বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৫

আশা নাকি হতাশা

আজ আমার জীবনে একটা দারুণ ঘটনা ঘটল। এসোসিয়েট প্রফেসর ডা. শিউলী বেগম ম্যাডাম আমাকে ফোন করে বলেছেন, শবনম, তুমি এত ভালো লেখো?!!

উনার কাছে আমার নাম্বার সেভ করা ছিলনা, আমি দশ মাস ধরে এনাম মেডিকেলে চাকরী করি, আমার ভাইয়ের বউ এর সিজার উনি করেছেন, কিন্তু আমি হয়ত সেভাবে উনার মনে দাগ কাটতে পারিনি, আমার নাম্বার উনার কাছে সেভ করা ছিলনা। ম্যাডামের দুইটা নাম্বার আমার কাছে আছে। আমি উনাকে খুব শ্রদ্ধা করি, অনেক পছন্দ করি। তাই ম্যাডাম যখন ফেসবুকে আমার লেখা দেখে, চেম্বারে বসে পড়েছেন, আমার নাম্বার নেই বলে আকলিমা কে ফোন করে নাম্বার নিয়ে আমাকে ফোন করে অভিবাদন জানিয়েছেন, আমি সত্যিকার অর্থেই কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম।

একটা লেখায় তিনি লাইক দিয়েছেন, শিরোনাম বেগুনি টি-শার্ট, আর যে লেখার জন্য উচ্ছ্বসিত হয়ে আমাকে ফোন করেছেন, সেটা হল আমার StudyinGynae ব্লগের লেখা 'অমরা -কথা- protein hormones from placenta' লেখাটা আজই পোস্ট করেছি। পাবলিক পোস্ট। ম্যাডাম আমার ফ্রেন্ড-লিস্টে না থেকেও তাই দেখতে পেয়েছেন।

আমি দশ বার অন্তত thankyou বলেছি ম্যাডামকে। ফোন রেখে দেখি গাল গরম হয়ে গ্যাছে। ইউ-টিউবে মাধুরীর গান ছেড়ে দিলাম, চোলি কি পিছে ক্যা হে, আমার খুব প্রিয়। আর প্রিয়-র চাইতে বড় কথা হল, কেন এই গানটার কথা মনে পরল নিজেও জানিনা, গত দশ বছরেও এই গানটা এক বারো শুনিনি।

আমি পুলকিত, আনন্দিত, ম্যাডামের কাছে ধরা পড়ে যাওয়াতে একটু ভয় ভয়ও লাগছে। সাথে সাথে আমার মা আর আমার সাহেবকে ফোন দিয়ে ফেললাম।

বাহ আজ দেখি বিরাট কান্ড করে ফেলেছি!

কিন্তু আমার চ্যাপ্টারটা পড়া তো শেষ হয়নি। স্টেরয়েড হরমোন টুকু নিয়ে বসা দরকার।
এখন বাচ্চাদের বিছানা বানাতে হবে। খাবার রেডি করতে হবে। কাল আমার চব্বিশ ঘণ্টা ডিউটি। তাড়তাড়ি ঘুমিয়ে পড়া দরকার।

তারপর আমার  উচ্ছ্বাস ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। ক্ষণস্থায়ী উড়া উড়ি শেষ হল। বুঝলাম, হবে না কিচ্ছুই হবে না আল্টিমেটলি আমাকে দিয়ে। হয়ত টুকটাক পড়ে আর লিখে এইভাবে মন্টাকে শুধু বাঁচিয়ে রাখতে পারব। টবে জন্মানো গাছের মত।

আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যে কোন কিছুই হোক, আমি ভালো থাকব। থাকবই আমি। কিছুতেই হতাশ হব না। তবে হ্যা, ব্র্যাকেটে লিখা আছে, আশাও হিসাব করেই করব আমি। আমি এই জীবনের নাম দিয়েছি ব্যালেন্সড লাইফ

২টি মন্তব্য:

  1. শবনম, তুমি আসলেই ভাল লেখ। আমি ডাক্তার হতে চেয়েছিলাম, হতে পারিনি, তুমি তাও পেরেছ। লেখাও চালিয়ে যাও।

    উত্তরমুছুন