সিঁড়ি দিয়ে নামছি। ডিউটি
শেষ। সাথে দুইটা ব্যাগ। কোন একটা বিচিত্র কারণে ডিউটিতে আসতে সময় দুইটা
বোঁচকা বানিয়ে ফেলি, তারপর সেই সেই বোঁচকা টেনে টেনে হাসপাতালে যাই আবার
বাসায় টেনে আনি। প্রায়ই মনে হয় ধুর! এভাবে প্রতিদিন বই খাতা কুটিকাটি
হাবিজাবি টানাটানির কোন মানে হয়না। কিন্তু যেদিন বোঁচকা ফেলে আসি কেমন যেন খালি খালি লাগতে থাকে।
দুই ব্যাগ নিয়ে 'একটু দেখি, জায়গা দ্যান' বলতে বলতে নিচে নামছি। দুইতলা থেকে একতলা অংশটুকুতে একদল উচ্ছ্বসিত মানুষের জটলায় পড়লাম ।
দুই ব্যাগ নিয়ে 'একটু দেখি, জায়গা দ্যান' বলতে বলতে নিচে নামছি। দুইতলা থেকে একতলা অংশটুকুতে একদল উচ্ছ্বসিত মানুষের জটলায় পড়লাম ।
ডিউটি শেয হলে আর একমুহূর্ত ও হাসপাতালে
থাকতে ইচ্ছা হয়না। জটলার পিছনে পড়ে গিয়ে বিরক্ত হতে থাকলাম ।
ছয় সাতজন মানুষ হেলতে দুলতে হাসতে হাসতে
আর উচ্চ:স্বরে কথ বলতে বলতে নামছিল।
হাসপাতাল এত উচ্ছ্বাসের জায়গা না। এখানে
অসুস্থ, দুশ্চিন্তাগ্রস্থ,
কষ্টক্লিষ্ট মানুষ আসে. হাসিখুশি কাওকে
দেখাই যায়না। যারা সাধারণত হেলতে
দুলতে হাসপাতালে আসে আর উচ্চ:স্বরে কথা
বলে তারা খুব দাম্ভিক আর ক্ষমতাধর
হয়। প্রফেসর থেকে কয়েকটা পাতি ডাক্তার
ওরা নাকি পকেটেই রেখে দিতে পারে।
এই ধীর গতির হাসিখুশি মানুষের দলকে
উৎসুক হয়ে দেখতে লাগলাম। সফেদ পাঞ্জাবি
পরা একজন আছে বয়স্ক লোক, একজন
কমলা হাফশার্ট- ফরসা ধরণের , আর বাকিরা টিশার্ট পরে আছে-
অল্প বয়সের হবে। সবাই সবার সাথে একসাথে কথা বলছে। শুধু সফেদ পাঞ্জাবি-র জন ছাড়া। বয়স্ক জন। এই ছেলে-ছোকড়ার মাঝে কথা
বলে ওজন হাল্কা করতে চাননা। কিন্তু ওদের কথা শুনছেন, সাথে
সাথে যাচ্ছেন, হয়ত
হাসছেনও মাথা নিচু করে, দেখতে
পাইনি।
কমলা হাফ শার্ট মাথা ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করল, 'পরে
বয়স কত দিছেন'?
আমার ঠিক সামনের লোকটা গলা একধাপ উঁচু
করে বল্ল, কত দিছে আমি কি জানি?
আমি তো দেইনাই। পরে কাগজে দেখি লেখছে, ষাইট.
সবাই মৃদু হেসে উঠল। আমার সামনের জন, ছোট
ছোট চুল কাটা, হাতে কাগজের ব্যাগ,
আগের কথার সুরেই বলতে লাগল, 'হাসস? এই?! আমার
বয়স ষাইট?'
কমলা হাফ শার্ট গাম্ভীর্য ধরে রেখে বল্ল, 'কত
আসলে? আরো বেশী? বাষট্টি'
?
সামনের জন তার ব্যাগ ধরা হাত উঁচু করে
নকল রাগ ঝাড়তে ঝাড়তে বল্ল, 'যা বেটা।কি কস?
তুই দিসস না- ষাইট' ?
দলের সবাই এবার মাথা দুলিয়ে হাসতে থাকল।
কাগজের ব্যাগ হাতের লোক টা কটকটা বেগুনি
রঙের একটা টি-শার্ট পরে আছে. কত
বছর বয়স পর্যন্ত এমন একটা কালো কলারের পকেট ছাড় কটকটা বেগুনী টি-শার্ট পরা যায়?
উনার যে বয়স হয়েছে,দেখি মানতেই চায়না, হাসপাতালে
ও হয়ত আসতে চায়নি, এই বন্ধুস্থানীয় সুহৃদেরা ধরে এনেছে চেক-আপের জন্য। কাগজের
ব্যগে কি? রিপোর্ট নিশ্চয়ই।
সিঁড়ি শেষ।
দুই বোঁচকা হাতে বড় গেটের দিকে যেতে যেতে ভাবছিলাম, আহারে! হাসিখুশি দলের সাথে মিশে থেকেই যদি বার্ধক্যের পাথর-ভার আর অসুখের নির্মম যাতনা থেকে নিরাপদ থাকা যেত !
দুই বোঁচকা হাতে বড় গেটের দিকে যেতে যেতে ভাবছিলাম, আহারে! হাসিখুশি দলের সাথে মিশে থেকেই যদি বার্ধক্যের পাথর-ভার আর অসুখের নির্মম যাতনা থেকে নিরাপদ থাকা যেত !