বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৫

গ্রুপ স্টাডি : গাইনী- নোভিস

আজ ফেসবুকে একটা নতুন গ্রুপ খুলেছি। ব্যাপারটা যদিও এত সজাসাপ্টা ভাবে বলা ঠিক হচ্ছেনা। এর পিছনে কিছু কাহিনী আছে।

কাল আমি দুপুর এগারোটা বাসায় ফিরেছি, আগের দিন বিকাল রাতের ডিউটি করে, গাড়ির জন্য দশটা পর্যন্ত বসে থেকে, ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে, ক্লান্তির চরম সীমায় গিয়ে। বাসায় ধুকে দেখি সাহেব তখোনো আছে, বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে এসে শুয়ে ঘুমাচ্ছে,ওর শরীর ভালোনা, টেবিলে ময়লা কড়াইয়ে ভাজা দুইটা ডিমপোচ আর রুটির বাটিতে রুটি। সুজি রান্না করতে শুরু করলাম। জানি, এই ডিম সে খাবে না। চায়ের পানি চুলায় দিয়ে বাপিকে ফোন করে বললাম, স্কুল থেকে বাচ্চাদের এনে দাওনা প্লিজ?
আমি পড়তে বাসলাম। ইদানিং পড়াতেই শুধু ভাললাগে, আর কিছুতেই না।
ওরা আসল, গোসলের খাওয়ার যোগাড় যন্ত্র করতে করতে সাহেব উঠে,রেডি হয়ে খেয়ে অফিসে চলে গেল। চা টাও একসাথে খেলনা আমরা সাথে বসে। এই আট বছরেও এই অবহেলাটুকু হজম করা শিখে উঠতে পারলাম না। মন ভীষণ খারাপ হল।

দিন কাটল। লেখা পোস্ট দিলাম, বৃহন্নলা নিয়ে। সারাদিনে লেখাটা কেউ পড়েনি, তাই মন ভার টাও গেলনা।
ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলাম রাত আটটায়, নাহলে ইদানং ডিউটির মাঝের সময়টুকু তে মাথা ঠান্ডা রাখতে পারিনা, পারছিনা, ঘুম কিছুতেই আসেনা, বা আসলেও বিজবিজ করে মাথার ভিতর কথা চলতেই থাকে। বাচ্চাদের সাথে ঠাসাঠাসি করে ঘুমাতেও কষ্ট হয়। কার কি?

আজ ওদের স্কুলে নামিয়ে দিয়ে হাসপাতাল আসতে পোনে দশটা বেজেছে কাটায় কাটায়। ভাগ্যিস আটট থেকে আজ কেউ খোঁজ করেনি, তবে করতে পারত।
বারোটার পর ইনিয়ে বিনিয়ে সে জানতে চাইল, আমি কি বাচ্চাদের নিয়ে বাসায় ফিরেছি ভালমত? জাম ছিল নাকি খুব রাস্তায়?
মেজাজ ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ল । আজ ডিউটি মনে হয় জানেইনা সে।
জানবেই তো না। আমার চাকরী পড়াশুনা ক্যারিয়ার তো দুধ-ভাত, অদৃশ্য। অপ্রয়োজনীয়। বাহুল্য। আর কি? আরো  নিকৃষ্ট কিছু।

আমি জানি আমি ছোট একটা চাকরি করি,প্রায় আমার সমান বেতন দিয়ে সে মানুষ পুষে। হাত খরচের টাকা দফায় দফায় পাই, সাকুল্যে দশ হাজার। একবারে দিলে নাকি আমি খরচ করে ফেলব। লাগে খুব। মাঝখানে খেয়াল করিনি ব্যাপার গুলো। এনামে ঢোকার পর লাগছে। যদিও গাড়িতে আসি গাড়ি তে যাই। কিন্তু এইটা লোকদেখানো না কে বলবে? লোক দেখানো না। সে চায়না আমার কষ্ট হোক, জানি, কিন্তু এও চায়, আমাকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরানোর হাতল টা সেই ধরে রাখুক

যাহোক কাল একটা মোটিভেশনাল ভিডিও দেখেছিলাম, এক বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চাও আর সেই জন্য আজ তুমি কি কাজ করলে?
ভাবলাম কিছুক্ষণ কিন্তু দীর্ঘনিঃশ্বাস ছাড়া কোনো উত্তর পেলাম না নিজের কাছ থেকে।

ঠিক করলাম আজ বাসাতেই ফিরবনা। সত্যি সত্যি হাসপাতালে বসে থাকব। করছিও তাই। বসে বসে ফেসবুকে গ্রুপ খুললাম। সন্ধ্যায় গাড়ি আসবে।

জানি বাসায় যাওয়া মত্র রাজ্যের ক্লান্তি আর অপরাধবোধ ঘিরে ধরবে আমাকে, কেন আজকের দিনের আদর থেকে বাচ্চা দুইটাকে বঞ্চিত করলাম? গ্রুপ খুলে কি হল? আহা উহু ছাড়া কে কি বলবে এখানে? তোমার যা ভাল লাগে আর কারো সেটা লাগতেই হবে কেন? ফলাফল- আবারো একটা ঘুমের ওষুধ খাবো আজ রাতে।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন