সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৫

মোটা না আপু, আপনি ফোলা-ফোলা

জেবা আমাকে বলেছে,-- 'আপু, আপনি একটা কাজ--- আচ্ছা আপনি একদম নিজের জন্য একটু সময় বের করতে পারেন না?- প্রতিদিন টাফ, জানি- কিন্তু-- । আচ্ছা আপু, মাইনষের জন্য এত কিছু না কোরে--?"

আমরা রাউন্ডে ছিলাম।ম্যাডাম কেবিনে ঢুকেছেন, আমরা দুইজন পিছনে, নিচু গলায় কথা বলছি। জেবা কথা বলতে বলতে মাঝে মাঝে কয়েকটা শব্দ বাদ দিয়ে কথা বলে।সে আমাকে উৎসাহিত করছে কিভাবে আমি ওজন কমাতে পারি। সে প্রথম থেকেই আমাকে মোটিভেট করে যাচ্ছে। আমি দুইবার ওর কাছে থেকে ডায়েট লিস্ট নিয়েছি।একবারও পড়ে দেখিনি। আর অসংখ্য উপদেশ আর স্বাস্থ্য-বটিকা দিয়েছে।শুনি আর ভুলি আর কিছুই মানিনা।খেতে বসে আগে ভাত খাই এতগুলি তারপর ওর উপদেশবাণী মনে পড়ে। 
জেবা হাল ছাড়েনি।হয়ত রাগ করতে পারে। কিন্তু আজ আমি একদমই হাঁটতে পারছিনা,খুব কোমর ব্যথা করছে, তাই
ও আমাকে আজ আবার নতুন করে বলছে।

জীবনে প্রথম উপদেশবাণী দিয়েছিল আশেকের আম্মা।আন্টি একদিন স্কুলের মাঠে সকাল বেলায় বলা নাই কওয়া নাই আমাকে দাঁড় করালো। ফোর বা ফাইভে পড়ি। ফোরই সম্ভবত। বল্ল, সিঁথি, শুনো, তুমি হাঁটবা।
আমি অবাক।বলে কি? হাঁটবো মানে কি?

আমি সারাজীবনই ভদ্র মেয়ে। আন্টিকে ভেংচি কেটে দৌড় দেয়া উচিত ছিল।কিন্তু ভ্যাবলার মত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দশ মিনিট ব্যাপী বক্তৃতা শুনলাম যে, মোটা হওয়া খারাপ কিছু না, অনেকেই মোটা।তবে অনেক হাঁটতে হবে আমাকে।

ইমন ভাইয়ার উপর একবার অনেক রাগ করেছিলাম। কান্নাকাটি, চিল্লাচিল্লি। উনি যে আমার ভালো চেয়ে আমাকে এলার্ট  করতে চেয়েছেন, বুঝতেও চাইনি।এখন আমাকে কেউ কিছু বলেনা। মোটা থেকে মোটাতর হচ্ছি।অনেকে অবশ্য জানতে চায়,আমার বর আমাকে মোটা নিয়ে কিছু বলেনা?
আসলেই কেন এত মোটা হচ্ছি? অনেকে বলে যে সুখে আছি, তাই। অনেকে আমাকে বলেওছে, আমি নাকি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষ!

আমার একটা সমস্যা ছিল এবং আছেও যে, আমি জানিনা আমি মোটা। জানিই না? এহ! এইটা একটু বেশি হয়ে গেলনা?
নাহ মোটেও না। জানিই তো না। কখন জানলাম?!
উপদেশগুলি শুনে তাই অবাক হতাম যে, কেন মানুষজন এগুলো আমাকে বলছে?

মাদাগাস্কার ছবির মহিলা জলহস্তির মত। যে জানত না সে মোটা, নিজেকে খুব সুন্দরী আর আকর্ষণীয় ভাবত, আর তার এই এটিচিউডে তার আশেপাশের কারো কোন সমস্যা ছিলনা।

তবে ইদানিং আমি ধরতে পেরেছি, আসলেই অনেক মোটা হয়ে গিয়েছি।সেইন্টমার্টিনের ছবিতে নিজেকে মিষ্টিকুমড়ার মত লাগছে ছিছিছি

জেবার কথায় ফিরে আসি, সে উপদেশ দিল, যেন নিয়ম করে আমি নিজের জন্য সময় বের করি এবং সময়টা ইউটিলাইজ করি। পুরান কথা। লাভ ইয়োরসেলফ। এটা আমাকে বলেছিল সাবরীনা। হোস্টেলে। এখন আমার নতুন মোটিভেশন দরকার। আদনান সামীর ছবি প্রিন্ট করে ফেলব নাকি কয়েক গন্ডা?

মাথা কাজ করছেনা।ব্রেইনে গ্লুকোজ দরকার। এইজন্য শর্করা -আই মিন - ভাতের সাপ্লাই লাগবে। জেবার পাল্লায় পড়ে রাতে ভাত খাইনি।খিদার মোচড় শেষ হয়ে পেটে একটা মরা মরা ব্যথ করছে। ডিউটি রুমে খাবার কিছু খুঁজে না পেয়ে রাত সাড়ে এগারোটায় প্রায় পৌণে এক লিটার স্প্রাইট খেয়ে ফেলেছি। মন খারাপ হওয়া শুরু হয়েছে। মনে হচ্ছে এখন এক প্লেট গরম ভাত খেলেও এই মন খারাপ দূর হবেনা। আচ্ছা, এই ভাত নামের জিনিসটা আবিষ্কার করেছিল কে?

সবাই বলে, ভাত খাইস না।শসা খা। শসা দেখলে খাইতে তো ইচ্ছা করেই না, কানতে ইচ্ছা করে। আমি ভাত ছাড়া কিছু চিনিনা।
ভাত বাদে অন্য জিনিস খা। যত খুশি খা।
ঠিক আছে। কিন্তু পেট ভরেনা।
পেট বোধহয় ভরে। মন ভরেনা।

ওইযে একটা টার্ম আছে না 'কার্বোহলিক'। ভাতের বোধহয় একটা নেশা আছে, তাইনা? না হলে আমি ভাতকে ছাড়তে চাইলেও ভাত আমাকে ছাড়তে চাইছেনা কেন??

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন