজাটা খুলে দিয়ে সে ঘুমগ্রস্থ মানুষের মত আবার ঘুমাতে চল্ল। সারারাত কিন্তু সে ঘুমিয়েছে বাসায়। আমি ছিলাম হাসপাতালে। দুইটা ছোট ছোট বাচ্চা ছাড়া কেউ নাই বাসায়। ইতিমধ্যে ছোটজন উঠে গ্যাছে। হাসপাতালে পরে থাকা কাপড় গায়েই ওকে জড়িয়ে ধরলাম। কারণ আর কেউ নেই ওকে ধরার, দাঁত মাজানোর, খাওয়ানোর, বা শুধু বলার, যে, মা রে, একটু দুইটা মিনিট শান্ত থাকো, তোমা মা অনেক ক্লান্ত।

আমার হাসবেন্ডকে জোর করে ধরে রাখলাম, আমার পাশে একটু বস, প্লিজ, আমি মাথা নিয়ে উঠতে পারছিনা। জোর করে ওর হাত টেনে আমার কপালে চাপা দিয়ে রাখলাম। একটু বস প্লিজ। আমার কথা বলতেও খারাপ লাগছে

সে মোচড়া মোচড়ি করল, খুবই বিরক্ত লাগছে ওর। 'হাত ছাড়, আমি কি করব?' 'ধরে থাকলাম তো,' সে বলছেই। কয় সেকেন্ড ছিল তোমার হাতটা আমার কপালে? দশ? বারো? আঠারো? ছেড়ে দিলাম। আচ্ছা যাও।
ও পাশ ফিরে কম্বল মুড়ি দিয়ে মাথা পর্যন্ত ঢেকে ঘুমিয়ে পড়ল। এক সেকেন্ডে বা তার চেয়েও কম সময়ে কি কেউ সত্য ঘুমিয়ে পড়তে পারে? আমার বিদ্যা তো বলে- 'না'। কিন্তু ওর এই কম্বল মুড়ে শোয়ার সাথে সাথে আমাকে ধরে নিতে হবে, ও এক্ষনই ঘুমিয়ে পড়েছে, বা এখনো ঘুমাচ্ছেই ।। কোন শব্দ বা বাসার কোন কিছুর সাথে -এখন আর ওর কোন যোগ নেই।
বাচ্চা কে ধরবে? বাজার কি আছে? কাপড় গুছানো -ধোয়া বা রান্না বাআর কোন কিছু--  মেহমান বা দাওয়াত -- এখন পৃথিবীতে এইসব কিছু নেই।

আমার খুব অভিমান হোলো। গলার কাছে কান্না জমে গেল। এইটুকু স্পর্শ আমাকে কত ছোচলামি করে আদায় করে নিতে হয়? এতটুকু  এটেনশন কি আমি পেতে পারিনা আমার সবামীর কাছ থেকে?-- যে আমার আজ খুব অসুস্থ লাগছে? এটা শুধু আজ সকালের ঘটনা না। এটা প্রতি নাইট থেকে ফিরে আসার পরের ঘটনা। এটা আমার গত আট বছরের প্রতিদিনের ঘটনা। হ্যাঁ, এর পরেও আমি এই অবহেলায় অভ্যস্ত হতে পারিনি।
মনের এক অন্ধকার কোণায় সত্যি আজ একটা খুব বাজে কথা মনে হয়েছে। সত্যি। আমার ব্লগটাকে অতিসস্তা কোন অশ্লীলতা দিয়ে কলুষিত করতে চাইনা, শুধু এক মুহূর্তের জন্য যে বাজে কথাটা উঁকি দিয়েই মিলিয়ে গেল, সেই সত্যিটা লিখতে চাই, সেটা হল, সব পুরুষের স্পর্শ ই কি একই রকম? ওর হাত না হয়ে অন্য যেকোন পুরুষ আমার কপাল আর এক চোখে তার হাতের তালু চেপে রাখলে কি আমার এই একই রকম লাগবে? 

মিনিট পাঁচেক মরার মত পড়ে থাকলাম। ছোটজন খুব বিরক্ত করছে।ওর বোধহয় ক্ষুধা পেয়েছে। বড়জন উঠেছে, ওর ব্রাশেও পেস্ট লাগিয়ে দিতে বলছে। নাস্তা বানানো আছে, বুয়া এসে বানিয়েছে, কিন্তু ওদের নিয়ে খেতে বসতে হবে, না হলে না খেয়েই ওরা কার্টুন দেখতে শুরু করবে।

ও হ্যাঁ আমি আমার গাইনি ব্লগের জন্য আকটা লেখা লিখছিলাম আর সেটা টাইপ করে ল্যাপটপে উঠাতে আমার কিছুক্ষণ সময় লাগবে। আমি অনেক দ্রুত টাইপ করতে পারি। বিশ মিনিট এনাফ। কিন্তু আমি লিখতে পারছিনা। দুইবোন মারামারি করছে। হাজবেন্ড পাত্তা চাচ্ছে নাস্তা করতে বসে। আমাকে কি যেন জিজ্ঞেস করেই সাথে সাথে রান্নাঘরের দরজার দিকে তাকিয়ে আবার আমার দিকে তাকিয়ে বল্ল, চা কি আছে? চা বানাতে উঠলাম। না আমরা কখনো গল্পন করিনা। অতএব আমি উত্তর না দেয়াতে তেমন কোন সমস্যা হোলোনা

বাপি নামাজ পড়ে কি মনে আমার বাসায় এসেছে, বল্ল বুড়ি প্রেসারটা মাপ তো। আমার উনি আজ নামাজে যান নাই। জানিনা কেন। যদি গোসলের পানি রেডি না থকত, যদি আমি মার্কেটে যেতে চাইতাম বা আমার খালার বাসায় দাওয়াত, তাহলে তার মসজিদে যাওয়া চাই ই চাই। আজ যাওয়ার দরকার পড়েনি।

প্রেসার মাপতে গিয়ে দেখি, মেশিন নষ্ট। আমি অবাক গলায় বলে উঠলাম, আরে মেশিন কবে নষ্ট হোলো আবার?
আমার এত্ত ক্লান্ত লাগছে। আমি নিজেই দেখেছি আমার চোখ দুইটা লাগছে কিডনি রোগীর মত। বাপি চোরা চোখে আমাকে দেখছে, কেমন আছি এখনো জিজ্ঞেস করেনি, খুব হাল্কা গলায় করবে এখনই, অন্য কোন কথা খুঁজছে।

আমার উনি টিপ্পনী কেটে বল্ল, --মেশিন তো নষ্টই হবে! বাচাদের খেলার জন্য ফেলে রাখছ। প্রতিদিন ওরা এইসব মেশিন নিয়ে খেলে।
আমি কেন ওদের মেশিন দিয়ে খেলতে দিব? ওরা সত্যি খেলে? তুমি দেখেছ? উঠিয়ে রাখোনি কেন তাহলে?

-আমি কি ঊঠাবো? তুমিই তো খেলতে দিছ
আমি ছুড়ে ফেলে দিয়েছি মেশিন, লাগবেনা আমার কিছু। এইসব ডাক্তারী মেশিনপত্র দিয়ে কি করব আমি?
ও বল্ল, আর কি পারবা তুমি খালি ফেলতে পারবা জিনিস
আমার আব্বা উঠে চলে গেল। আমি তখন চিবিয় চিবিয়ে বলছি, কি করতে পারব আমি তুমি কি জানো? তোমার কোন ধারণাই নাই আমি কি করতে পারি। কি জানো তুমি?

সারাটা দিন আমার বুকের ভিতরটা খালি জ্বলছে। কিভাবে এত বড় ভুল করলাম আমি? মানুষের মুখের কথায় কেন গলে গেলাম? এত বড় গাধা আমি। অবশ্য সবার সব কথাই আমি বিশ্বাস করার জন্য হা করে বসে আছি। যেমন গতরাতে, আমি যখন হাসপাতালে ছিলাম, ক মনে করে আমার পতিদেব আমাকে দুইটা ভালো কথা বলেছিলেন, বলেছিলেন, যে আমার কথা মাঝে মাঝে যখন ওর মনে পড়ে, তখন নাকি ওর বুকের ভিতর হাহাকার করে উঠে। আমাকে এত্ত ভালোবাসে সে। কথাটা শোনামাত্র বিশ্বাস করেছিলাম।

এখন মনে হচ্ছে, এই কথাটাও আসলে ভুয়া ছিল। আর সেটা ধরতেও আমার সারা সকাল পার করতে হল। দরজা খোলার সাথে সাথেই আমার বুঝে ফেলা উচিত ছিল। অথবা কলিংবেল টিপে মিনিট দশেক হাবার মত দাঁড়িয়ে থাকার সময়টাতে। অন্য সকাল গুলোর মতই।

মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৫

এইবার ঠিক চিনেছি

এতদিনে, অবশেষে মানুষ চিনতে পারছি। অবশেষে। এত সহজ যে কাজ টা, আগে জানতাম না। আগে জানলে অবশ্য খুব কি বেশি রকম ফের হত? কিছুটা হোতো, কষ্ট একটু কম পেতাম জীবনে, এই তো।
ভুল গুলো ঠিক ভুলই থাকত, এমন না যে আগে মানুষ চিনতে পারলে এই ভুল গুলো করতাম না। নিজেকেও চিনেছি,তাই নিশ্চিত হয়েই বলছি।

এইবার যখন মানুষ চিনেই ফেললাম আমার নব- আবিষ্কৃত ফরমূলা দিয়ে, দেখি এইবার পুরোদস্তুর কষ্ট-শূন্য- ভূলহীন- আবেগশুন্য সফল রোবট হতে পারি কিনা

সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৫

নতুন লেখা

আজ আরেকটা নতুন লেখা দিয়েছি আমার ব্লগে,polyhydramnios নিয়ে। এরপর লিখব molar pregnancy নিয়ে, জেফকটের চ্যাপ্টারটা প্রায় শেষ পড়া, আর একটু বাকি আছে। ঘুমাতে যাব এখন। অনেক বেজে গেছে,১২ টা ৪৪। দুই বিচ্ছুই জেগে আছে, গল্পে মশগুল। শিত নেমেই গেল প্রায়। দুই দিন ধরে আবার হাতের ব্যথায় ভুগছি। আজ তাও একটু কম। কাল ডানহাতের কবজি থেকে আঙ্গুল পর্যন্ত একেবারে ফুলে ধোল হয়ে ছিল। কবে আমি সম্পূর্ণ ঝামেলা মুক্ত হব আর আমার মনের মত জীবন কাটাবো, অর্থপূর্ণ সার্থক দিন, কর্মময়, সাফল্যময়, হাশিখুশি, ফিট। হাতব্যথা, কোমরব্যথা বা মাথব্যথা থাকবেনা, সময়মত ইবাদত করব, বাচ্চাদের শিখাবো সব।

কেন যেন আবার সেলাইয়ের ভূত ইদানিং আবার আশেপাশে ঘুরঘুর করছে। বন্ধ করে ফেলে রাখা স্নো এর মলাট্টাও চোখে পরছে বারবারই। মনে মনে ভালো খেজুরের গুড়ও খুঁজছি। মুবিন থাকতে থাকতে একদিন ভাপা আর চিতই বানাবো, আর কিছু তো পারিনা। পারলে পাটিসাপ্টা টা এবার বানানো শিখব, মনে তো হয় সোজাই হবে। আরো কিছু পিঠার রেসিপি দেখতে হবে ইউটিউবে, যেমন পোয়া পিঠা আর জিলাপী। শখ লাগছে।

কিন্তু সময় কই এত কিছুর? জানিনা। সময় বের করতে হবে। পূর্ণ স্বাদ নিতে চাই বেঁচে থাকার। এইটাই আজ আমার নতুন লেখা।

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৫

ঘুম আসেনা রোগ

ইদানিং আমার ঘুমে এমন সমস্যা হচ্ছে যে বলার না। দিনের প্রায় বশ বাইশ ঘন্টাই জেগে থাকি। ইচ্ছা করে না, ঘুম আসেনা। ঘুমাতে ইচ্ছাও হয়না। তখন অবশ্য পড়ালেখা করি না। না গল্পের বই না পড়ার বই না অন্য কিছু। কিছু সময় ফেসবুক দেখি। আর বাকি সময় শুধু তাকিয়ে থাকি। খালি মন খালি মাথা নিয়ে এভাবে জেগে বসে থাকার আসলে কন মানে হয়না, নিজেকে ভূতের মত লাগে। মানে ভয়- লেখানো ওলা ভূত না, ম্থায় যত্নের অভাবে জটা ধরেছে,এমন ভূত। কেন এমন ঘুম আসেনা রগ হল বুঝতে পারছিনা।

মা আমাকে বলে আমি নাকি অনেকেরই ঈর্ষা-র পাত্রীতে পরীণত হয়েছি। এত ভালো আছি, চাকরী করছি, বাচ্চা পালছি, রান্না বান্ন ঘরকন্না, চাকরী পড়ালেখা ফেসবুকিং, বরের দামী গাড়িতে ঘুরি, আমার তো সুখই সুখ। আমি এতগুলো পজিটিভ জিনিস একসাথে মিলিয়ে দেখিনি আগে, আমি চাইনা কেউ আমাকে ঈর্ষা করুক। কিন্তু আসলে ভালই তো আছি। আমার বরও ইদানিং নাকি আমাকে অনেক হাসিখুশি দেখতে চায়, আমি নাকি অনেক গম্ভীর হয়ে গেছি, রাগি হয়ে গেছি। বাচ্চারা আমাকে ভালবাসে, কিন্তু আমাকেই ভয় পায়।

আসলে খালি মন খারাপের সময়ই এই ব্লগের পাতাটা খুলে বসি।
সারাদিন খুব ভালো ছিলাম আমি খুব ভাল
কিন্তু এখন আবার ঘুম না আসার রোগে ধরেছে।ঘুম আসছেনা। যদিও জানি ঘুমানো খুব দরকার এখন, কিন্তু ঘুমাতে একদম ইচ্ছাও করছেনা

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৫

গ্রুপ স্টাডি : গাইনী- নোভিস

আজ ফেসবুকে একটা নতুন গ্রুপ খুলেছি। ব্যাপারটা যদিও এত সজাসাপ্টা ভাবে বলা ঠিক হচ্ছেনা। এর পিছনে কিছু কাহিনী আছে।

কাল আমি দুপুর এগারোটা বাসায় ফিরেছি, আগের দিন বিকাল রাতের ডিউটি করে, গাড়ির জন্য দশটা পর্যন্ত বসে থেকে, ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে, ক্লান্তির চরম সীমায় গিয়ে। বাসায় ধুকে দেখি সাহেব তখোনো আছে, বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে এসে শুয়ে ঘুমাচ্ছে,ওর শরীর ভালোনা, টেবিলে ময়লা কড়াইয়ে ভাজা দুইটা ডিমপোচ আর রুটির বাটিতে রুটি। সুজি রান্না করতে শুরু করলাম। জানি, এই ডিম সে খাবে না। চায়ের পানি চুলায় দিয়ে বাপিকে ফোন করে বললাম, স্কুল থেকে বাচ্চাদের এনে দাওনা প্লিজ?
আমি পড়তে বাসলাম। ইদানিং পড়াতেই শুধু ভাললাগে, আর কিছুতেই না।
ওরা আসল, গোসলের খাওয়ার যোগাড় যন্ত্র করতে করতে সাহেব উঠে,রেডি হয়ে খেয়ে অফিসে চলে গেল। চা টাও একসাথে খেলনা আমরা সাথে বসে। এই আট বছরেও এই অবহেলাটুকু হজম করা শিখে উঠতে পারলাম না। মন ভীষণ খারাপ হল।

দিন কাটল। লেখা পোস্ট দিলাম, বৃহন্নলা নিয়ে। সারাদিনে লেখাটা কেউ পড়েনি, তাই মন ভার টাও গেলনা।
ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলাম রাত আটটায়, নাহলে ইদানং ডিউটির মাঝের সময়টুকু তে মাথা ঠান্ডা রাখতে পারিনা, পারছিনা, ঘুম কিছুতেই আসেনা, বা আসলেও বিজবিজ করে মাথার ভিতর কথা চলতেই থাকে। বাচ্চাদের সাথে ঠাসাঠাসি করে ঘুমাতেও কষ্ট হয়। কার কি?

আজ ওদের স্কুলে নামিয়ে দিয়ে হাসপাতাল আসতে পোনে দশটা বেজেছে কাটায় কাটায়। ভাগ্যিস আটট থেকে আজ কেউ খোঁজ করেনি, তবে করতে পারত।
বারোটার পর ইনিয়ে বিনিয়ে সে জানতে চাইল, আমি কি বাচ্চাদের নিয়ে বাসায় ফিরেছি ভালমত? জাম ছিল নাকি খুব রাস্তায়?
মেজাজ ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ল । আজ ডিউটি মনে হয় জানেইনা সে।
জানবেই তো না। আমার চাকরী পড়াশুনা ক্যারিয়ার তো দুধ-ভাত, অদৃশ্য। অপ্রয়োজনীয়। বাহুল্য। আর কি? আরো  নিকৃষ্ট কিছু।

আমি জানি আমি ছোট একটা চাকরি করি,প্রায় আমার সমান বেতন দিয়ে সে মানুষ পুষে। হাত খরচের টাকা দফায় দফায় পাই, সাকুল্যে দশ হাজার। একবারে দিলে নাকি আমি খরচ করে ফেলব। লাগে খুব। মাঝখানে খেয়াল করিনি ব্যাপার গুলো। এনামে ঢোকার পর লাগছে। যদিও গাড়িতে আসি গাড়ি তে যাই। কিন্তু এইটা লোকদেখানো না কে বলবে? লোক দেখানো না। সে চায়না আমার কষ্ট হোক, জানি, কিন্তু এও চায়, আমাকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরানোর হাতল টা সেই ধরে রাখুক

যাহোক কাল একটা মোটিভেশনাল ভিডিও দেখেছিলাম, এক বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চাও আর সেই জন্য আজ তুমি কি কাজ করলে?
ভাবলাম কিছুক্ষণ কিন্তু দীর্ঘনিঃশ্বাস ছাড়া কোনো উত্তর পেলাম না নিজের কাছ থেকে।

ঠিক করলাম আজ বাসাতেই ফিরবনা। সত্যি সত্যি হাসপাতালে বসে থাকব। করছিও তাই। বসে বসে ফেসবুকে গ্রুপ খুললাম। সন্ধ্যায় গাড়ি আসবে।

জানি বাসায় যাওয়া মত্র রাজ্যের ক্লান্তি আর অপরাধবোধ ঘিরে ধরবে আমাকে, কেন আজকের দিনের আদর থেকে বাচ্চা দুইটাকে বঞ্চিত করলাম? গ্রুপ খুলে কি হল? আহা উহু ছাড়া কে কি বলবে এখানে? তোমার যা ভাল লাগে আর কারো সেটা লাগতেই হবে কেন? ফলাফল- আবারো একটা ঘুমের ওষুধ খাবো আজ রাতে।


বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৫

অসম্পূর্ণ অধ্যায়

জানিনা কেন এমন হচ্ছে। শুধু কি আমার সাথেই এমন হচ্ছে নাকি অন্য সবার সাথেও হয়?

কালকের ঘটনা বলি। আমি হসপিটালে ছিলাম,আমার বিকাল-রাতের ডিউটি। সাথে বরাবরের মতই বই খাতা নিয়ে গিয়েছিলাম। যাওয়ার সময় পথে ল্যাপটপে ইন্টারসেক্স চ্যাপ্টার নিয়ে বাংলা কথা টাইপ করতে করতে গেছি। গিয়ে কিছুখন কাজ করলাম। এরপর জেফকট খুলে বসলাম। মাঝে মাঝে উঠে কাজ করেছি, রাউন্ড হয়েছে আর খেতেও গিয়েছি, কিন্তু টেক্সট- বইয়ের মুগ্ধতায় আর সব কিছু হালকা লাগছিল। পড়ছিলাম malformation of female genital tract, রাত দুইটা পর্যন্ত পড়েছি। সকালে উঠেও।

আমি বলতে পারবনা টেক্সট-বই পড়তে আমার এত ভালো লাগে কেন। দত্ত পড়তে কষ্ট হয়, তবু ভালো লাগে। পড়ি টুকিটাকি। সবাইকে ডেকে ডেকে বলি। বলোতো, কেন এমন হল?  উত্তরকারীকে একটু চিন্তা করতে সময় দেই, যেই কাছে পিঠের একটা শব্দ বলে আমতা করতে করতে, তখনই ঠিক বলেছ, বলে জিনিস্টা বলতে থাকি। আপু, ডেমো দেন কি পড়লেন, বলা লাগেনা, বললে আরো ভালো, আমি ডেকে ডেকে শুনাতে থাকি।

এটা কি রোগ হয়ে গেল?
অসম্পূর্ণ অধ্যায় গুলার জন্য মন কেমন করে আমার
আর সবারই কি এমন হয়?
না আমারই হচ্ছে এমন পিকুলিয়ার রোগ

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৫

মোটা না আপু, আপনি ফোলা-ফোলা

জেবা আমাকে বলেছে,-- 'আপু, আপনি একটা কাজ--- আচ্ছা আপনি একদম নিজের জন্য একটু সময় বের করতে পারেন না?- প্রতিদিন টাফ, জানি- কিন্তু-- । আচ্ছা আপু, মাইনষের জন্য এত কিছু না কোরে--?"

আমরা রাউন্ডে ছিলাম।ম্যাডাম কেবিনে ঢুকেছেন, আমরা দুইজন পিছনে, নিচু গলায় কথা বলছি। জেবা কথা বলতে বলতে মাঝে মাঝে কয়েকটা শব্দ বাদ দিয়ে কথা বলে।সে আমাকে উৎসাহিত করছে কিভাবে আমি ওজন কমাতে পারি। সে প্রথম থেকেই আমাকে মোটিভেট করে যাচ্ছে। আমি দুইবার ওর কাছে থেকে ডায়েট লিস্ট নিয়েছি।একবারও পড়ে দেখিনি। আর অসংখ্য উপদেশ আর স্বাস্থ্য-বটিকা দিয়েছে।শুনি আর ভুলি আর কিছুই মানিনা।খেতে বসে আগে ভাত খাই এতগুলি তারপর ওর উপদেশবাণী মনে পড়ে। 
জেবা হাল ছাড়েনি।হয়ত রাগ করতে পারে। কিন্তু আজ আমি একদমই হাঁটতে পারছিনা,খুব কোমর ব্যথা করছে, তাই
ও আমাকে আজ আবার নতুন করে বলছে।

জীবনে প্রথম উপদেশবাণী দিয়েছিল আশেকের আম্মা।আন্টি একদিন স্কুলের মাঠে সকাল বেলায় বলা নাই কওয়া নাই আমাকে দাঁড় করালো। ফোর বা ফাইভে পড়ি। ফোরই সম্ভবত। বল্ল, সিঁথি, শুনো, তুমি হাঁটবা।
আমি অবাক।বলে কি? হাঁটবো মানে কি?

আমি সারাজীবনই ভদ্র মেয়ে। আন্টিকে ভেংচি কেটে দৌড় দেয়া উচিত ছিল।কিন্তু ভ্যাবলার মত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দশ মিনিট ব্যাপী বক্তৃতা শুনলাম যে, মোটা হওয়া খারাপ কিছু না, অনেকেই মোটা।তবে অনেক হাঁটতে হবে আমাকে।

ইমন ভাইয়ার উপর একবার অনেক রাগ করেছিলাম। কান্নাকাটি, চিল্লাচিল্লি। উনি যে আমার ভালো চেয়ে আমাকে এলার্ট  করতে চেয়েছেন, বুঝতেও চাইনি।এখন আমাকে কেউ কিছু বলেনা। মোটা থেকে মোটাতর হচ্ছি।অনেকে অবশ্য জানতে চায়,আমার বর আমাকে মোটা নিয়ে কিছু বলেনা?
আসলেই কেন এত মোটা হচ্ছি? অনেকে বলে যে সুখে আছি, তাই। অনেকে আমাকে বলেওছে, আমি নাকি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষ!

আমার একটা সমস্যা ছিল এবং আছেও যে, আমি জানিনা আমি মোটা। জানিই না? এহ! এইটা একটু বেশি হয়ে গেলনা?
নাহ মোটেও না। জানিই তো না। কখন জানলাম?!
উপদেশগুলি শুনে তাই অবাক হতাম যে, কেন মানুষজন এগুলো আমাকে বলছে?

মাদাগাস্কার ছবির মহিলা জলহস্তির মত। যে জানত না সে মোটা, নিজেকে খুব সুন্দরী আর আকর্ষণীয় ভাবত, আর তার এই এটিচিউডে তার আশেপাশের কারো কোন সমস্যা ছিলনা।

তবে ইদানিং আমি ধরতে পেরেছি, আসলেই অনেক মোটা হয়ে গিয়েছি।সেইন্টমার্টিনের ছবিতে নিজেকে মিষ্টিকুমড়ার মত লাগছে ছিছিছি

জেবার কথায় ফিরে আসি, সে উপদেশ দিল, যেন নিয়ম করে আমি নিজের জন্য সময় বের করি এবং সময়টা ইউটিলাইজ করি। পুরান কথা। লাভ ইয়োরসেলফ। এটা আমাকে বলেছিল সাবরীনা। হোস্টেলে। এখন আমার নতুন মোটিভেশন দরকার। আদনান সামীর ছবি প্রিন্ট করে ফেলব নাকি কয়েক গন্ডা?

মাথা কাজ করছেনা।ব্রেইনে গ্লুকোজ দরকার। এইজন্য শর্করা -আই মিন - ভাতের সাপ্লাই লাগবে। জেবার পাল্লায় পড়ে রাতে ভাত খাইনি।খিদার মোচড় শেষ হয়ে পেটে একটা মরা মরা ব্যথ করছে। ডিউটি রুমে খাবার কিছু খুঁজে না পেয়ে রাত সাড়ে এগারোটায় প্রায় পৌণে এক লিটার স্প্রাইট খেয়ে ফেলেছি। মন খারাপ হওয়া শুরু হয়েছে। মনে হচ্ছে এখন এক প্লেট গরম ভাত খেলেও এই মন খারাপ দূর হবেনা। আচ্ছা, এই ভাত নামের জিনিসটা আবিষ্কার করেছিল কে?

সবাই বলে, ভাত খাইস না।শসা খা। শসা দেখলে খাইতে তো ইচ্ছা করেই না, কানতে ইচ্ছা করে। আমি ভাত ছাড়া কিছু চিনিনা।
ভাত বাদে অন্য জিনিস খা। যত খুশি খা।
ঠিক আছে। কিন্তু পেট ভরেনা।
পেট বোধহয় ভরে। মন ভরেনা।

ওইযে একটা টার্ম আছে না 'কার্বোহলিক'। ভাতের বোধহয় একটা নেশা আছে, তাইনা? না হলে আমি ভাতকে ছাড়তে চাইলেও ভাত আমাকে ছাড়তে চাইছেনা কেন??

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৫

আমার অনেক ঘুম দরকার

কিছুদিন ধরে ভালোরকমের বিষণ্ণতায় ভুগছি। ব্যাপারটা প্রথমে বুঝতে পারিনি। এবারের বিষণ্ণতাটা চোরা-গুপ্তা। অন্যবারের মত বিরক্তি, রাগ বা বিধ্বংসী কোন আবেগ বয়ে আনেনি, তাই ধরতে পারছিলামনা আসলে সমস্যাটা কি। বুধবার রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত আমি বুঝতে পারিনি আসলে কি ঘটছে। সাড়ে এগারোটায় ধরতে পারলাম আমি চরম বিষণ্ণতায় ভুগছি। এবং আমি বুঝে গেলাম এই বার আমার জন্য এখানথেকে বের হয়ে আসা মোটামুটি অসম্ভব একটা ব্যাপার। আর শুক্রবার। এখন রাত বার টা ১৮। এখনো বিষন্নতা নিয়েই আছি। বের হয়ে আসিনি। পথ খুঁজে পাইনি  অথবা চেষ্টাও করিনি। তবে লেখা যখন শুরু করেছি, বুঝতে পারছি, এর মধ্যে আমি আর থাকতে চাচ্ছিনা। এবং, আমি তো আমাকে চিনি, আমি আজ একটা উপায় বের না করা পর্যন্ত লেখা থামাবো না। অথবা আরেকটু অন্যভাবে বললে, লেখা শেষ হতে হতে আমি আজই একটা উপায় বের করে ফেলব।

হাহাহা, নিজের উপর আমার চরম বিশ্বাস। নিজেকেই আমি সবচেয়ে ভালোবাসি আর এত ভালোবাসার ধারে কাছে অন্য কেউই নেই।

নাহ মন খারাপের চোটে আর কিছু লিখতে পারছিনা। আমি বোধহয় সেই দিন গুলিতে ফেরত যাচ্ছি, যখন পাগল হয়ে বা সেজে আমি পিজি হাসপাতেলের মানসিক বহির্বিভাগে দেখাতে গিয়েছিলাম। আট নয় বা বারোতলায় প্রফেসরের রুমে ক্লাস হচ্ছিল যখন আমার হিস্ট্রি নিচ্ছিল স্যার, প্রায় চল্লিশজন স্টুডেন্ট, আমাকে জিজ্ঞেস করল স্যার, আপনি কেন এসেছেন?
আমি বললাম, আমি খুব কষ্টের মাঝে আছি। সারাখন খুব মন খারাপ থাকে, বাসায় যতখন থাকি, কাপড় ধুই। এর মানে এমন না, আমার শুচিবায়ূ আছে,মনে হয় এটা ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই। সারাদিন রাতে গাদা গাদা কাপড় ধুতে থাকি। আর একদিন কি ভাবি, আরেকদিন সেটা মনে করতে পারিনা।
আমার চোখ দিয়ে আপনা আপনি পানি পড়ছে। আমি নিজেও জানিনা কেন কাঁদছি। মনে হচ্ছিল কে কি ভাবে আমার তাতে কিছু আসে যায়না।

আপনি কি করেন?
আমি ডাক্তার।
কি করেন? কোথায় আছেন?
আমি  কিছু করছিনা এখন। গাইনী তে পার্ট ওয়ান পাশ করেছি।

সারা রুম ভর্তি এতজন মানুষ, কিন্তু স্যার আমার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় কথা বলছেন।
আপনার  কি মনে হচ্ছে এখানে এসে আপনি কোন উপকার পাবেন?
হ্যাঁ। আমার মনে হচ্ছে আমি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি, তাই এখানে এসেছি। আমার সাহায্য দরকার। আমি আমার অবস্থা থেকে বের হতে পারছিনা

এত কষ্ট হচ্ছিল। এখন যে লিখছি, এখনো কষ্ট হচ্ছে।
আমার জন্য একজন কাউন্সিলর ঠিক করা হল। আরফা হক। ফরসা মিষ্টি দেখতে, দাঁতগুলো খুব সুন্দর, আমার অনেক ছোট। আমি আপনি করে কথা বলছিলাম। কাগজ পেন্সিল নিয়ে মুখোমুখি চেয়ারে বসে সে কথা নোট করছিল। খুব এক্সপার্ট না সে, ছাত্র, কিন্তু আমি জানি, সে রুটিন কাজ করছে। আমি বাসে করে ভীড় ঠেলে একা একা এই ব্লক সেই ব্লক ঘুরে বহু কাহিনী করে এখান পর্যন্ত এসেছি। কাউন্সি্লিং-এ কি কাজ হল,আমি জানিনা, আমার চেষ্টাকে আমি বাহবা দিতে শুরু করলাম। দুই দিন গিয়েছি। তারপরের সপ্তাহে আমি ময়মনসিংহে চলে গেলাম। ট্রেনিং এ ঢুকলাম, কিন্তু সিদ্ধান্ত ধরে রাখতে পারছিলাম না। আমি সারাখন মনমরা হয়ে থাকতাম, মাঝে এক দুই দিন যাইওনি হাসপাতালে। নূরী আপু, রিংকি আর লোপা আমাকে ধরল। নূরী আপু বল্ল, কি সিথি,ট্রেনিং কি আবার ছেড়ে দেয়ার চিন্তা করছ নাকি? তোমারতো হিস্ট্রি আছে ট্রেনিং ছাড়ার। ট্রেনিং কিন্তু ছাড়বা না। তুমি ভাই পাগল মানুষ।পাগলামী কর, কোন সমস্যা নাই, কিন্তু ট্রেনিং ছাড়বা না।
আমি ধীরে ধীরে হাসিখুশি হতে থাকলাম। ট্রনিং করতে থাকলাম।আমার কাপড় ধোয়া রোগ ভালো হল।

বুধবার রাত সাড়ে এগারোটায় বুঝতে পারলাম, আমি এখন এমন একটা জায়গায় আটকে গেছি, যেখান থেকে কোন এস্কেপ প্ল্যান নেই। আমার যাওয়ার জায়গা নেই, এমন না। আমি মানসিক ভাবে বাঁধা পড়ে গেছি। আমার সামনে দেয়াল। এইবার আমি আবার পিছনে যাওয়া শুরু করব। দেয়াল ভাঙ্গতে পারব না। কে জানে, এই ডেড এন্ড এর গোলক ধাঁধাতেই আবার ঘুরপাক খেতে থাকব।

প্রায় আটমাস থেকে আমি বৃহস্পতি বার নাইট ডিউটি করছি। শুক্রবার আটটায় আমাকে বাসায় নিয়ে আসার জন্য প্রাইভেট কার অপেক্ষা করে। কিন্তু শুক্রবার সকালে আমার বাসায় ফিরতে ইচ্ছা করেনা। মনে হয় গাড়িটা নিয়ে একদিক থেকে একটু বেড়িয়ে আসি, আজ আর বাসাতে যাবোনা। আচ্ছা যাবনি, একটু পরে যাই। আজ সকালেও ইচ্ছা হচ্ছিল হসপিটালের পাশের মাঠে গাড়িটা কিছুক্ষন ঘুরাতে বলি কারণ ছাড়াই। বলিনাই। কানে ইয়ারফোন গুজে দিয়ে বাসার উদ্দেসশ্য রওনা দিলাম। আকাশ বাতাসও অসহ্য লাগছিল। গানগুলোও।গাবতলী যখন পার হচ্ছিলাম, আমার রীতিমত বুকে ব্যথা করছে।

একদিন ফেসবুকে মেরুনকে বলেছিলাম, আমার বাসায় যেতে ইচ্ছা হচ্ছেনা। আমি ডিউটিরুমের চেয়ারে বসা।
ও বল্ল, যা আপু, বাসায় যা।

বাসায় এসে কাপড় না বদলেই ঘর ভর্তি আধাভেজা কাপড় বারান্দায় মেলে দিলাম। ছোটজন উঠে গ্যাছে,ওকে খেতে দিলাম, আমিও নাস্তা করলাম। সকালে বুয়া এসে নাস্তা বানিয়ে গেছে, থালাবাটি ধুয়েছে আর ঘর মুছেছে, কিন্তু সারা বাসা লন্ডভন্ড। কোন জিনিস জায়গামত নেই। ঘর গুছাতে গুছাতে তিনটা বাজল। রোবটের মত কাজ করে যাচ্ছি। কিচ্ছু ভালো লাগছেনা। কাল রাতে একটা মরা বাচ্চা ডেলিভারী করিয়েছি। কাপড়টা অন্তত বদলানো উচিত ছিল।তাও মনে চাচ্ছেনা। বাচ্চারা ভয়ে আমার কাছেও আসছেনা। ওদের একবার কিছু বললে শুনতেও চাচ্ছেনা। আমার হুট করে রাগ লাগছে। হুট করে কান্না পাচ্ছে। পিঠ ব্যাথা করছে। একটু বিশ্রাম নিতে পারছিনা। ইচ্ছাও করছেনা। কিচ্ছু ভালো লাগছেনা আমার কিচ্ছুই না। সন্ধায় সেজেগুজে দাওয়াত খেতে গেলাম। তাও ভালো লাগছেনা কিছু।

কই সিঁথি তোমার সমাধান?
আমি কি আবার যাবো বহির্বিভাগে?
ওজন কমানোতে মনোযোগ দিব?

এটা হাস্যকর সিঁথি, প্লাসেন্টার স্টেরয়েড হরমোনের জন্য তুমি এমন অদ্ভুত আচরণ করতে পারোনা। and those hormones? they dont give you a shit! এখন পড়তে হবেনা। পড়তে হলে গল্পের বই পড়। আর এত এত কাহিনী না করে এত বড় ব্লগ না লিখে তুমি চ্যাপ্টার টা শেষ করতে পারতে। হাস্যকর। তোমার কোন বিষণ্ণতা নেই। বাসাটা এলোমেলো থাকলেই হত। কেন গুছাতে গেলে? এখন মনে হচ্ছে সময় নষ্ট করেছ? এখন ঘুমাও সিঁথি। আর সারাক্ষণ মনে মনে কথা বলা বন্ধ কর। you need to sleep, sleep like a baby ...

বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৫

আশা নাকি হতাশা

আজ আমার জীবনে একটা দারুণ ঘটনা ঘটল। এসোসিয়েট প্রফেসর ডা. শিউলী বেগম ম্যাডাম আমাকে ফোন করে বলেছেন, শবনম, তুমি এত ভালো লেখো?!!

উনার কাছে আমার নাম্বার সেভ করা ছিলনা, আমি দশ মাস ধরে এনাম মেডিকেলে চাকরী করি, আমার ভাইয়ের বউ এর সিজার উনি করেছেন, কিন্তু আমি হয়ত সেভাবে উনার মনে দাগ কাটতে পারিনি, আমার নাম্বার উনার কাছে সেভ করা ছিলনা। ম্যাডামের দুইটা নাম্বার আমার কাছে আছে। আমি উনাকে খুব শ্রদ্ধা করি, অনেক পছন্দ করি। তাই ম্যাডাম যখন ফেসবুকে আমার লেখা দেখে, চেম্বারে বসে পড়েছেন, আমার নাম্বার নেই বলে আকলিমা কে ফোন করে নাম্বার নিয়ে আমাকে ফোন করে অভিবাদন জানিয়েছেন, আমি সত্যিকার অর্থেই কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম।

একটা লেখায় তিনি লাইক দিয়েছেন, শিরোনাম বেগুনি টি-শার্ট, আর যে লেখার জন্য উচ্ছ্বসিত হয়ে আমাকে ফোন করেছেন, সেটা হল আমার StudyinGynae ব্লগের লেখা 'অমরা -কথা- protein hormones from placenta' লেখাটা আজই পোস্ট করেছি। পাবলিক পোস্ট। ম্যাডাম আমার ফ্রেন্ড-লিস্টে না থেকেও তাই দেখতে পেয়েছেন।

আমি দশ বার অন্তত thankyou বলেছি ম্যাডামকে। ফোন রেখে দেখি গাল গরম হয়ে গ্যাছে। ইউ-টিউবে মাধুরীর গান ছেড়ে দিলাম, চোলি কি পিছে ক্যা হে, আমার খুব প্রিয়। আর প্রিয়-র চাইতে বড় কথা হল, কেন এই গানটার কথা মনে পরল নিজেও জানিনা, গত দশ বছরেও এই গানটা এক বারো শুনিনি।

আমি পুলকিত, আনন্দিত, ম্যাডামের কাছে ধরা পড়ে যাওয়াতে একটু ভয় ভয়ও লাগছে। সাথে সাথে আমার মা আর আমার সাহেবকে ফোন দিয়ে ফেললাম।

বাহ আজ দেখি বিরাট কান্ড করে ফেলেছি!

কিন্তু আমার চ্যাপ্টারটা পড়া তো শেষ হয়নি। স্টেরয়েড হরমোন টুকু নিয়ে বসা দরকার।
এখন বাচ্চাদের বিছানা বানাতে হবে। খাবার রেডি করতে হবে। কাল আমার চব্বিশ ঘণ্টা ডিউটি। তাড়তাড়ি ঘুমিয়ে পড়া দরকার।

তারপর আমার  উচ্ছ্বাস ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। ক্ষণস্থায়ী উড়া উড়ি শেষ হল। বুঝলাম, হবে না কিচ্ছুই হবে না আল্টিমেটলি আমাকে দিয়ে। হয়ত টুকটাক পড়ে আর লিখে এইভাবে মন্টাকে শুধু বাঁচিয়ে রাখতে পারব। টবে জন্মানো গাছের মত।

আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যে কোন কিছুই হোক, আমি ভালো থাকব। থাকবই আমি। কিছুতেই হতাশ হব না। তবে হ্যা, ব্র্যাকেটে লিখা আছে, আশাও হিসাব করেই করব আমি। আমি এই জীবনের নাম দিয়েছি ব্যালেন্সড লাইফ