‘আচ্ছা কেন সিগারেট
খাও?’ একবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম আমার এক সহপাঠী কে।
ছেলেটা আমার বন্ধু
ছিলনা, ছিল শুধু সহপাঠীই, তাই হয়ত এত ব্যক্তিগত কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা আমার মোটেই
উচিৎ হয়নি; আর আমিও ঠিক ও কেন ধুমপান করে, তার বিশদ মলিন ইতিহাস জানতে চাইনি। আসলে
গিয়েছিলাম একটা অনুষ্ঠানের রিহার্সাল দেখতে, ছেলেরা আমাদের (মানে মেয়েদের) সামনে সিগারেট
ফুঁকছিল না বটে, কিন্তু ভেসে আসা দুর্গন্ধে বসতে পারছিলাম না। সামনে আমার এই
ধূমপায়ী সহপাঠী কে পেয়ে কিছু নীতিকথা
শুনাতে চেয়েছিলাম।
সে বিরস মুখে বল্ল যে-
আমরা মনুষ্য প্রজাতি কি সবসময় উচিত কাজ টা করি? অনুচিত কি কিছুই করিনা? তাহলে
ধূমপান কেন নয়?
আমাদের কথোপকথনটা
হচ্ছিল ইংরেজিতে, কারণ আমার সহপাঠী ছিল বিদেশী। ওদের উচ্চারণ আমি বুঝতে পারিনা,
তাই তার এই বক্তব্য বুঝতে আমার মিনিট দশেক গেল। সেও খুব বিরক্ত হল, আমিও। বুঝলাম
প্রতিটা মানুষের তার নিজের নিজের কাজের পিছনে একেকটা যুক্তি আছে। মানুষ প্রজাতি
খারাপ। আমি মানুষ।তাই আমিও খারাপ। কিন্তু
পয়েন্ট টু বি নোটেড, আমি নিউক্লিয়ার বোমা বানাচ্ছি না, আমার খারাপ কাজ টা ছোট
খারাপ কাজ। কি যুক্তি!
আমার নীতিকথাগুলোকে ও
ধোঁয়ায় মিশায়ে দিল।
সিগারেটের নাকি
স্ট্রেস কমানোর ক্ষমতা আছ? কিন্তু কোন সিগারেটের প্যাকেটে এইরকম কোন দাবী দেখিনাই।
বরং দেখি সেখানে লেখা- ধূমপান মৃত্যু ঘটায়। ধূমপান ক্যান্সারের কারণ। আমি বেশী
প্যাকেট দেখিনাই, তাই বলতে পারব না, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, মস্তিষ্ক, রক্তসংবহতন্ত্র,
পরিপাকতন্ত্র, প্রজননতন্ত্র, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সংক্রান্ত সহ বাকি সবকিছুর উপর
সিগারেটের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা প্যাকেটে প্যাকেটে লিখা আছে কিনা।
মৃত্যু এমনকি
ক্যান্সারের কথা লেখার পরও সিগারেটের এমন ব্যাবসা দুনিয়াজোড়া, স্ট্রেস কমানোর
ক্ষমতা যোগ হলে তো কোম্পানিগুলো সিগারেটকে ওষুধ বলে ঘোষণা দিবে!
‘মৃত্যু এমনকি
ক্যান্সার’ লিখেছি কারণ ক্যান্সার মানে জীবদ্দশাতেই মৃত্যু। আর আমি দেখেছি,
ধূমপায়ীরা মরতে ভয় পায়না। না না ধূমপান মানুষের সাহস বাড়ায় না, মানুষ জেনে শুনে
বুঝে নিজের ক্ষতি করে করে আস্তে আস্তে নিজের প্রতি এবং জীবনের প্রতি বিতশ্রদ্ধ হয়ে
যায়। তাই নির্লজ্জের মত নিজের আর আশে পাশের মানুষের ক্ষতি করে। (কে না জানে,
প্যাসিভ স্মোকিং বেশী ক্ষতিকর!)
সেদিন দেখি স্কুল থেকে
রিক্সায় ফিরছে এক মুটুসুটু ছেলে, তার ঠোঁটে জ্বলন্ত শলাকা। এইট বা নাইনে পড়ে
বোধহয়। এই বয়সেই বোধহয় শুরু হয় এই নেশা, তাই খুব অবাক হই নাই। অবাক হয়েছি ওর চোখের
দৃষ্টি দেখে। কি ঘৃণা –কি ক্ষোভ- কি তাচ্ছিল্যভরা- কি আত্মম্ভর ওই দৃষ্টি, ওইটুকু
বয়সের একটা মানুষের চোখে, দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। ছেলেটা হয়ত ভাবছে ওকে খুব স্মার্ট
লাগছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে ওকে দেখতে লাগছে রিক্সাওলার চেয়েও খারাপ। আন-স্মার্ট, নিরেট, নোংরা, পাশবিক আর ধূর্ত।
সিগারেট আসলে মানুষকে
তাই-ই বানিয়ে দেয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন