শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০১৬

দারুচিনি দ্বীপে একদিন



মধ্যরাতের ঘন্টা বাজা শুরু হল, সিন্ডারেলা তার জুতা হারিয়ে ছুটতে ছুটতে মলিন আটপৌরে জীবনে ফিরে আসল। সোনায় মোড়া ঘোড়ার গাড়ি হয়ে গেল ট্যাপ খাওয়া মিষ্টিকুমড়া, রাজহাঁস আর ইঁদুরগুলোও রাজকীয় রূপ হারিয়ে আগের চেহারায় ফিরে গেল।সিন্ডারেলার বোনেরা রাজার বাড়ির মহাভোজ শেষে বাড়ি ফিরে এল। সিন্ডারেলা নিজের উচ্ছ্বাস লুকাতে পারছিলনা, তবু চোখ বড় বড় করে বোনদের কাছ থেকে খুঁটিয়ে শুনছিল রাজপুত্র আর এক অচেনা রহস্যময়ী অপরূপা রাজকন্যার কথা। তারপর ঘরের সব কাজ শেষ করে আলো জ্বেলে ওর প্রিয় খাতা খুলে বসল। আজ দিনের সব কথা তার লিখে ফেলা চাই। প্রতিটা বিন্দু বিসর্গ।যেন একটা মুহূর্তও হারিয়ে না যায়- স্মৃতির ধূষর ধুলো পড়ে মনের কোন বিষন্ন কোণায় ।

তাই বুঝি?সব কথা লিখে রাখা চাই? সিন্ডারেলা? না হলে ভুলে যায় মন?
যদি না লিখি? ভুলে যাবো সত্যিই?
  
ভেবেছিলাম হয়ত অনেক কিছু লিখতে পারব কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন-ছেঁড়াদ্বীপ ঘুরে এসে।কিন্তু সব কথা কি লিখা যায়? লিখতে পারছিনা। সারাদিন লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে ফিরেছি অনেক রাত্তিরে, ঘুমও আসছিলনা ক্লান্তিতে। চোখ বন্ধ করলে খালি দেখি  কোটি কোটি ঝিনুকের মালা।

এই বুঝি ভ্রমণ কাহিনী? লিখতে চাচ্ছি বিশাল সায়রের কথা, অচেনা গন্ধে ভরা কালচে সবুজ প্রবালের কথা, পায়ের নিচ থেকে বালি সরে সরে যাওয়ার কথা, তিব্র রোদ- ভ্যাপসা গরম, প্রশান্ত বিকাল, কুলকুল স্রোত, গাংচিল, সাঁকো, কি কারুকাজ ভেজা মাটিতে স্রোতের দাগের, কি গভীর রঙ পানির পরতে পরতে, সবুজ সাগরের ঢেউয়ে নেচে বেড়ানো বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা, পাহাড়, সবুজ, আঁকা বাঁকা রাস্তা, নিঃঝুম প্রবালের দ্বীপ-- কি বিরাট খোলা আকাশ মাথার উপরে—
বিকেলে, সাগর পাড়ে, কোত্থেকে একদল উস্কো- খুস্কো ছোট ছোট মেয়ে কড়ি নিয়ে আসল ঝুড়িভরে, আর মুঠোভরে হাতে গুঁজে দিয়ে বলে নাও তোমাকে দিলাম, এমনিই দিলাম, তারপর গাল ছুঁয়ে বলে কি- ও মা কি সুন্দর গো তুমি! আর কি হাসি ! 
আর কিছু লিখতে পারছিনা। ভুলে যদি যাই তো যাবো।

  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন