রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৬

বেগুনী টি শার্ট



সিঁড়ি দিয়ে নামছি। ডিউটি শেষ। সাথে দুইটা ব্যাগ। কোন একটা বিচিত্র কারণে ডিউটিতে আসতে সময় দুইটা বোঁচকা বানিয়ে ফেলি, তারপর সেই সেই বোঁচকা টেনে টেনে হাসপাতালে যাই আবার বাসায় টেনে আনি। প্রায়ই মনে হয় ধুর! এভাবে প্রতিদিন বই খাতা কুটিকাটি হাবিজাবি টানাটানির কোন মানে হয়না। কিন্তু যেদিন বোঁচকা ফেলে আসি কেমন যেন খালি খালি লাগতে থাকে।
দুই ব্যাগ নিয়ে 'একটু দেখি, জায়গা দ্যান' বলতে বলতে নিচে নামছি। দুইতলা থেকে একতলা অংশটুকুতে একদল উচ্ছ্বসিত মানুষের জটলায় পড়লাম ।
ডিউটি শেয হলে আর একমুহূর্ত ও হাসপাতালে থাকতে ইচ্ছা হয়না। জটলার পিছনে পড়ে গিয়ে বিরক্ত হতে থাকলাম ।
ছয় সাতজন মানুষ হেলতে দুলতে হাসতে হাসতে আর উচ্চ:স্বরে কথ বলতে বলতে নামছিল।
হাসপাতাল এত উচ্ছ্বাসের জায়গা না। এখানে অসুস্থ, দুশ্চিন্তাগ্রস্থ, কষ্টক্লিষ্ট মানুষ আসে. হাসিখুশি কাওকে দেখাই যায়না। যারা সাধারণত হেলতে দুলতে হাসপাতালে আসে আর উচ্চ:স্বরে কথা বলে তারা খুব দাম্ভিক আর ক্ষমতাধর হয়। প্রফেসর থেকে কয়েকটা পাতি ডাক্তার ওরা নাকি পকেটেই রেখে দিতে পারে।
এই ধীর গতির হাসিখুশি মানুষের দলকে উৎসুক হয়ে দেখতে লাগলাম। সফেদ পাঞ্জাবি পরা একজন আছে বয়স্ক লোক, একজন কমলা হাফশার্ট- ফরসা ধরণের , আর বাকিরা টিশার্ট পরে আছে- অল্প বয়সের হবে। সবাই সবার সাথে একসাথে কথা বলছে। শুধু সফেদ পাঞ্জাবি-র জন ছাড়া। বয়স্ক জন। এই ছেলে-ছোকড়ার মাঝে কথা বলে ওজন হাল্কা করতে চাননা। কিন্তু ওদের কথা শুনছেন, সাথে সাথে যাচ্ছেন, হয়ত হাসছেনও মাথা নিচু করে, দেখতে পাইনি।
কমলা হাফ শার্ট মাথা ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করল, 'পরে বয়স কত দিছেন'?
আমার ঠিক সামনের লোকটা গলা একধাপ উঁচু করে বল্ল, কত দিছে আমি কি জানি? আমি তো দেইনাই। পরে কাগজে দেখি লেখছে, ষাইট.
সবাই মৃদু হেসে উঠল। আমার সামনের জন, ছোট ছোট চুল কাটা, হাতে কাগজের ব্যাগ, আগের কথার সুরেই বলতে লাগল, 'হাসস? এই?! আমার বয়স ষাইট?'
কমলা হাফ শার্ট গাম্ভীর্য ধরে রেখে বল্ল, 'কত আসলে? আরো বেশী? বাষট্টি' ?
সামনের জন তার ব্যাগ ধরা হাত উঁচু করে নকল রাগ ঝাড়তে ঝাড়তে বল্ল, 'যা বেটা।কি কস? তুই দিসস না- ষাইট' ?
দলের সবাই এবার মাথা দুলিয়ে হাসতে থাকল।
কাগজের ব্যাগ হাতের লোক টা কটকটা বেগুনি রঙের একটা টি-শার্ট পরে আছে. কত বছর বয়স পর্যন্ত এমন একটা কালো কলারের পকেট ছাড় কটকটা বেগুনী টি-শার্ট পরা যায়?
উনার যে বয়স হয়েছে,দেখি মানতেই চায়না, হাসপাতালে ও হয়ত আসতে চায়নি, এই বন্ধুস্থানীয় সুহৃদেরা ধরে এনেছে চেক-আপের জন্য। কাগজের ব্যগে কি? রিপোর্ট নিশ্চয়ই।
সিঁড়ি শেষ।
দুই বোঁচকা হাতে বড় গেটের দিকে যেতে যেতে ভাবছিলাম, আহারে! হাসিখুশি দলের সাথে মিশে থেকেই যদি বার্ধক্যের পাথর-ভার আর অসুখের নির্মম যাতনা থেকে নিরাপদ থাকা যেত !

টেকনিক



জুবিন হঠাত বলে উঠল, বুঝেছ মিথি, এই হোস্টেল লাইফে এসে যে জিনিসটা আমি শিখলাম, তা হল, তোমাকে প্রতি মুহূর্তে অনেক ‘টেকনিক্যাল হতে হবে।
আমরা ক্লাস শেষে হোস্টেলের ডাইনিং-এ এসেছি।ভাত খাব। দুপুর দেড়টা বাজে। আজ আমার হোস্টেল লাইফের দ্বিতীয় দিন।চোখ বড় বড় করে সব দেখছি।সারি সারি পাতা বিছানায় ছোট ছোট সংসার-ওলা কমনরুম। সবাই ধুন্দুমার পড়া লেখায় ব্যস্ত। আমি এসেছি মাইগ্রেশন করে ছাব্বিশ দিন পর। জুবিন আমার কলেজের বন্ধু।চারতলা কমনরুমে ওর পাশের চকিটা আমার জন্য সে বুক করে রেখেছিল।
ক্যাম্পাসে আমি পৌঁছেছিলাম বিকালে। বেয়াদপ রিক্সাওলা আমার রিক্সাটা ইচ্ছা করে বয়েজ হোস্টেলের গেটে থামিয়েছিল। আমার আব্বা সেইরকম খেপে গেল।খেপে গিয়ে তুই তোকারি শুরু করল। কি রে ব্যাটা তুই শুনিসনি, লেডিজ হোস্টেল বলেছি?কেন এখানে আসলি?
লোকটা কেন এমন করেছিল? বয়েজ হোস্টেলের মাঠে ছেলেরা ফুটবল খেলছিল।
আব্বা আমাকে লেডিজ হোস্টেলের গেটে নামিয়ে কিছুক্ষণ ছেড়া-ময়লা-পুরান সোফা-ওলা অন্ধকার- অন্ধকার গেস্টরুমে বসে ছিল। তারপর চলে গেল। আমি কোনোদিনো বাসার বাইরে থাকিনি।
পরদিন সবার সাথে বসে লেজ ধরে একটা পরীক্ষা দিলাম। আইটেম। ফিমার। আমি উল্টা করে ফিমার ধরে ছিলাম আর তোতলাতে তোতলাতে কি বলছিলাম নিজেও জানিনা।আবদুল্লাহ স্যার মুখে কিচ্ছুটি না বলে হাত বাড়িয়ে আমার কার্ড ফিরিয়ে দিয়েছেন। সেই কার্ড নিয়েই প্রেমে ছ্যাকা খাওয়ার মত চিকন চিনচিনে একটা অনুভূতি নিয়ে আমি ভালো মানুষের মত মুখ করে ঘুরে বেড়াচ্ছি। জুবিন হয়ত লক্ষ্য করেছে।
ক্যান্টিনে অদ্ভুত ঝলমলে একটা আলো। লম্বা একটা হলরুম। মাঝে মাঝে পিলার। সবার শেষে দেয়ালে চৌকো কাঁটা অংশ।একটা কপাট ছাড়া দরজা। টেবিলে ইয়া ইয়া বিশাল সাইজের গামলা বসানো কয়েকটা। ডালের। জুবিন খাবার নেবার আগেই আমাকে বলে দিয়েছে, গ্লাসে ডাল নিয়ে নাও। একটু পর আর তলানি থাকবেনা। তাই ই করেছি।
আমি আসলে কোথাও গিয়ে খুব তাড়াতাড়ি সেখানে মিশে যেতে পারিনা। শিখিনি তখনো। কমন রুমের সবার সাথে কথা বলেছি, কিন্তু কারো চেহারা মনে নেই। এখন আসতে সময় ডাইনিং-এ ঢোকার পথেই একজন হেসে মাথে নেড়েছে, একদম রুপালীর মত দেখতে, কিন্তু সে রুপালীই কিনা আমি বলতে পাঢ়বনা। অদ্ভুত একটা অনুভূতিতে ভাসছি। এই জায়গাটাকে আমার নতুন ঠিকানা ভেবে উঠতে পারিনি এখনো। মনে হচ্ছে বুঝি বেড়াতে এসেছি। এখানেই আগামী কয়েক ব-ছ-র থাকতে হবে, এই কথাটাও নিজেকে এখনও সেভাবে বলিনি আমি। কিন্তু কথাটা মনের কোণে অল্প করে  উঁকি দিচ্ছে, তাতেই দমবন্ধ-মত লাগছে।    
চুপ করে আমি মানুষ জনের হৈ হট্টোগোল শুনতে থাকলাম। মাথা নিচু করে টেবিলের দিকে তাকিয়ে। যারা আজ আইটেমে পাশ করেছে ওরা হেসে হেসে গল্প করছে। ঠিক করেছে, সবাই মিলে সেলিব্রেট করতে যাবে।াজ বিকালে সবাই তাজহাটের রাজবাড়ি দেখতে যাবে।
জুবিন সারাটা-খন আমার পাশে পাশে আছে ।বলছে, খেতে পারছ তো?
-হুম।
ওদের রান্নাটা একটু অন্যধরণের। অনেকে সহ্য করতে পারেনা প্রথম প্রথম।
-হুম।
খারাপ লাগছে তোমার?
-না না।
তাও ভাল, আজ ঢেড়শের ঝোল দিয়ে মাছ রাধেনি। ওইটা খাওয়া যায়না
-তাই?
আমি খাচ্ছি। ডাইনিঙের এত ঝলমলে আলোর উৎস খুঁজছি। দুইপাশে সারি সারি জানালা। ঘোলাটে কাঁচ ভেদ করে এত আলো ঢুকেছে?
খেয়েদেয়ে উপরে যাবো। গল্প চলবে বা ঘুম। কেউ কেউ ক্লাসের নোটপত্র বা লেকচার এখনই গুছিয়ে ফেলবে। গোসলের সিরিয়াল ধরতে হবে। কমনরুমের সাথে কোন বাথরুম নেই।চারতলার অন্য রুম গুলোর বাথরুমে সিরিয়াল দিতে হয়।অনেক ঝামেলা।
জুবিনের কথায় সচকিত হলাম।
‘বুঝেছ মিথি, এই হোস্টেল লাইফে এসে যে জিনিট টা আমি শিখলাম, তা হল, তোমাকে প্রতি মুহূর্তে অনেক টেকনিক্যা্ল হতে হবে’
মানে?
জুবিন আমাদের সামনে রাখা একটা হাতল ছাড়া টিনের জগের দিকে দেখিয়ে বল্ল, ধর, এই জগটা দেখো। হাতল নাই। পানি দিয়ে সম্পূর্ণ ভরা। এত ভারি হাতল বিহীন জগ  থেকে ভাবে পানি ঢেলে খাবো? সেইটাই হল টেকনিক।
জুবিন নানা কয়দা ক্যারিকেচার করে এক হাতেই সেই জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে ফেল্ল। ওর কান্ড থেকে হো হো করে হাসতে থাকলাম। জুবিনও হাসছে। মাঝে মাঝে মেয়েটা এমন সব অদ্ভুত কান্ড করে হাসাতে পারে!

জুবিন বল্ল, তাজহাটে যাচ্ছে সবাই।
হুম।তুমিও যাও।
তুমি যাবানা?
তোমরা যাও সেলিব্রেট কর। আমার যেতে ইচ্ছা করছেনা।
জুবিন প্রশ্নবোধক চিহ্ন মুখে নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। জানতে চাচ্ছে বোধহয় আমার মন খারাপ লাগবে কিনা? আমি তাড়াতাড়ি বলে উঠলাম, না, না, আমার খারাপ লাগবেনা। তোমরা অবশ্যই যাবা।
আমাদের মাঝ থেকেই একেকজন একেক ক্ষেত্রে দারুণ কিছু করে ফেলবে একদিন, হিংসা, দুঃখ হতাশার ঊর্ধ্বে উঠে বন্ধুর মত তাকে বাহবা জানাতে শেখার টেকনিকটাও আমি সেদিনই শিখে গিয়েছিলাম।  


উটকো ঝক্কি




‘একা একা থাকেন কিভাবে? খারাপ লাগে না?’ 
 
ঘাম মুছতে মুছতে বললেন পরাণ ঘোষ।
জয়নুল হোসেন শুনেছেন কথাটা।
বোতল থেকে পানি ঢাললেন সময় নিয়ে। চকচকে ক্রিস্টাল ক্লিয়ার কাঁচের গ্লাস। নিজেই ধুয়েছেন জয়নুল।বাসায় ফ্রিজ নেই, নষ্ট হয়ে দোকানে পড়ে আছেথাকলে পরাণকে ঠান্ডা পানি খাওয়াতে পারতেন, ভাবলেন। 

গ্লাসটা পরাণের হাতে দিতে দিতে বললেন, ‘নেন, খান। ঘেমে টেমে তো খারাপ  অবস্থা! ফ্যান বাড়িয়ে দিব?’

পরাণ পানি হাতে নিল। চুমুক দিল না। এই দিক ওইদিক মাথা ঘুরিয়ে দেখতে  থাকল।
এত বড় বাসায় একদম একা থাকেন?! 

জয়নুল এবারো কিছু বল্ল না। পরাণ কেন, শহরের সবাই জানে, তিনি একা থাকেন। তবু সবার একবার করে জিজ্ঞাসা করা চাই, কেন একা থাকেন? একা থাকতে কি খারাপ লাগে কিনা। বাচ্চারা কই? জয়নুলের স্ত্রী কই? কে রেঁধে দেয়? আসুখ বিসুখ হলে কি করেন? তারপর আবার প্রথম প্রশ্নে ফিরে যান- ভাই, একদম একা কেমনে থাকেন? খারাপ লাগেনা?   

জয়নুল ইদানিং এই প্রশ্নগুলোর আর জবাব দেন না। হাসেন না, মাথা ঝাঁকান না,  বিরক্ত ও হন না। ইচ্ছা করে প্রসঙ্গ পাল্টান না। আফসোস করেন না।
কিছুই বলেন না। 

আসলে খারাপ থাকতে ইদানিং আর খারাপ লাগেনা। ভালো লাগে কিনা বলতে পারবেন না বুঝিয়ে।

পরাণ পানিতে অবশেষে চুমুক দিল।
‘আরেক গ্লাস দিব?’

-না না
‘ঠান্ডা পানি হলে ভাল হত না? দেখি ফ্রিজ টা ঠিক করাবোযে গরম পড়েছে

পরাণ বল্ল-‘ভাই আপনি আজব মানুষ’

এইবার জয়নুল হো হো করে হেসে দিল। ‘ভালো বলেছেন, পরাণ দা’ 

‘আজব ই তো, এইভাবে কি জীবন চলে নাকি’ 

-‘চলবেনা কেন? খারাপ আছি নাকি? দাদা, এইসব বাদ দেন, আপনাকে ডেকেছি, বাজারের দোকানের ব্যাপারে কথা বলার জন্য’   
  
জয়নুল সাহেব আমুদে মানুষ, গপ্পি লোক যাকে বলে। উনার কাছে ক্রিকেট, বাজার, এস-এস-সি র ফল, চুরি-ডাকাতি-রোড এক্সিডেন্ট সব খবর আছে। উনি নানান ভঙ্গিমায় নানান ফ্লেভার দিয়ে গল্প করতে পারেন। সময়টা কেটে যায়। বাজারে পরাণের দোকান নিয়ে ঝামেলা চলছে উনি জানেন, ডেকেছেন এই ব্যাপারে নিজের কিছু বুদ্ধি দেয়ার জন্য। জয়নুলের দরকার নেই বোধহয় এই বিষয়ে নাক গলানোর, তবু।

পরাণ আটকে গেলেন। ঘন্টা দুই চলল চুলচেরা বিশ্লেষণ। এর মাঝে জয়নুল তাকে চা বানিয়ে খাইয়াছেন, ঘরে বিস্কিট আর কলা ছিল।  

পরাণ মাথা দুলিয়ে চিন্তা করতে করতে বিদায় নিলেন।

জয়নুল ধীরে ধীরে কাপ বাটি গুলো পরিস্কার করলেন। বিছানাটা টান টান করে রাখলেন। দুপুর একটা বাজে। গোসল করে খেতে যাবেন। বছিরের দোকানে মাস কাবারি চুক্তি আছে। আজ বুধবার। বছিরের ওখানে আজ তেলাপিয়া পাওয়া যাবে। সাথে পাতলা ডাল। বছির বলেছিল, বাসায় দিয়ে যাবে প্রতিদিনের খাবার, জয়নুল মানা করেছেন। দোকানে কোলাহলের মাঝে বসে খেতে উনার ভালই লাগে।

আজীবন এভাবে একাই কাটালেন বলা যায়। মফঃস্বলে পরিবার পরিজন রেখে ঢাকায় থেকেছেন মেসে। নিজের কাজ নিজে গুছিয়ে করেছেন, ঘর সংসারের ঝুট ঝামেলা তার স্ত্রী একা হাতে সামাল দিয়েছেন। দুই ছেলে স্কলারশীপ নিয়ে আমেরিকা আর জার্মানি  আছে। বড়জন বিয়ে করেছে, ওখানেই থাকবে ওরা। মা কে নিয়ে গেছে, দেশে একলা থাকবে কি করে মা? আর ওদেরও মায়ের হেল্প দরকার।  

রিটায়ারমেন্টের পর একবার বড় ছেলের ওখানে গিয়েছিলেন, ভালো লাগে নি।

বিকালে কিছুক্ষণ গড়াগড়ি করে উঠে পড়লেন জয়নুল।  
আজ স্টেশনে যাবেন। বাল্যবন্ধু জেনারেল প্র্যাক্টিশনার ডাঃ মিজানুর রহমানের চেম্বারে। পাশে চায়ের দোকানে সন্ধ্যা অবধি ওখানে আড্ডাটা জমে ভাল

হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরলেন। একটু হাঁটাহাঁটি করা তো ভালই এই বয়সে।
ঘুমিয়ে পরেছিলেন আজ একটু আগেই। সাড়ে দশটায় ফোন বেজে উঠল।

ফিরোজার ফোন।
খেয়েছ? ওষুধ? চোখ দেখানোর কথা ছিল? রান্নার একটা লোক রাখোনা কেন?

সংক্ষেপে উত্তর দেন জয়নুল। “তোমাদের কথা বল” 

“আমার কথা আর কি বলব? এই আছি আর কি”

তার পর বলেন, তার হাঁটু ব্যথা নিয়ে কি হুলস্থুল হচ্ছে ওখানে, হাঁটুতে কি কষ্ট। নাতনী কথা শিখছে। বাংলা ইংরেজী মিশিয়ে কি অদ্ভুত করে কথা বলে। ছেলে বলেছে  দিদা ডাকতে, কিন্তু ও ডাকছে ডীডা। মাছের দাম এত্ত বেশি! যদিও মুখে তোলা  যায়না। কয় দিন ধরে পাঙ্গাশ খেতে মন চাচ্ছে কেন জানি 

জ্যনুল হু হা করে শোনেন। তেমন কিছু বলেন না।  

তারপর সারা রাত কেন জানি আর তার ঘুম আসতে চায় না।
বয়স বাড়তে থাকলে রাত জেগে জেগে ঘুমের জন্য অপেক্ষা করা কি যে একটা উটকো ঝক্কি!